লালমনিরহাটে ১০ হাজার টন নিম্নমানের সার, ১৪ কোটি টাকা ক্ষতির আশঙ্কা

৫:৩৯ অপরাহ্ন | বুধবার, ফেব্রুয়ারী ৮, ২০১৭ দেশের খবর, রংপুর

das


মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

লালমনিরহাট বাফার সার গোডাউনে ১০ হাজার মেট্রিক টন নিম্নমানের চায়না ইউরিয়া সার ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে আছে। নিম্ন মানের এ নষ্ট সার কৃষকরা না নেওয়ার ফিরিয়ে দিচ্ছে বিসিআইসির ডিলাররা। ফলে নিম্নমানের সার আমদানি করায় ১৪ কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়েছে সরকার।

বাফার গোডাউনে ইনচার্জ হানিফ মিয়ার সাথে কিছু ডিলারের সিন্ডিকেটের কারণে এমন ক্ষতির মুখে পড়েছে সরকার। আমদানিকারকরা গোডাউন ইনচার্জ এর সাথে টাকার বিনিময়ে যোগসাজসে রাতের আঁধারে নিম্নমানের ইউরিয়া সার গোডাউনে ঢোকানোর কারণে সৃষ্টি হয়েছে এ সমস্যার।

সরেজমিন বিসিআইসি সরকারি সার গোডাউনে গিয়ে দেখা গেছে, নিম্ন মানের সারের চিত্র। গোডাউনের চার দিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে সরকারের ভর্তুকি দিয়ে আমদানি করা সারের বস্তা। চলছে গোডাউন ইনচার্জের সাথে কিছু বিসিআইসির ডিলারের সিন্ডিকেট ব্যবসা।
চলতি বোরো মৌসুমে কৃষকের বাম্পার ফলনের জন্য সরকার প্রতি বছর ভর্তুকি দিয়ে চায়না ও মিশর থেকে ইউরিয়া সার আমদানি করে। ভর্তুকি দিয়ে চায়না থেকে সার আমদানি করলেও সার গুলো ছিল নিম্ন মানের ইউরিয়া। ব্যবহারের অযোগ্য হওয়ায় এ সার পড়ে আছে গোডাউনে। নতুন করে সার আসলেই পড়ে সিন্ডিকেটের হাতে। কিছু কিছু বিসিআইসির ডিলার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গোডাউন ইনচার্জ হানিফের সাথে ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে নতুন করে আসা ইউরিয়া সার গুলো দ্রুত ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয়। ফলে পুরাতন সারগুলে পড়ে থাকার কারণে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে যায়। বাকি ডিলাররা পাচ্ছেন না ভালো সার। গোডাউনে নতুন সার সিন্ডিকেটের সদস্যরা আগে নেয়ায় পুরাতন সারগুলো ব্যবহারের আরো অযোগ্য হয়ে পড়ছে। ওই সার বিতরণ না করায় সরকার পড়ছে লোকসানের মুখে। কৃষকরা নিচ্ছে না সেই সার। কৃষকরা সার না নেয়ায় পচা-জমাটবাঁধা সার নিয়ে বিপাকে পড়েছে ডিলাররা। বাফার সার গোডাউনে পড়ে রয়েছে চায়না থেকে আমদানি করা হাজার হাজার বস্তা নষ্ট সারের স্তুপ।

বিসিআইসির সার ডিলার সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাহের ট্রেডার্সের আবু তাহের জানান, গোডাউন ইনচার্জকে ম্যানেজ করে সিডিকেটের মাধ্যমে নতুন সারগুলো বিতরণ করায় পুরাতন সার ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়ছে। এর কারণে চায়না থেকে আনা ইউরিয়া সার জমাটবাঁধা হয়ে গেছে।

বিসিআইসির সার ডিলার কাজী শাহাজাহান জানান, জমাটবাঁধা সার পরিবর্তন করে ভালো সার না দিলে সার সঙ্কটে পড়বে বোরো চাষাবাদে কৃষকরা। চায়না থেকে আমদানি করা ১০ হাজারের বেশি মেট্রিকটন ইঊরিয়া সার জমাটবেঁধে রয়েছে, এ সার ডিলার ও কৃষক নিচ্ছে না। দ্রুত এ সার পরিবর্তন করে নতুন ভালো সার সংগ্রহ করা প্রয়োজন।
জেলায় বোরো মৌসুমে ৬ হাজার ৩১মেট্রিকটন ইউরিয়া সারের চাহিদা থাকলেও রয়েছে ২৬হাজার মেট্রিকটন সার। তার মধ্যে ১০ হাজার মেট্রিকটন শক্ত ও জমাটবাঁধা। অভিযোগ পাওয়া গেছে, সরকারিভাবে বিসিআইসির মাধ্যমে ভর্তুকি দিয়ে বিদেশ থেকে ইউরিয়া সার আমদানি করে।

লালমনিরহাট বাফার গোডাউনে ইনচার্জ আব্দুল হানিফ ওই আমদানিকারকদের সাথে যোগসূত্র করে নিম্নমানের সার নেয়ায় গোডাউনে অনেক সার পচে গেছে আবার অনেক সার শক্ত জমাটবাঁধা হওয়ায় সার নিয়ে বিপাকে পড়েছে বাফার ৫১জন বিসিআইসির ডিলার।

লালমনিরহাট মহেন্দ্রনগর বাফার গোডাউন ইনচার্জ হানিফ মিয়া জানান, কয়েক হাজার মেট্রিকটন সার জমাটবেঁধে নষ্ট হয়। এ সার উপর মহলের নির্দেশে গোডাউনে নেয়া হয়েছে। সার নষ্ট বিষয়ে বাফার ঊর্ধ্বতন মহলে জানানো হয়েছে।
কৃষি সস্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক বিধু ভূষণ রায় জানান, এ ধরনের ঘটনা ঘটলে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।