শায়েস্তাগঞ্জে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা স্বত্ত্বেও দোকান উচ্ছেদ, ব্যবসায়ী প্রতি নেওয়া হচ্ছে ২৫ হাজার টাকা

৭:১৫ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ৯, ২০১৭ খুলনা, দেশের খবর

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি- বাংলাদেশ রেলওয়ে শায়েস্তাগঞ্জ ষ্টেশনের আওতাধীন রেলগুদামের দক্ষিণে দাউদনগর বাজার চরনুর আহম্মদ মৌজার, জেএল নং ১৫৭, দাগ নং ৮৮৮ দাগের জায়গাটি ইতিমধ্যে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকা স্বত্ত্বেও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করে খালি করা হয়।

সূত্রে জানা যায়, শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনের চরনুর আহম্মদ মৌজার বাজার সংলগ্ন এই জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরে কিছু ব্যবসায়ী টিন দিয়ে দোকানঘর বানিয়ে ব্যবসা করে আসছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বহুবার এই জায়গাটি উচ্ছেদ করতে চাইলে তা সম্ভব হয়নি।

news_photo_sk_-2-9-17-3২০০৯ সালে শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভা তৎকালীন মেয়র ফরিম আহমেদ অলি পৌরসভার পক্ষ থেকে শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ের অব্যহত ভূমি যাহাতে কারো নামে লিজ বা নবায়ন না করতে পারে সে জন্য মহামান্য সুপ্রীম কোটে হাইকোর্ট বিভাগে ৫৪১৩/২০০৯ মূলে রিট পিটিশন দায়ের করেন। রিট পিটিশন হওয়ার আগে যে দোকানপাট নির্মান হয়েছিল তা ০৯ বছর ধরে ঐ জায়গায় ব্যবসায়ীরা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।

উল্লেখিত রোল নিশি জারিকৃত জায়গাটি অবৈধ দখল যাতে না হয় এই মর্মে গত ১২/০৭/২০১০ ইং মেয়র ফরিদ আহমদ অলি হাইকোর্টে মামলাটি পুনরায় দায়ের করেন। হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক মাননীয় বিচারপতি মামুনুর রহমান ও বিচারপতি সৈয়দ আফছার জাহান উল্লেখিত ভূমিতে স্থিতি অবস্থা বজায় রাখার (টেটাসকো) আদেশ দান করেন। ২০১০ সালে পৌরসভার মেয়র ঐ জায়গাটিতে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা ঝুলিয়ে রাখেন। হাইকোর্টে এই সংক্রান্ত মামলা থাকার কারনে রেলওয়ে কতৃপক্ষ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে পারেনি।

news_photo_sk_-2-9-17-2নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানায়, পৌরসভার পক্ষ থেকে তাদেরকে ঐ জায়গায় মার্কেট নির্মাণ করার আশ্বাস দেওয়া হয়। এবং জায়গাটি খালি করে দেওয়ার জন্য বর্তমান পৌরসভার মেয়র তাদের রেলওয়ে কলোনিতে মিটিং করেন। মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার পরে প্রায় ৪২ জন্য ব্যবসায়ী দোকান ঘর পাওয়ার জন্য ২৫০০০ টাকা পৌরসভার রিসিটের মাধ্যমে জমা দেন।

রেলসূত্রে জানা যায়, রেলের জায়গা বর্তমানে লিজ পক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। এমনকি খাজনা ও নেওয়া হচ্ছে না। হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকা স্বত্ত্বেও রেলকর্তৃপক্ষের নিকট থেকে লিজ না নিয়ে কিভাবে এই জায়গাটি উচ্ছেদ ও পৌরসভার রিসিটের মাধ্যমে টাকা নিচ্ছে তা জনগণের প্রশ্ন।

রেলওয়ে ষ্টেট ডিপার্টমেন্টে কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করলে তারা বলেন কিছুই জানেন না। এদিকে প্রায় ৪২ জন ব্যবসায়ী রিসিটের মাধ্যমে টাকা দিয়েছেন দোকানঘরের জন্য কিন্তু তাদের কাছে একটা প্রশ্ন যদি রেলকর্তৃপক্ষ জমি না দেয় তাহলে কিভাবে নির্মাণ হবে মার্কেট। এটাই এখন ভাবার বিষয়।