ছাত্রীরা এখন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে

২:৫১ অপরাহ্ন | রবিবার, ফেব্রুয়ারী ১৯, ২০১৭ দেশের খবর, বরিশাল

এম এ সাইদ খোকন, বরগুনা প্রতিনিধি: আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের খেকুয়াণী মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়ে মোট ছাত্র- ছাত্রীর সংখ্যা ৩৩৫। এর মধ্যে বালিকা ১৩৪। শিক্ষক সংখ্যা ০৯, এর মধ্যে নারী শিক্ষক ০২।

s

শিক্ষিকা সুমী আক্তার নিয়মিত হাইজিন বা স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে শ্রেনী কক্ষে ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী আলোচনা করে থাকেন। প্রধান শিক্ষক মোঃ মহি উদ্দিন বলেন, এ বিদ্যালয়ে এনএসএস রি-কল প্রকল্প থেকে মেয়েদের জন্য বরাদ্ধকৃত বিদ্যালয় লেট্রিন টি সত্যিই স্বাস্থ্য বিধি রক্ষায় একটি যুগান্ত পদক্ষেপ।

২০১৪ইং সালের দিকে এ লেট্রিন ভবনটি নির্মিত হয় দাতা সংস্থা অক্সফামের অর্থ প্রাপ্তির মাধ্যমে। এতে করে বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের উপস্থিতির হার বেড়েছে। আগে বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের উপস্থিতি ছিল ৬০%। এটি ছিল অতি নগন্য। এ হার বেড়ে এখন দাড়িয়েছে ৮০% থেকে ৯০% এর মধ্যে। এর মানে দাড়ায় ছাত্রীরা এখন নিয়মিত ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় সহায়তা পাচ্ছে।

শিক্ষিকা সুমী আক্তার ছাত্রীদের জন্য ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিচর্যার লক্ষ্যে একটি ছোট কক্ষে হাইজিন উপকরন সংরক্ষন করছেন যা বিশেষ মুহূর্তে সহায়ক হচ্ছে। অন্যদিকে কিশোরী মেয়েরা বিদ্যালয় লেট্রিন ব্যবহার, বেসিন ও আলাদা কর্নারে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিচর্যার উপকরন ব্যবহারের সহায়তা পাচ্ছে।

বিদ্যালয় সম্পৃক্ত সিবিও পায়রারপার এর নির্বাহী কমিটি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। এছাড়া এলাকার জনগনও এটিকে প্রসংসা করে। এ জন্য কমিউনিটি অনুভব করছে স্বাস্থ্য বিধি এলাকার উন্নয়নে অত্যন্ত জরুরী। বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেনীর ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার মিম বলেন, “আমরা এই বিদ্যালয়ে এ রকম একটি কাজকে স্বাগত জানাই এবং আমরা গর্বিত, আমাদের শিক্ষিকা সুমী আপা একদিকে আমাদের যেমন সহায়তা করেন অন্যদিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলায় উৎসাহিত করেন। সে আমাদের বন্ধুর মতো। পানি ও পয়ঃ নিঃষ্কাশন ব্যবস্থা প্রতিটি মানুষের জীবনে অত্যন্ত জরুরী।” বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা এখন স্বতঃস্ফুর্তভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে।

ইভটিজিং প্রতিরোধে তানিয়া

d

আমতলীর আরপাংগাশীয়া ইউনিয়নের তারিকাটা গ্রামের ১০ম শ্রেনীর ছাত্রী তানিয়া। সে আরপাংগাশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে লেখা পড়া করে। বাবা তাজুল ইসলাম, মা রুনা বেগম। তাদের দুই সন্তানের মধ্যে তানিয়া ছোট। মেয়েকে স্কুলে পাঠিয়ে বাবা মা প্রায়ই দুঃশ্চিন্তায় থাকতো। তানিয়ার কোন ভাই না থাকায় বাবা নিজেদের অসহায় মনে করতো। তাদের ধারনা সংসারে ছেলে না থাকলে সমাজ বা পরিবারে কোন গুরুত্ব থাকেনা। তানিয়ার উদ্যোগ বাবা মার সে ধারনাকে পাল্টে দেয়।

তানিয়া ২০১৩ইং সাল হতে এন এস এসর রিকল প্রকল্পের বৈশাখি গন সংগঠনের কিশোর কিশোরী দলের সদস্য হওয়ার পর বিভিন্ন সভায় অংশ নেয়। সে ধীরে ধীরে অধিকার সচেতন হয় এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে শিখে। স্কুলে যাওয়ার পথে প্রায়ই লক্ষ্য করতো এলাকার কিছু বখাটে ছেলে তাদের পিছু নেয়।

নানা অসৌজন্য মূলক কথা বলে। এতে সে এবং তার বান্ধবীরা অস্বস্তি বোধ করতো। তার মনে যেগে ওঠে প্রতিবাদের ভাষা। সে উদ্যোগ নেয় অন্যান্য কিশোর কিশোরীদের নিয়ে বিষয়টি সুরাহা করার জন্য। সে ছেলে মেয়েদের সংগঠিত করে বখাটে ছেলেদের অভিভাবকদের সাথে কথা বলে। এলাকার গন্য মান্য ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে। এভাবে একদিন দুষ্ট ছেলেদের সামনে গিয়ে তাদের বারন করলে তারা তাদের ভুল বুজতে পারে। সেই ছেলেরা এখন বোনের দৃষ্টিতে দেখে। পাশাপাশি বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করে। তানিয়ার উদ্যোগ এলাকায় প্রসংশিত হয়। তানিয়ার পরিচিতি স্কুলে বড় আপা বলে। এলাকার বখাটে ছেলেরা এখন তানিয়াকে সম্মানের দৃষ্টিতে দেখে। এ যেন কিশোরী তানিয়া সমাজে এক দৃষ্টান্ত।

এ প্রসঙ্গে তানিয়া বলেন, এলাকার ছেলেরা তো আমাদের ভাই আমরা যদি তাদেরকে বুঝিয়ে বলি তারা অবশ্যই আমাদের কথা শুনবে। তানিয়া সমাজের সকল মেয়েকে তার মত প্রতিবাদী হওয়ার আহবান জানান।