একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে ইসলামপুরে ৩৬০ শিক্ষার্থীর পাঠদান


আবদুল লতিফ লায়ন, জামালপুর প্রতিনিধি- দুটি ভবনের পাঁচটি শ্রেণিকক্ষ। এরমধ্যে তিনটি শ্রেণিকক্ষে চলছে পাঠদান। কিন্তু শিক্ষক মাত্র একজন। একটি কক্ষে কিছুক্ষণ, আবার অন্য দুটিতে কিছুক্ষণ, এভাবেই পাঠদান করাতে হয় তাকে।

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার যমুনা নদীর দুর্গম চরের কাঠমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে এই চিত্র দেখা যায়।

unnamedবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদা সিদ্দিকা বলেন, সকাল বেলায় সকল শ্রেণিকক্ষের তালা খোলা থেকে শুরু করে দাপ্তরিক ও পাঠদান সবই আমার একার হাতে চলছে। ৩৬০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ন্ত্রণ করা এখন আমার পক্ষে দুষ্কর হয়ে পড়েছে।

তিন শ্রেণির পাঠদান শুরু হয় একই সময়ে। একটি শ্রেণিতে কিছুক্ষণ, আবার অন্য দুটিতে কিছুক্ষণ করে পাঠদান করতে হচ্ছে। কিন্তু একটি কক্ষ ছেড়ে চলে আসার মাত্রই শিক্ষার্থীরা হৈ-চৈ শুরু করে দেয়। আবার সেখানে যেতে হয়। এভাবে দৌড়া-দৌড়ির মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়টি চালাতে হচ্ছে। এভাবে একটি বিদ্যালয়ে পাঠদান চালানো যায় না। এতে চরমভাবে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এভাবে দিনদিন শিক্ষার মানও খারাপ হচ্ছে।

বিদ্যালয় সূত্র জানায়, ১৯৭৩ সালে বিদ্যালয়টি কাঠমা গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে ৩৬০ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান। বিদ্যালয়ে শিক্ষকের পদ চারটি। এর মধ্যে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রধান শিক্ষক কেরামত আলী, ২০১৬ সালের জুন মাসে সহকারী শিক্ষক মো. তোজাম্মেল হক ও ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান অবসরে যান। ফলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী শিক্ষক মাহমুদা সিদ্দিকা। তাকে দিয়ে চলছে বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম। বিদ্যালয়টিতে কাঠমা গ্রাম ছাড়াও মাইজবাড়ি, টগা ও কাজলা গ্রামের অনেক শিক্ষার্থী পড়ালেখা করে।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম বললো, একজন মাত্র শিক্ষক তাদের পাঠদান করান। দিনে পুরোপুরি একটিও ক্লাসও হয় না। একজন শিক্ষক এক শ্রেণিতে ক্লাস শুরু করলে অন্য ক্লাসে হৈ-চৈ শুরু হয়ে যায়। এরপর তিনি অন্য ক্লাসে চলে যান। এভাবেই পাঠদান চলছে। এ ছাড়া ওই শিক্ষক দাপ্তরিক কাজের জন্য ইসলামপুর শহরে যান। সেই দিন স্কুল বন্ধ থাকে।

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়শা আক্তার বললো, দীর্ঘ দিন ধরে শিক্ষক সঙ্কটের কারণে প্রতিদিন তাদের ঠিকমতো ক্লাস হয় না। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তো বেশি সময় দাপ্তরিক কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। তিনি আবার মাঝে মধ্যে ক্লাসও নেন। এক ক্লাসের শিক্ষার্থীদের যেকোনো একটি পড়া দিয়ে অন্য ক্লাসে যান। ক্লাসে শিক্ষক না থাকলে পড়ায় কোনো দিনও মনোযোগ বসে না। এ ছাড়াও প্রতিদিন এক জন্য শিক্ষক বাংলা, ইংরেজি ও গণিতসহ সব ক্লাস নেন। এতে তাদের পড়ালেখা খারাপ হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ চান মিয়া বলেন, যমুনা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষের ছেলে-মেয়েরা এ বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে। শিক্ষক সঙ্কট সকল সীমা ছাড়িয়েছে। বর্তমানে একজন মাত্র শিক্ষক বিদ্যালয়ে। এতো শিক্ষার্থীকে তিনি এখন নিয়ন্ত্রণই করতে পারছেন না। চরমভাবে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে একাধিকবার বলা হয়েছে। কিন্তু তারা শিক্ষক দেয়-দিচ্ছির মধ্যেই রয়েছেন।

ইসলামপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, এ উপজেলায় আমি অল্প সময় ধরে এসেছি। ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষক সঙ্কটের বিষয়টি শুনেই একজন শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। কয়েক দিনের মধ্যেই একজন শিক্ষক সেখানে যোগদান করবেন। বাকি শিক্ষকও দ্রুত সময়ের মধ্যে দেওয়া হবে।

◷ ৮:২৩ অপরাহ্ন ৷ বুধবার, ফেব্রুয়ারী ৮, ২০১৭ দেশের খবর, ময়মনসিংহ