এক টুকরো চকোলেট দিয়ে উচ্ছ্বল করে তোলা যায় ভালবাসার মানুষটিকে, রহস্য কি?

৩:৪০ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ৯, ২০১৭ লাইফস্টাইল, স্পট লাইট

সম্পাদনা, রবিউল ইসলাম (রবি), নিউজ রুম এডিটর, লাইফস্টাইল ফিচার ডেস্ক–

রোজ ডে, প্রপোজ ডে’র পর এবার আসলো চকোলেট ডে। আজ ৯ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব চকোলেট দিবস। এ দিনটি ভ্যালেন্টাইন’স সপ্তাহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন।

চকোলেট যেমন অভিমান ভাঙতে পারে, তেমনই পারে দেওয়া-নেওয়ার সম্পর্কও আরও মধুর করতে। তার উপর আজ আবার চকোলেট ডে। প্রোপজ হবে আর মিষ্টি মুখ হবে না, তাই কখনও হয়? শুধু উপহার হিসেবে নয়, চকোলেটের গুণে সম্পর্ক হয়ে ওঠে মধুর।

skভালোবাসার সঙ্গে চকলেটের যোগাযোগ প্রায় চকলেট আবিষ্কারের সময় থেকেই। ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায়, প্রায় ৩ হাজার ১০০ বছর আগে মধ্যআমেরিকায় চকলেট আবিষ্কার হয়। তবে সেই চকলেট আজকের চকলেটের মধ্যে আকাশ পাতাল ফারাক।

প্রেমের ঋতু বসন্তে গোলাপের মতো চকলেটও প্রেমের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। সাধারণত কোকো বীজ থেকে চকলেট তৈরি হয়। আমেরিকার প্রাচীন মেসো-আমেরিকান উপজাতিরা প্রথম কোকোর চাষ শুরু করেন। কোকো বীজকে ভালো করে রোস্ট করে তার সঙ্গে মেশানো হতো পানি, ভ্যানিলা, মধু এবং সামান্য লঙ্কা গুঁড়ো। এটাই ছিল প্রথম চকলেটের রেসিপি।

ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, যীশুর জন্মের প্রায় ১৯০০ বছর আগে কোকোর বীজ এতো মূল্যবান ছিল যে, সেটিকে আর্থিক মুদ্রা হিসেবেও ব্যবহার করা হতো। তবে চকলেটে চিনির ব্যবহার শুরুর হয় ইউরোপে। ১৬০০ শতাব্দীতে চকলেটে ইউরোপিয়ানরা চিনির ব্যবহার শুরু করেন। সেই থেকে চকলেট জনপ্রিয়তার শিখরে ওঠে, যা আজও অব্যাহত।

‘চকোলেট’ শব্দটার মধ্যে যেন আব্দার লুকিয়ে রয়েছে। আদুরে আব্দার। আমায় একটা চকোলেট দেবে তো! চকোলেটের নাম শুনলে কি মেয়েদের জিভে জল চলে আসে? সেটা কি পুরুষের থেকে বেশি? এ সব নিয়ে কোনও গবেষণা হয়েছে কি না কে জানে!

তবে একটা কথা মানতেই হবে, মেয়েরা যেন ‘চকোলেট’-এর ব্যাপারে অনেকটা শিশু। এমনিতেই মেয়েদের বয়স ধীরে ধীরে বাড়ার অভিযোগ রয়েছে, তার উপরে যদি চকোলেটের প্রসঙ্গ আসে তবে তো কথাই নেই। সবার গলাতেই আদুরে বিজ্ঞাপনী ছেলেমানুষি সুর— ‘আমি তো এমনি এমনি খাই।’

চকোলেটের মতো ভালবাসা পাওয়ার আশাতেই কি ছেলেরা মেয়েদের চোখে ‘চকোলেট বয়’ হয়ে উঠতে চায়? কে জানে! সেই সূত্র ধরেই ভ্যালেনটাইনস পরবে ‘চকোলেট ডে’ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করে ফেলেছে কি না, তা-ও জানা নেই। তবে একটা কথা ঠিক। এক টুকরো চকোলেট মানে অনেকখানি উষ্ণতা।

সেটা যতই কম দামী হোক না কেন, এক টুকরো চকোলেট পেলে একটা শিশু যেমন কলকল করে ওঠে, তেমন করেই এক টুকরো চকোলেট দিয়ে উচ্ছ্বল করে তোলা যায় প্রেয়সীকে। চকোলেটের নেশায় বুঁদ হয়ে যাওয়া মেয়েরা সেটা বুঝতেই পারে না। বোঝে ছেলেরা। এক গোছা গোলাপের পাশে তাই আদুরে টেডির মতো, আহ্লাদী চকোলেটও জায়গা পেয়ে যায় প্রেম নিবদেনে।

শুধুই প্রেম পরবে কেন, জন্মদিন থেকে অন্য যে কোনও আনন্দোৎসব— সবেতেই উপহারের ডালিতে অপ্রতিদ্বন্দী চকোলেট। ইতিহাস বলছে, ভ্যালেন্টাইনস সপ্তাহের তৃতীয় দিনটি ইউরোপ আমেরিকায় উদযাপিত হয় এক বাক্স চকোলেট দিয়ে। সেই প্রাচীনকাল থেকেই নাকি চকোলেট-উপহারের মাধ্যমে পছন্দের মানুষটির কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে মনের বার্তা।

গবেষকরা বলেন, চকোলেটে এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা উদ্দীপকের কাজ করে। আবার দুশ্চিন্তা, ক্লান্তি থেকেও মুক্তি দেয় চকোলেট। নিশ্চিন্ত প্রেমের জন্য এমন কাজের জিনিস প্রেমিকদের কাছে মূল্যবান তো হবেই।

তথ্য সূত্র- অনলাইন