• আজ মঙ্গলবার। গ্রীষ্মকাল, ৭ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ২০শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। সকাল ৭:৩৩মিঃ

‘তিন-চারটি বোমা দিয়ে পুরো পৃথিবীই ধ্বংস করা সম্ভব’

৮:০০ অপরাহ্ন | সোমবার, এপ্রিল ২৪, ২০১৭ Breaking News, আন্তর্জাতিক, স্পট লাইট

আন্তর্জাতিক আপডেট ডেস্ক: মাত্র তিন-চারটি পারমাণবিক বোমাতেই পৃথিবী ধ্বংস করতে পারে উত্তর কোরিয়া। নিজেকে উত্তর কোরিয়ার একজন মুখপাত্র দাবি করে আলেজান্দ্রো কাও ডে বেনোস নামের এক ব্যক্তি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। খবর ইন্ডিপেনডেন্টের।

ডে বেনোস বলেন, ‘কেউ উত্তর কোরিয়াকে স্পর্শও করতে পারবে না। যদি কেউ সেটা করার চেষ্টা করে তবে দেশের লোকজন বন্দুক এবং ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে তা প্রতিহত করবে।’

আর্জেন্টিনার ওয়েবসাইট ইনফোবেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ডে বেনোস বলেন, ‘উত্তর কোরিয়া ইতোমধ্যেই তাদের পারমাণবিক এবং হাইড্রোজেন বোমাজাতীয় অস্ত্র প্রস্তুত রেখেছে। আমাদের কাছে হাইড্রোজেন বোমাও রয়েছে। ’

তিনি আরো বলেন, উত্তর কোরিয়ায় সব সিদ্ধান্ত নেন কিম জং উন। তিনি ছাড়া আর কারও সিদ্ধান্ত নেয়ার কোনো অধিকার নেই। উত্তর কোরিয়ার বন্দি শিবিরে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছিল হিউমেন ওয়াচ রাইটস। সংস্থাটি জানিয়েছে, এসব বন্দি শিবিরে জোর করে মানুষকে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। সেখানকার পরিস্থিতি খুবই বিপজ্জনক। লোকজনকে জীবনের হুমকির মধ্যেই কাজ করতে হয়।

কিন্তু এসব বন্দি শিবির সম্পর্কে ডে বেনোস বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি এটা শাস্তি নয় বরং পুনর্বাসন। এগুলো অনেকটা মানসিক থেরাপির মতো।’

তিনি বলেন, ‘হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর কোরিয়ার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। কিন্তু এটা পরিমাণের প্রশ্ন নয়। প্রশ্ন হচ্ছে বিস্ফোরণের ক্ষমতা নিয়ে। একটি হাইড্রোজেন বোমা একটি পারমাণবিক বোমার চেয়ে একশ গুণ বেশি শক্তিশালী। ’

এ ধরনের তিন-চারটি বোমা দিয়ে পুরো পৃথিবীই ধ্বংস করা সম্ভব বলেও উল্লেখ করেন তিনি। জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়ার বার বার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় কোরীয় দ্বীপে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার পাশে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন এবং পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এ ধরনের মন্তব্য করলেন ডে বেনোস।

হাইড্রোজেন বোমা বিপজ্জনক হওয়ার কারণ

উত্তর কোরিয়া যখন হাইড্রোজেন বোমার সফল পরীক্ষার দাবি জানায় তারপর থেকে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক নিন্দার ঝড় উঠেছিলো। পিয়ং ইয়ংয়ের এ ধরনের কাজকে জাপানের নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলেও মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে।

গেলো বছরের ডিসেম্বরে পরমাণু বোমা সমৃদ্ধ দেশটির নেতা কিম জং উন হাইড্রোজেন বোমা তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছিলো। এর আগে আরো তিনবার পরমাণু বোমার পরীক্ষা চালায় পিয়ং ইয়ং।

হাইড্রোজেন বোমা কেন পরমাণু বোমার চেয়ে বিপজ্জনক সে বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরমাণু বোমার চেয়ে হাইড্রোজেন বোমা বেশি শক্তিশালী।

লক্ষ্যবস্তুর উদ্দেশ্যে নিক্ষেপের পর এই বোমা থেকে পরমাণু বোমার চেয়ে কয়েক মাত্রার বেশি শক্তি ছড়িয়ে পড়ে। একটি বিস্ফোরণে পুরো শহর নিমিষেই ধ্বংস করে দিতে পারে এই বোমা।

বিধ্বংসী এই বোমা অত্যন্ত ক্ষুদ্র আকারে তৈরি করা যায়। একই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্রের ভেতরে এটি অনায়াসেই লুকিয়ে রাখা যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৫ সালের আগস্টে হিরোশিমা ও নাগাশাকিতে সর্বশেষ পরমাণু বোমা ব্যবহার করা হয়েছিল। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বের কোথাও কোনো যুদ্ধে হাইড্রোজেন বোমার ব্যবহার হয়নি।

বুধবার সকালে দেশটির পুঙ্গাই-রি পরমাণু পরীক্ষা কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় ভূমিকম্প আঘাত হানে। পরে পরমাণু বোমার পরীক্ষা চালানো হয়েছে বলে ঘোষণা দেয় উত্তর কোরিয়া। ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ১। এটি মানবসৃষ্ট ভূমিকম্প বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, পুঙ্গাই-রি থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে ভূমিকম্প শনাক্ত হয়েছে। ১০ কিলোমিটার ভূগর্ভে এটির উৎপত্তিস্থল ছিল ।