‘উধাও’ হয়ে যাওয়া বরিশালের এক কিশোর ফেসবুক প্রেমিক অবশেষে উদ্ধার হলো বিবাহিতা প্রেমিকার ঘরে!

❏ শনিবার, ফেব্রুয়ারী ১৮, ২০১৭ Uncategorized

বরিশাল ব্যুরো, সময়ের কণ্ঠস্বর-

বরিশাল জিলা স্কুলের অষ্টম শ্রেণির প্রভাতী শাখার মেধাবী ছাত্র সাকলাইন সাজিদ রোববার (২৯ জানুয়ারী ২০১৭) থেকে নিখোঁজ ছিলো । এ ঘটনায় কাউনিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন  নিখোঁজ স্কুলছাত্র সাজিদের বাবা নগরীর আমানতগঞ্জ মদীনা সড়ক এলাকার বাসীন্দা এইচএম জিয়াউর রহমান।
সাজিদের বাবা জিয়াউর রহমান জানান- সাকলাইন নগরীর বগুরারোড অপসোনিন সংলগ্ন সালাহউদ্দীন নামে এক শিক্ষককের কোচিং এ পড়তো। সেখানে বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত পড়ানো হয়।
রোবববার বিকেল ৫টায় কোচিং করার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পরও বাসায় না ফিরে আসাতে আমরা চিন্তিত হয়ে পড়ি। কোচিং সেন্টারে খবর নিলে সেখান থেকে জানানো হয় সাজিদ বাসার উদ্দেশ্যে বের হয়েছে। এর পর আত্মীয় স্বজন সবার বাসায় খোঁজ নেয়া হয়েছে। রাতে অনেক খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে কাউনিয়া থানায় সাধারন ডায়েরি করা হয়।
সন্তানকে হারিয়ে এখন পাগলপ্রায় সাজিদের বাবা-মা।  কেও সন্ধ্যান পেলে অনুরোধের ফোন নাম্বারও দেয়া হয়।
সাজিদের উচ্চতা জানানো হয় আনুমানিক ৫ফুট ০৬ ইঞ্চি, গায়েরা রং ফর্সা, মুখমন্ডল গোলাকার। সাজিদ সবসময় চোখে চশমা ব্যবহার করে। মেরুন ও খয়েরী রঙয়ের জ্যাকেট এবং গ্যাভাডিং প্যান্ট পরিহিত ছিলো বলেও জানানো হয় ।

সাজিদের নিখোঁজ সংবাদ প্রকাশিত হয় ফেসবুকের বেশ কিছু পেজেও। মেধাবী এমন একজন ছাত্রের ‘উধাও’ রহস্য নিয়ে শুধু তার পরিবারই নয় চিন্তিত হয়ে পড়ে স্থানীয় প্রশাসন সহ প্রায় সকলেই।

কিন্তু টানা ১৮ দিনের অক্লান্ত পরিশ্রম শেষে  সেই ‘উধাও রহস্যের’ সমাধান যখন মিললো তখন এমন কিছুর জন্য হয়তো প্রত্যাশা করেননি কেওই।

অবশেষে ফেইসবুকে প্রেমের টানে প্রেমিকার বাসায় ১৮ দিন অবস্থানের পর ৮ম শ্রেনীর ছাত্র সাজিদকে উদ্ধার করেছে বরিশালের গোয়েন্দা পুলিশ। শুক্রবার নারায়নগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় বিবাহিত ওই প্রেমিকা স্বামীর বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এ কিশোরকে।

আজ শনিবার বরিশাল মেট্রো পলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যলয়ে সংবাদ সম্মেলনের পর পরিবারের কাছে তাদের উভয়কে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বরিশাল মেট্রো পলিটন গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সহকারী কমিশনার ফরহাদ হোসেন জানান, বেশ কিছু দিন ধরে বরিশাল নগরীর আমানতগঞ্জ বেলতলার আল-মদিনা সড়ক’র এইচ এম জিয়াউর রহমান’র ছেলে ও নগরীর সরকারি জিলা স্কুলের ৮ম শ্রেনীর ছাত্র সাকলাইন সাজিদ (১৪) সাথে ফেইসবুকে পরিচয় হয় বিবাহিত গৃহবধু ভাবনা মালাকারের (১৯) সাথে।

গেল ২৯ জানুয়ারী ভাবনা মালাকার বরিশালের বান্দরোডস্থ তার পিতার বাড়ীতে আসেন। ওই দিনই নগরীর প্লানেট পার্কে দেখা হয় ভাবনা ও সাজিদের সাথে।

ওই দিনই ভাবনা মালাকার প্রেমিক সাজিদকে নিয়ে চলে যায় নারায়নগঞ্জের ফতুল্লাস্থ তার স্বামী সুমন মিস্ত্রী বাড়ীতে। এরপর থেকে সাকিবের সাথে তার পিতা-মাতার কোন যোগাযোগ হয় নি।
এর প্রেক্ষিতে সাজিদের বাবা এইচএম জিয়াউর রহমান বরিশাল মেট্রোপলিটন কাউনিয়া থানায় একটি সাধারণ ডাইরী করে। ডাইরী নং ১১৮৫, তাং ২৯-০১-২০১৭ ইং।

ওই ডাইরী’র প্রেক্ষিতে ডিবি’র ডিসি উত্তম কুমার পাল’র নেতৃত্যে ডিবি’র এসি ফারহাদ হোসেন’র সহগেীতায় এসআই মুরাদ হোসেন আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সাজিদের সন্ধানে অভিযান চালায়।

অতঃপর ১৮ দিন পর শুক্রবার বিকেলে নারায়নগঞ্জের ফতুল্লার লামপাড়া গ্রামের ওই বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয় সাকিবকে।

ওই দিনই সাজিদ ও ভাবনা মালাকার এবং তার স্বামীকে বরিশালে নিয়ে আসা হয়। আজ শনিবার অনুষ্ঠানিকভাবে সাজিদ ও ভাবনা মালাকারকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বরিশাল মেট্রো পলিটন গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সহকারী কমিশনার ফরহাদ হোসেন আরো জানান, সাজিদকে জিজ্ঞাসাবাদে জানাযায় সে তার বাবার সাথে অভিমান করেছিলো বিধায় ওই ফেইজবুকে ফ্রেন্ড’র বাসায় গোপনে অবস্থান নেয়। তবে এ নিয়ে আর কোন সন্দেহ না থাকায় পুলিশ কমিশনার উভয়কে তাদের পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছেন।

প্রেম মানে না কোনো বাধা। এই প্রেমের টানে প্রেমিক-প্রেমিকার ঘরবাড়ি ছাড়ার বহু ঘটনার কথা লেখা হয়েছে গল্প ও উপন্যাসে। কিন্তু এই আধুনিক যুগে ফেসবুকে সৃষ্ট প্রেমের টানে প্রেমিক শুধু ঘর ছাড়েনি, ঢুকে পড়েছে খোদ প্রেমিকার ঘরে। কিন্তু বাঁধ সেধেছে বেরসিক পুলিশ। রসবোধের ধার না ধেরে প্রেমিক অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সাজিদকে আটক করে বরিশাল গোয়েন্দা পুলিশ। কিন্তু এর আগে সাজিদ তার প্রেমিকার বাড়িতে ১৮টি রাত কাটায়। বিবাহিত ওই প্রেমিকার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় । প্রেমিকাকেও আটক করা হয় শুক্রবার তার বাসা থেকে।

শনিবার বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের পর প্রেমিক-প্রেমিকাকে নিজ নিজ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।