🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ মঙ্গলবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৮ মে, ২০২১ ৷

'পরিচয় মিলেছে সেই 'রহস্যময়ী তরুনীর', তবে এখনও 'রহস্যেই' থেকে যাচ্ছে অনেক ঘটনা !


❏ শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ১০, ২০১৭ Breaking News, আলোচিত, স্পট লাইট

শ্যামনগর, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি, সময়ের কণ্ঠস্বর-

অবশেষে সেই 'রহস্যময়ী' তরুনীর পরিচয় পাওয়া গেছে।  তবে আপাতত পরিচয় মিললেও 'রহস্যেই' থেকে যাচ্ছে বেশ কিছু ঘটনা।

গতকাল শ্যামনগর বাসস্ট্যান্ড থেকে কান্নারত অবস্থায় উদ্ধারের পর থানা হেফাজতে থাকা সেই তরুনীর নাম তামান্না। সে মোহম্মদপুর লাল মাটিয়া কলেজের ১ম বর্ষের ছাত্রী । সেখানেই হোস্টেলে থাকতেন আর তার  পিতা নজরুল ইসলাম গাজীপুর জয়দেবপুর থানার এ এস আই হিসাবে কর্মরত আছেন বলে জানা গেছে।

গতকাল রহস্যময়ী এই তরুনীকে নিয়ে ফেসবুকে বিভিন্নজনের দেয়া স্ট্যাটাসের সুত্রেই মেয়ের খোঁজ পেয়েছেন বলে জানান মেয়েটির বাবা। বর্তমানে মেয়েটি শ্যামনগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। সাথে মেয়েটির বাবাও  এখন উপস্থিত রয়েছেন সেখানে । তবে গাজীপুর থেকে শ্যামনগরে মেয়েকে নিতে ছুটে গেলেও বাবাকে চিনতে পারেননি 'রহস্যময়ী' এই তরুনী!

এদিকে ঐ তরুনী একাদশ শ্রেনীর ছাত্রী হবার পরেও কোন লিখা পড়তে অথবা লিখতে পারছেননা এমনকি বর্তমানে অল্প কিছু কথা বলতে পারলেও জানাচ্ছেননা কিছুই। এসব ঘটনা নতুন করে আরও রহস্যের জন্মই দিচ্ছে।

তরুনীর বাবা নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, মোহাম্মদপুর লালমাটিয়া হোস্টেল থেকে 'অভিমান করে' কাউকে কিছু না বলেই  বেরিয়ে পড়েছিলেন তার মেয়ে। কিন্তু  ঠিক কী অভিমান করে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে না কী অন্যকোন রহস্য আছে তার কোন সদুত্তর দেননি মেয়েটির বাবা।

কর্তব্যরত চিকিৎসক বলছেন, মেয়েটি ভীত থাকায় অস্বাভাবিক আচরন করছেন। কিন্তু কী কারনে মেয়েটি ভীত ? সে প্রশ্নের উত্তরও দেননি মেয়েটির বাবা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, এখন অল্প অল্প কথা বলতে পারছে  মেয়েটি ।

শ্যামনগর হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার আনিছুজ্জামান  বলেন ’মেয়েটি মানসিক ভাবে ভীত থাকায় সে স্বাভাবিক হতে পারছেনা। তবে সবার সাথে মিশতে মিশতে ঠিক হয়ে যাবে’।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সায়েদ মোঃ মনজুর আলম বলেন, মেয়েটি তার বাবাকে চিনতে পারিনি, তবে ছোট ভাইকে চিনতে পেরেছে। বর্তমানে তামান্নার মা'কে আনা হচ্ছে, সাথে উপযুক্ত কাগজপত্র প্রমানাদি আনলে তার পর তার পরিবারের কাছে মেয়েটিকে হস্তান্তর করা হবে।

এর আগে গতকাল রাত ৮টায় সাতক্ষীরা থেকে শ্যামনগরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী বাসে ছিল মেয়েটি। পাশের সিটে ছিলেন শ্যামনগরের ইসমাইলপুর এলাকার রব্বানী ব্যাপারির স্ত্রী সাবেক মহিলা ইউপি সদস্য সুফিয়া বেগম।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শ্যামনগর গাড়ি পৌঁছানোর পর মেয়েটি কান্নাকাটি করতে থাকে। নাম-পরিচয় কিছুই বলতে পারছে না সে। পরবর্তীতে সাবেক মহিলা ইউপি সদস্য সুফিয়া বেগম মেয়েটিকে তার বাড়িতে নিয়ে যান।  পরে মেয়েটিকে নেয়া হয় শ্যামনগর থানায়।

পরে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে সমাজ সেবা কর্মকর্তার সহযোগিতায় শ্যামনগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাখা হয় মেয়েটিকে।

mistry-girl

আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় এ সম্পর্কে জানতে চাইলে শ্যামনগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, মেয়েটির বাবা পুলিশের একজন এ এস আই । তিনি মেয়েকে নিতে  এসেছেন। তবে মেয়েটি তার বাবাকে চিনতে না পারায় বর্তমানে আমরা মেয়েটির মায়ের জন্য অপেক্ষা করছি। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করে  মেয়েটিকে তারা বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেয়া হবে।

পারিবারিক কোন চাপ না কি অন্য কোন ঘটনা থাকতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানালেন, মেয়েটি হয়তো মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত।

আগের সংবাদ

বাড়ছে রহস্য! নিজের সম্পর্কে কিছুই বলতে পারছেনা উদ্ধার হওয়া তরুনী