সংবাদ শিরোনাম

ছাত্রলীগ নেতার প্যান্ট চুরির ভিডিও ভাইরাল!পাটগ্রামে ইউএনও’র উপর হামলা, আটক ৬আগের সব রেকর্ড ভেঙ্গে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ৮৩ জনেরশফী হত্যা মামলা: মামুনুল-বাবুনগরীসহ ৪৩ জনকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদনখালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় সারাদেশে দোয়া কর্মসূচিরোহিঙ্গা শিবিরে ফের অগ্নিকান্ডসালথায় তান্ডব: এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগের সত্যতা মিলেনিশাহজাদপুরে কৃষকদের মাঝে হারভেস্টার মেশিন বিতরণচাঁদপুরে গণমাধ্যম সপ্তাহের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপিশ্রমিকদের যাতায়াতের ব্যবস্থা না করলে আইনি পদক্ষেপ : শ্রম প্রতিমন্ত্রী

  • আজ ৩০শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

দিনাজপুরে হারিয়ে যাচ্ছে হরেক রকম পাখি

১১:১৩ পূর্বাহ্ন | রবিবার, এপ্রিল ২৩, ২০১৭ দেশের খবর, রংপুর

শাহ্ আলম শাহী, স্টাফ রিপোর্টার: দিনাজপুরে পরিবেশের পরম বন্ধু পাখির রাজ্যে চলছে এখন অস্তিত্বের লড়াই। উপযুক্ত আবাসস্থল ও খাদ্যের অভাবে দেশীয় প্রজাতির অনেক পাখি এখন হারিয়ে গেছে। পাখির অভয়াশ্রম ভাটিনা পাখি কলোনিতেও পাখি কমে গেছে। সেখানে আর গাছে, মাঠে-ঘাটে, খেতে-খামারে চোখে পড়েনা হরেক রকম পাখিদের বিচরণ। ভেসে আসে না সুমধুর সুর। পাখি হারিয়ে যাওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে জীব-বৈচিত্র্য।

“ডাকে পাখি খোল আঁখি
দেখ সোনালী আকাশ
বহে ভোরেরও বাতাস।”

এখন পাখির ডাকে আর ঘুম ভাঙে না দিনাজপুরবাসীর। কোকিল, ঘুঘু, বউ কথা কও পাখির সুমধুর ডাকে আর মন ভরেনা এ অঞ্চলের মানুষের। চোখে পড়েনা আর হরেক রকম পাখির আনা গোনা। এক সময় দিনাজপুরের সদর উপজেলার নিভৃত গ্রাম ভাটিনায় প্রকৃতির অপরূপ খেয়ালে বাসা বেধে ছিলো হাজার হাজার শামুক ভাঙ্গা পাখি। গ্রামের পুকুরপাড়ের বাঁশঝাড় আর বড় বড় গাছ ছিলো তাদের স্থায়ী আবাসস্থল। এখানেই বাসা বেঁধে প্রজনন হতো অসংখ্য পাখির ছানা।

পাখি দেখার জন্য দেশ-বিদেশ থেকে ছুটে আসতো দর্শনার্থীরা। এরা আশপাশেই শামুক ঝিনুক খেয়ে জীবন ধারণ করতো। সন্ধার আগেই সব পাখি ফিরে আসতো আবাসস্থলে। এই পাখিগুলো অঞ্চলভেদে শামুক ভাঙ্গা, শামুক খৈল, এশিয়ান ওপেন বিল, ওপেন বিল ষ্টক ও হাইতোলা মূখ নামে পরিচিত। শামুক ভাঙ্গা পাখির পাশাপাশি এখানে বাস করতো আরো বেশ কয়েক প্রজাতির পাখি। পাখির অভয়াশ্রম ভাটিনা পাখি কলোনিতেও পাখি এখন কমে গেছে। সেখানে আর গাছে,মাঠে-ঘাটে, খেতে-খামারে চোখে পড়েনা হরেক রকম পাখিদের বিচরণ। ভেসে আসেনা সুমধুর সুর। এই ভাটিনা পাখি কলোনির ২০ বছরের ঐতিহ্য এখন হারিয়ে যেতে বসেছে।

শালিক, কোকিল, ঘুঘু, দোয়েল, বাবুই, টুনটুনি, কাঠঠোকরা, পানকৌড়ি, ডাহুক, বালীহাঁস, বক, ক্যাসমেচি, বাবুই, মাছরাঙা, বটর, টেইটেরা, গোমড়া ও প্যাঁচা, কাক ও চিলসহ বিভিন্ন পাখিদের আবাস ছিল এই ভাটিনা পাখি কলোনিতে। এখন আর এসব পাখি খুব একটা দেখা যায় না। পাখি কমে যাওয়ার কারণ, খেতে কীটনাশকের ব্যবহার, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে বন-জঙ্গল নিধন ও পাখি শিকার। উপযুক্ত আবাসস্থল ও খাদ্যের অভাবে দেশীয় প্রজাতির অনেক পাখি এখন হারিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল সরকার। বর্তমান প্রজন্মের অনেকে এসব দেশি পাখির সাথে পরিচিত না। তারা এসব পাখির নামও জানেনা।

পাখির অভারণ্য পাখি কলোনিতে কিছু পাখি দেখা গেলেও দেশি পাখিগুলো বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এতে ভারসাম্য হারাচ্ছে পরিবেশ। পরিবেশের পরম বন্ধু এই পাখিকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের যেমন দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন জনসচেতনতার। এমনটাই মন্তব্য করেছেন পাখি প্রেমিক ও পরিবেশবিদরা।