‘নাসরিনের সাথে সানির সমঝোতা হতে পারে অন্যভাবে কারণ সানির স্ত্রী-সন্তান রয়েছে’

১১:২০ পূর্বাহ্ন | বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ৯, ২০১৭ Breaking News, আলোচিত বাংলাদেশ, খেলা, স্পট লাইট

স্পোর্টস আপডেট ডেস্ক, সময়ের কণ্ঠস্বর – বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার আরাফাত সানির স্ত্রী দাবিদার তরুণী নাসরিন সুলতানার সঙ্গে আপোস করতে চায় সানির পরিবার। পরিবার সূত্রের খবর অনুযায়ী এরই মধ্যে উভয় পরিবারে কয়েকদফা আলোচনা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত আপোসের বিষয়ে তারা কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।

নাসরিন সুলতানার দাবি, সানির পরিবারের পক্ষ থেকে তার পরিবারকে আপোসের জন্য বলা হয়েছে। সানির পরিবার তাকে যথাযথ মর্যাদা দিতেও সম্মত হয়েছে। এজন্য তাকে আগে মামলা প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে। তিনি তাদের জানিয়েছেন, তিনি আইনজীবীর উপস্থিতিতে আদালতের মাধ্যমে বিষয়টি সমঝোতা করতে চান। এজন্য শর্ত হিসেবে তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টিও জুড়ে দিয়েছেন বলে জানান নাসরিন।

অন্যদিকে, সানির মামা আবু সাইদ গনমাধ্যমকে জানান, নাসরিনের সঙ্গে সমঝোতার কথা চলছে। তবে এটা নাসরিনকে স্ত্রী হিসেবে মেনে নিয়ে নয়। কারণ সানির স্ত্রী-সন্তান রয়েছে। সানি বিয়ে করেছে ২০১০ সালে। সমঝোতা হতে পারে অন্যভাবে।

এদিকে সানির স্ত্রী দাবিদার তরুণী নাসরিন সুলতানার করা মামলায় আদালতে সানি নির্দোষ প্রমাণিত হবেন বলে পরিবারের বিশ্বাস। জানা যায়, আরাফাত সানির বাবার নাম আব্দুর রহিম (মৃত)। পেশায় তিনি ব্যবসায়ী ছিলেন। তিন ভাই, দুই বোনের মধ্যে সানি দ্বিতীয়। মিরপুর মফিদ-ই-এম স্কুল এ্যান্ড কলেজ থেকে ২০০৩ সালে তার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু ক্রিকেটে ব্যস্ততার কারণে তার আর পড়াশোনা হয়নি। ব্যক্তিজীবনে সানি বিবাহিত। স্ত্রী আফসানার বাড়ি আমিনবাজারের পাশের বড়দেশী গ্রামে। ২০১০ সালের ২০ জানুয়ারি তাদের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়।

সানির আইনজীবী জুয়েল আহম্মেদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘সানির সঙ্গে আমার জেলখানায় কথা হয়েছে। তিনি নাসরিনকে স্ত্রী হিসেবে মেনে নেবেন না। তাছাড়া, নাসরিনের কাবিননামা ভুয়া। আমরা এ বিয়েটি স্বীকার করি না।

sani nasrin

এদিকে, তথ্যপ্রযুক্তি আইনে করা মামলায় ক্রিকেটার আরাফাত সানি সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করেছেন। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি এ মামলার জামিন শুনানি হবে। সাইবার ট্রাইব্যুনালের পিপি নজরুল ইসলাম শামিম আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি সানির জামিন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, দেশের একজন নামকরা ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তথ্য প্রমাণ ছাড়া মামলা নেয়নি। আইন সবার জন্য সমান। সার্বিক পরিস্থিতি ও ডকুমেন্ট বলছে সানি সাইবার ক্রাইম অপরাধ করেছেন। এ ক্ষেত্রে সানির জামিন পাওয়ার সম্ভাবনা কম।

এর আগে গত ২৪ জানুয়ারি নাসরিনের করা তথ্য-প্রযুক্তি আইনে করা মামলায় আরাফাত সানিকে এক দিনের রিমান্ডশেষে কারাগারে পাঠান আদালত।

এছাড়াও সানির বিরুদ্ধে আরো ২টি মামলা করেন নাসরিন। একটি যৌতুক আইনের ৪ ধারায়। আরেকটি নারী নির্যাতন আইনে।

যৌতুকের জন্য মারধরের অভিযোগে ক্রিকেটার আরাফাত সানি ও তার মা নার্গিস আক্তারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি এজাহার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে মোহাম্মদপুর থানা। এ মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২ মার্চ দিন ধার্য করেছেন ঢাকা মহানগর হাকিম কামরুল হাসান।

এছাড়া গত ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ৪নং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে যৌতুকের জন্য মারধরের অভিযোগে ক্রিকেটার সানি ও তার মা নার্গিস আক্তারের বিরুদ্ধে তৃতীয় মামলা করেন নাসরিন সুলতানা। আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে নেওয়ার জন্য মোহাম্মদপুর থানাকে নির্দেশ দেন।

গত ৫ জানুয়ারি নাসরিন সুলতানা নামের এক তরুণী সানির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আলোচনায় আসেন। তাঁর দাবি, সানির সঙ্গে তাঁর বৈবাহিক সম্পর্ক আছে।

আরাফাত সানি ফেসবুকে এই তরুণীর নামে একটি ফেক আইডি খুলেছিলেন। সেই আইডিতে ওই তরুণীর নগ্ন ছবি পোস্ট ও ব্ল্যাকমেইল করে আসছিলেন তিনি। এ ঘটনায় তরুণী বাদী হয়ে তথ্য প্রযুক্তি আইনে গত ৫ জানুয়ারি মামলা দায়ের করেন। পরে গত ২২ জানুয়ারি রাজধানীর আমিনবাজার এলাকা থেকে তথ্য-প্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় আরাফাত সানিকে গ্রেফতার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। এ মামলায় বর্তমানে সানি কারাগারে আটক রয়েছেন।