সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ২৩শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

‘নির্বাচন যখন সামনে আসবে, তখনকার পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে’

৬:৩৮ অপরাহ্ন | বুধবার, ফেব্রুয়ারী ৮, ২০১৭ Breaking News, জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর – বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘এখনো ইসি প্রত্যাখ্যান ও নির্বাচন বয়কটের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সে নির্বাচন যখন সামনে আসবে, তখনকার পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

একান্ত সাক্ষাৎকারে বিএনপি-র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের রাজনৈতিক আনুগত্য নিয়ে যেমন সমস্যা আছে, তেমনি এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করার মতো যোগ্যতারও অভাব আছে।

তবে এই নিয়োগকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেও পরবর্তী নির্বাচন কমিশনের অধীনে তারা ভোটে লড়তে প্রস্তুত কি না, বিএনপি মহাসচিব সরাসরি তার কোনো উত্তর দেননি।

ফখরুল বলেন, নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা বিতর্কিত ও অনভিজ্ঞ ব্যক্তি। কারণ নুরুল হুদার নিয়োগ রহস্যজনক ও পূর্বপরিকল্পিত।

‘এখনো ইসি প্রত্যাখ্যান ও নির্বাচন বয়কটের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সে নির্বাচন যখন সামনে আসবে, তখনকার পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে,’ জানালেন ফখরুল।

mirja fokhrul

তবে কে এম নুরুল হুদার অতীত কর্মজীবন ও রাজনৈতিক যোগাযোগ সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে তারা এর মধ্যেই নিশ্চিত হয়েছেন যে আওয়ামী লীগের প্রতি তিনি বহুদিন ধরেই বিশ্বস্ত এবং তিনি কিছুতেই নিরপেক্ষ নন।

‘ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছাত্রলীগ করতেন, পরে কর্মজীবনেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার সংস্রব ছিল। সরকারি আমলা থাকাকালীন বিতর্কিত জনতার মঞ্চের সঙ্গেও তার যোগাযোগের প্রমাণ পেয়েছি আমরা’, বললেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেমন জটিল ও নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে মানুষের ধারণাও যেমন বিরূপ, তাতে এমন একজন বিতর্কিত ব্যক্তির নিয়োগ রহস্যজনক বলেই আমরা মনে করছি।’

পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশনে বিএনপি-র সুপারিশ করা নামের তালিকা থেকেও একজন ঠাঁই পেয়েছেন, তবে তাতে কমিশনের কাছে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা যাবে না বলেই বিএনপির ধারণা।

‘পাঁচ সদস্যের কমিশনে একজন কমিশনার আর কতটুকু কী করতে পারেন? তা ছাড়া আমাদের নির্বাচন কমিশনের কাঠামোটাই এমন, যাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকাটাই মুখ্য’, বললেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

কিন্তু এখন তারা কি এই নতুন নির্বাচন কমিশনকে কিছুটা সময় দিতে রাজি? তারা কীভাবে কাজকর্ম করে সেটা কি কিছুটা সময় তারা দেখে নিতে চান?

এই প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রশ্নটা আমাদের সময় দেয়া না-দেয়ার নয়। আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, গত দুই মেয়াদে সরকার যেভাবে চেয়েছে নির্বাচন কমিশন সেভাবেই নির্বাচন পরিচালনা করেছে এবং তা নিরপেক্ষ হয়নি।’

‘এখন এই নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কীভাবে পদক্ষেপ নেন সেটা দেখেই আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’

‘কমিশন তো গঠন হয়েই গেছে, প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করে দিয়েছেন। গেজেট হয়ে গেছে, তারা তো এসেই গেছেন – এখন দেখি তারা কীভাবে এগোন, তার ওপরেই নির্ভর করবে আমরা পরবর্তীতে কী করব’, বললেন ফখরুল।

সূত্র: বিবিসি বাংলা