সাবধান! স্মার্ট কার্ডের যেসব অপব্যবহারের কারনে আপনাকে পড়তে হতে পারে কঠোর শাস্তির মুখে

১২:৫৭ অপরাহ্ণ | শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৭ জানা-অজানা, তথ্য জাদুঘর, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, স্পট লাইট

তথ্য-প্রযুক্তি ফিচার ডেস্ক-

গত কয়েকদিন থেকে ফেসবুকে একটি পোস্ট বারবার শেয়ার হচ্ছে। পোস্টটিতে দেখা যায় এক ব্যক্তি একটি স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্রের চিপটি কেটে মোবাইল ফোনের সিম কার্ড হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছেন! তার ধারণামতে কার্ডটি স্মার্ট হওয়ায় হয়তো সেটি মোবাইল ফোনে সীমের কাজ করতে পারে!

যেই ভাবা সেই কাজ! ঐ ব্যক্তি তার স্মার্টকার্ডটি এভাবেই সিমের আকারে কিছু অংশ কেটে তার মোবাইল ফোনে ভরে চেস্টাও নাকি চালিয়েছিলেন বারকয়েক!

smart-card-nid

ফেসবুকের ভাইরাল হয়ে পড়া সেই পোস্ট থেকে জানা যায় সেই ব্যক্তিটি না কি শেষ অবধি স্থানীয় নির্বাচন অফিসে গিয়ে অভিযোগ করেছিলেন যে, তার স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্রের চিপটি সিম কার্ড হিসেবে কাজ করছে না!’

সাবধান!

নির্বাচন কমিশন সুত্র বলছে, ইচ্ছাকৃতভাবে স্মাট জাতীয় পরিচয়পত্র নষ্ট করলে অথবা এর অপব্যবহার করলে কিন্তু জেল-জরিমানার বিধান রয়েছে। স্মাট জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে এ ধরনের যে কোন’ভুলবশত’ করা কোন ঘটনাও একটি বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে আপনার। এক্ষেত্রে একজনের অপরাধ প্রমাণ হলে তার অনুর্ধ দুইবছরের জেল বা ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের অপরাধ ও শাস্তি বিষয়ক বিধানগুলোতে এ বিষয়ে পরিস্কার নির্দেশনা রয়েছে।

কমিশনের নির্দেশনা মতে, কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র বিকৃত বা নষ্ট করে তাহলে তাকে দুই বছরের জেল বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডেই দণ্ডিত করা করা হবে।

আর একটা ব্যপার হয়তো অনেকেই জানেননা, তাই সবার জেনে রাখা ভালো। স্মার্ট কার্ডের এই পরিচয়পত্র হারালে কিন্তু তা টাকা ছাড়া মিলবে না। প্রথমবার বিনামূল্যে দেয়া হলেও প্রথমবার হারিয়ে গেলে ২০০ টাকা, দ্বিতীয়বারের জন্য ৩০০ টাকা এবং পরবর্তী যে কোন বারের জন্য ৫০০ টাকা নির্বাচন কমিশন সচিবের অনুকূলে জমা দিতে হবে। আর জরুরি ভিত্তিতে পরিচয়পত্র পেতে হলে এক হাজার টাকা পর্যন্ত গুনতে হবে নাগরিকদের।

ইসির জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগ থেকে বলা হয়, জাতীয় পরিচয়পত্রের জালিয়াতি রোধে নাগরিকদের দেয়া হবে যন্ত্রে পাঠযোগ্য জাতীয় পরিচয়পত্র তথা স্মার্ট কার্ড। দেশে তৈরি দীর্ঘমেয়াদি প্রতিটি কার্ডের প্রাথমিক ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২০০ টাকা। টেকসই ও সুন্দর অবয়বে এ কার্ড বহুমুখী ব্যবহারযোগ্য হওয়ায় তা সাধারণভাবে স্মার্ট কার্ড হিসেবেই বিবেচিত হবে।

বর্তমানে এক পৃষ্ঠায় নাম, পিতা ও মাতার নাম, জন্ম তারিখ ও আইডি নম্বর এবং অপর পৃষ্ঠায় ঠিকানা-সংবলিত লেমিনেটিং করা কার্ড পাচ্ছেন ভোটাররা। স্মার্ট কার্ডে নাগরিকের সব তথ্য থাকবে। তবে ভোটারযোগ্যদের পরে পর্যায়ক্রমে সবাইকে স্মার্ট কার্ড প্রদান করা হবে।

‘জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন (সংশোধন) বিল, ২০১৩’ আইনে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা তথ্য-উপাত্ত তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সংরক্ষণ ও গোপনীয়তা রক্ষার বিধান রাখা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা নির্বাচন কমিশনের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বিনা অনুমতিতে ভোটার তালিকা বা জাতীয় পরিচয়পত্র-সংক্রান্ত তথ্য বা উপাত্তের বিষয়ে গোপনীয়তা লঙ্ঘন করলে শাস্তি সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা।

জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক সুলতানুজ্জামান মো. সালেহ উদ্দীন এ বিষয়ে জানান, প্রথমবার ফ্রি স্মার্ট কার্ড দেয়া হবে। নবায়ন, হারানো বা নষ্ট হলে নির্ধারিত ফি জমা দিতে। মূলত উন্নতমানের এই কার্ডের সুরক্ষার জন্য এই বিধান করা হয়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কেউ যদি এধরনের পোস্টে লাইক দেন অথবা পোস্টটি শেয়ার করেন তাহলে কোন একজন ব্যবহারকারী হয়তো এমন কাজ করতে উৎসাহিত হয়ে এমন শাস্তিযোগ্য অপরাধ করে ফেলতে পারেন।

সর্বশেষ আদমশুমারি অনুযায়ী ১৫ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার বাংলাদেশে ছবিসহ ভোটার তালিকায় নাম উঠেছে ৯ কোটি ২২ লাখের মতো মানুষের।আগামী ২৬ মার্চ দেশের ভোটারদের হাতে তুলে দেয়ার কথা রয়েছে নতুন স্মার্টকার্ড (জাতীয় পরিচয়পত্র)।এই স্মার্ট কার্ড নিয়ে সবার মধ্যেই আছে নানা কৌতুহল, দেখতে কেমন হবে,কী কী কাজে লাগবে এমন সব প্রশ্নের উত্তর

 

২৫টি খাতে এই স্মার্ট কার্ড পরিচয়পত্র ব্যবহার করা হবে। এখানে তিন স্তরে ২৫টির মতো নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। প্রথম স্তরের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য খালি চোখে দেখা যাবে, দ্বিতীয় স্তরের বৈশিষ্ট্যগুলো দেখার জন্য প্রয়োজন হবে বহনযোগ্য যন্ত্রাংশ এবং শেষ স্তরের জন্য কোনো ল্যাবরেটরিতে ফরেনসিক টেস্ট করার প্রয়োজন হবে। এটিকে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করার জন্য আটটি আন্তর্জাতিক সনদপত্র ও মানপত্র নিশ্চিত করা হবে।

দেশের সব নাগরিকের হাতে স্মার্টকার্ড তুলে দিতেই নির্বাচন কমিশন ব্যাপক প্রস্তুতি চালাচ্ছেন। ইসি সূত্র জানিয়েছে, স্মার্টকার্ড হবে মেশিন রিডেবল, যা কার্ড জালিয়াতির হাত থেকে বাড়তি নিরাপত্তা প্রদান করবে।পরপর দুবার হারালেই কার্ড সংগ্রহে ভোটারকে জরিমানা দিতে হবে দুই থেকে চার হাজার টাকা।

বর্তমানে ভোটারদের কাছে বিদ্যমান লেমিনেটেড ন্যাশনাল আইডি কার্ড ফেরত নিয়ে প্রথমবারের মত বিনামূল্যেই স্মার্টকার্ড দেয়া হবে।এরপর পুনরায় মেশিনে পাঠযোগ্য এই কার্ড পেতে চাইলে একটি নির্দিষ্ট ফি দিতে হবে। জানা গেছে, বিভিন্ন পাবলিক সার্ভিস নিতে এই আইডি কার্ড প্রদর্শন আবশ্যক করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

এরই মধ্যে ভোটারদের উন্নত মানের স্মার্ট কার্ড দেওয়ার আগে বিদ্যমান জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে ।গত রোববার ইসি সচিবালয়ের মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুজ্জামান মো. সালেহ উদ্দিন।

বর্তমানে যে জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে তা বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাল করার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।উন্নতমানের এই কার্ড ব্যবহার করে ২০ ধরনের নাগরিক সেবা পাওয়া যাবে।এ ছাড়া ভবিষতে ই-পাসপোর্ট এবং ইমিগ্রেশন সেবাসহ বহুবিধ কাজে এই কার্ড ব্যবহার করা যাবে।

নির্বাচন কমিশনের ডিজি সুলতানুজ্জামান মো: সালেহ বলেন, এই কার্ড এতই বহুবিধ কাজে ব্যবহার করা যাবে যে, তা এখন ধারণাই করা যাচ্ছে না। কেননা এটি পৃথিবীর যেকোনো দেশের স্মার্টকার্ডের চেয়ে বেশি মেমোরি বা তথ্য ধারণক্ষমতাসম্পন্ন কার্ড। বর্তমানে জাতীয় আইডি কার্ডে কোনো ভুল থাকলে অনলাইনেই সেই ভুল সংশোধনের সুযোগ থাকবে।

কার্ড সংশোধনে ভোগান্তির বিষয়ে মহাপরিচালক বলেন, ভালোভাবে দেখে আবেদনপত্র পূরণ করেই একজন নাগরিক জাতীয় পরিচয়পত্র পেয়ে থাকেন। তার দেয়া তথ্য সংশোধন করতে হলে সুনির্দিষ্ট কারণ অবশ্যই দেখাতে হবে। ভুল সংশোধনের ইনটেনশন দেখেই আমরা আবেদন আমলে নিই।

ইতিমধ্যে প্রথমবারের মতো নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে ভোটার হওয়ার আবেদন করার সুযোগ দিচ্ছে ইসি।বিষয়টি জাতীয় পরিচয়পত্র বিধিমালায় রাখা হচ্ছে। এমনকি যারা ভোটার তালিকাভুক্ত নন তারাও জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। এদিকে নির্বাচন কমিশনের স্মার্টকার্ড প্রকল্পের মাধ্যমে ভোটারদের নতুন যে আধুনিক আইডি কার্ড দেওয়া হবে, সে ক্ষেত্রে ইসি কিছু নতুন বিধিবিধান করতে যাচ্ছে। জানা গেছে, প্রায় দুইশ’ টাকা মূল্যের স্মার্টকার্ড প্রথমে সব নাগরিককেই বিনামূল্যে বিতরণের পরিকল্পনা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কার্ডের মেয়াদ অন্তত ১০ বছর হবে। এরপর কার্ড নবায়নের জন্য ফি নির্ধারণ করা হচ্ছে (সাধারণ) ২৫০ টাকা। আর জরুরি ভিত্তিতে প্রদানের জন্য ফি থাকছে ৫০০ টাকা। অন্যদিকে হারানো বা নষ্ট কার্ড উত্তোলনে প্রথমবারের ফি থাকছে (সাধারণ) ৫০০ টাকা। আর জরুরি ভিত্তিতে প্রদানের জন্য ফি এক হাজার টাকা। দ্বিতীয়বার হারালে ফি ধরা হয়েছে (সাধারণ) এক হাজার টাকা। আর জরুরি ভিত্তিতে প্রদানের জন্য দুই হাজার টাকা। এ ছাড়া দ্বিতীয়বারের পর কার্ড হারালে বা নষ্ট হলে ভোটারকে জরিমানা বা ফি দিতে হবে (সাধারণ) দুই হাজার টাকা। আর জরুরি ভিত্তিতে প্রদানের জন্য চার হাজার টাকা। এসব ফি ইসি সচিব বরাবর পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে দেওয়া যাবে। ইসি সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় পরিচয়পত্রের জালিয়াতি রোধে নাগরিকদের দেওয়া হবে যন্ত্রে পাঠযোগ্য জাতীয় পরিচয়পত্র তথা স্মার্টকার্ড। দেশে তৈরি দীর্ঘমেয়াদি এ কার্ডের প্রাথমিক ব্যয় হচ্ছে প্রায় দুইশ’ টাকা। এ ক্ষেত্রে ভোটারদের কাছে বিনামূল্যে আধুনিক প্রযুক্তির তথ্যসমৃদ্ধ জাতীয় পরিচয়পত্র দেবে ইসি।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, টেকসই ও সুন্দর অবয়বে এ কার্ড বহুমুখী ব্যবহারযোগ্য হওয়ায় তা সাধারণভাবে স্মার্টকার্ড হিসেবেই বিবেচিত হবে। বর্তমানে এক পৃষ্ঠায় নাম, পিতা ও মাতার নাম, জন্মতারিখ ও আইডি নম্বর এবং অপর পৃষ্ঠায় ঠিকানা-সংবলিত লেমিনেটিং করা কার্ড পাচ্ছেন ভোটাররা। ইসি কর্মকর্তারা জানান, কার্ডের মেয়াদ অন্তত ১০ বছর হবে। প্রথমবার বিনামূল্যে বিতরণের পর হারানো বা সংশোধিত কার্ডের জন্য নির্ধারিত ফি থাকবে। বর্তমানে ৯ কোটি ২০ লাখের বেশি নাগরিক ভোটার তালিকাভুক্ত রয়েছেন। সর্বশেষ হালনাগাদ কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত লাখ দশেক ভোটার এখনো জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে পারেননি। এর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালে এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন সেনাবাহিনীর সহায়তায় ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণের কাজ শুরু করে। দেশের সব নাগরিককে জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার বিধান রেখে গত বছর ৬ অক্টোবর ‘জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন (সংশোধন) বিল, ২০১৩’ সংসদে পাস হয়।

এর ফলে ১৮ বছরের কম বয়সীরাও জাতীয় পরিচয়পত্র পাবেন। এদিকে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা তথ্য-উপাত্ত তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সংরক্ষণ ও গোপনীয়তা রক্ষার বিধান রাখা হয়েছে বিলে। কোনো ব্যক্তি বা নির্বাচন কমিশনের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বিনা অনুমতিতে ভোটার তালিকা বা জাতীয় পরিচয়পত্র-সংক্রান্ত তথ্য বা উপাত্তের বিষয়ে গোপনীয়তা লঙ্ঘন করলে শাস্তি থাকছে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা।

স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে যেসব সেবা-সুবিধা পাওয়া যাবে:

সরকারি সব অনলাইন সুবিধা,ড্রাইভিং লাইসেন্স,পাসপোর্ট, সম্পত্তি কেনাবেচা, টিআইএন প্রাপ্তি, বিয়ে রেজিস্ট্রেশন,ই-পাসপোর্ট, ব্যাংক হিসাব খোলা, ব্যাংক ঋণগ্রহণ , সরকারি ভাতা উত্তোলন, সহায়তা প্রাপ্তি,বিআইএন, শেয়ার-বিও একাউন্ট, ট্রেড লাইসেন্স, যানবাহন রেজিস্ট্রেশন, বীমা স্কিম, ই-গভর্নেন্স, গ্যাস-বিদ্যুত্ সংযোগ, মোবাইল সংযোগ, হেলথ কার্ড, ই ক্যাশ, ব্যাংক লেনদেন ও শিক্ষার্থীদের ভর্তির কাজ ছাড়াও আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় কাজ।

 

Skip to toolbar