স্বামীকে জেলে রেখেই অবশেষে তিন সন্তানকে নিয়ে মালোয়েশিয়া থেকে ফিরতে হচ্ছে নাজমাকে


প্রবাসের কথা,সময়ের কণ্ঠস্বর-

অবৈধভাবে অবস্থানের দায়ে কয়েক মাস জেল খাটার পর গত নভেম্বরে মালয়েশিয়া থেকে ফেরত আসে ১শ’ ১৯ জন শ্রমিক। তারা জানিয়েছিলো , দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে ভিসার মেয়াদ বাড়াতে না পারায় মালয়েশিয়ায় জেল খাটছে আরো অনেক বাংলাদেশি শ্রমিক। বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তা না পাওয়ারও অভিযোগ ছিলো তাদের।

এই ধারাবাহিকতায় এবার স্বামীকে জেলে রেখেই তিন সন্তানকে নিয়ে মালোয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরতে হয়েছে সাভারের নাজমা বেগমকে । মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে অবস্থানের দায়ে এখনো অসংখ্য বাংলাদেশি জেল খাটছেন বলে জানা গেছে।

নাজমা বেগম জানান, যে কোম্পানির মাধ্যমে নাজমা এবং স্বামী সেলিম হোসেনের ভিসা ছিল সে কোম্পানিতে আর ভিসা লাগাতে পারেননি। এমন অবস্থায় টিঙও সন্তানকে নিয়ে নাজমা এবং সেলিম হোসেন পড়েন বিপাকে।

প্রায় দেড় মাস আগে দেশটির ইমিগ্রেশন পুলিশ কাজাং থেকে তাদের গ্রেফতার করে। অবৈধভাবে বসবাস করার দায়ে আদালত (স্বামী) সেলিম হোসেনকে সাজা দিয়ে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। তবে নাজমা ও তার তিন সন্তানকে দেশে পাঠিয়ে দিতে আদালত নির্দেশ দেন।

এরপর তাদের রাখা হয় সিমুনিয়া ক্যাম্পে। প্রায় দেড় মাস কেটে গেলেও আত্মীয়-স্বজন না থাকায় দেশে পাঠানো যাচ্ছে না তাদের।

এরই মধ্যে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমশাখার দ্বিতীয় সচিব ফরিদ আহমদ সিমুনিয়া ক্যাম্প পরিদর্শনে গিয়ে ছোট্ট শিশুদের দেখে কথা বলেন তাদের মায়ের সঙ্গে। তখন নাজমা বিস্তারিত ঘটনা খুলে বলেন। পরে তাদের দেশে পাঠাতে ট্রাভেল পাস ইস্যু করা হয়।

ক্যাম্পে বাংলাদেশিদের দায়িত্বে নিয়োজিত ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা জানিয়েছেন ৬ ফেব্রুয়ারি ইস্যুকৃত ট্রাভেল পাস দূতাবাস থেকে নেয়া হয়েছে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাদের দেশে পাঠানো হবে ।

এর আগে গত নভেম্বরে মালয়েশিয়ার স্থানীয় গণমাধ্যম সেখানকার উপকূলীয় এলাকায় নতুন করে ৭শ’রও বেশি অবৈধ বাংলাদেশিকে আটকের খবর জানায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন করে শ্রমিক পাঠানোর আগে অবৈধ শ্রমিকদের বৈধ করার প্রক্রিয়া শুরু না হলে পরিস্থিতি আরো জটিল হবে।

◷ ৮:৫২ পূর্বাহ্ন ৷ বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ৯, ২০১৭ আলোচিত বাংলাদেশ, প্রবাসের কথা, স্পট লাইট