সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ১৫ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

নিজেদের যে ভুলে,সন্তান চলে যায় বিপথে!

৮:০৩ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ৯, ২০১৭ লাইফস্টাইল

সন্তান বিপথে

আফসানা নিশি, লাইফস্টাইল কন্ট্রিবিউটর, সময়ের কণ্ঠস্বর।

সন্তানের মঙ্গলকামনায় পিতামাতা করতে পারে না এমন কাজ মনে হয় নেই। সন্তানকে ভাল রাখতে,তার শখ পূরণ করতে তারা হয়তো নিজেকে নিঃশ্ব করে দিতেও রাজি রাখে। প্রিয় সন্তানের সামান্য জ্বর হলেও পিতামাথা না ঘুমিয়ে রাত পার করে দেয়। কিন্তু এতো কষ্ট যে সন্তানের জন্য তাকে কি সত্যি আদর্শ ভাবে বড় করতে পারছেন? আপনারই সামান্য কিছু ভুলে তারা চলে যায় বিপথে।

১।বেশি ভালবাসা: কথায় আছে ‘আদরে বাদর তৈরি’। সন্তানকে বেশি ভালবাসা দিয়ে বড় করলে সে এতোটাই আবেগী মন নিয়ে বড় হয় যে,তাকে ভুল পথে চালনা করা যে কারো পক্ষে খুব সহজ হয়। তাছাড়াও,এই অতি ভালবাসায় বড় করা সন্তান যখন কোন ভুল করে আপনি সামান্য একটু শাসন করতে যান তখন সেটা তার জন্য গ্রহণ করা কষ্টকর হয়ে যায়।

সে তো এসব শাসন কখনো দেখেনি তাই তার মনে হবে পিতামাতা এখন তাকে ভালবাসে না। তার কেউ নেই,সে খারাপ বা বাবা-মা খারাপ ইত্যাদি।আর ঠিক সেই সময়ে এই সামান্য শাসন সইতে না পেরে রাগে অভিমানে সে বিপথে পা বাড়ায়।

২।অতিরিক্ত শাসন: অতিরিক্ত শাসনে মানুষ বে-আড়া হয়ে যায় কথাটা সবাই জানলেও এই ভুলটা সবাই করে। যখন আপনি প্রথম প্রথম আপনার সন্তানকে শাসন করবেন তখন সে আপনাকে ভয় পাবে ঠিকই কিন্তু এমন একটা সময় হবে যখন আপনার ওই চোখ রাঙ্গানি বা চড়থাপ্পড় আপনার সন্তানকে একটুও চমকাবে না।

বরং এগুলো তার কাছে আর কিছুই মনে হবেনা। সে একটা করে ছোট ছোট অপরাধ করবে আর ভাববে এটার জন্য হয়তো ১ টা চড় দেবে বাবা বা মা খেতে দেবে না। এমন করে এগুতে এগুতে একদিন সে অনেক বড় অপরাধের সাথে যুক্ত হবে।

তাই সন্তানকে প্রয়োজন মতো ভালোবাসা দিন। প্রয়োজন মতো শাসন করুন। কোনটা যেনো মাত্রাতিরিক্ত না হয়। কোন কিছুই বেশি বেশি ভাল না।

৩।নিজেদের মধ্যে অশান্তি: বাবা-মার মাঝে সম্পর্কে ভালো না থাকলে বা পারিবারিক অশান্তি থাকলে সে-গুলো সন্তানের সংস্পর্শে আসতে দিবেন না। এগুলো তাদের মনের উপর প্রভাব বিস্তার করে ও তাকে মানসিক ভাবে কষ্ট দেয়। চোখের সামনে পিতামাতার ঝগড়া,মারামারি,অশান্তি কোন দিনও একটি সন্তানকে ভাল ভাবে সুস্থ ভাবে বড় হতে দেয় না। সন্তানের কথা ভেবে হলেও নিজেদেরকে সুখি দাম্পত্যতা বজায় রাখুন। আদর্শ পরিবার আদর্শ সন্তান তৈরি করে।

৪।বিনোদনের অভাব: সন্তানকে শুধু পড়ালেখার মাঝে সীমাবদ্ধ করে রাখবেন না। তাকে টিভি দেখতে দিন, পার্কে নিয়ে, ঘুরতে নিয়ে যান। বাচ্চা যদি গান, নাচ, আঁকা পছন্দ করে তবে তাকে শিক্ষক রেখে শিখান। মাঝে মাঝে সিনেমা হলে কার্টুন ও ডিজনি মুভি দেখতে নিয়ে যান। এগুলো বাচ্চাদের সাথে পিতামাতার সম্পর্ক সুন্দর করে।

তারা বাবা মাকে বন্ধু ভাবতে শুরু করে। একবার সন্তানের বন্ধু হতে পারলে তাকে নিজের মতো করে চালনা করা যায়। বাচ্চার সুস্থ মানসিকতার জন্য বিনোদন অনেক জরুরি। সমাজ গবেষকেরা বলেন, ‘শিশু অপরাধীদের অধিকাংশ বিনোদন থেকে দূরে থাকা বাচ্চা’।