• আজ ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আড়াইহাজারে অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নেই কম্পিউটার ল্যাব

১০:৫৬ পূর্বাহ্ন | মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৫, ২০১৭ ঢাকা, দেশের খবর

এম এ হাকিম ভূঁইয়া, আড়াইহাজার প্রতিনিধি: উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় বর্তমানে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নেই কম্পিউটার শিক্ষার ল্যাব।

এতে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী প্রযুক্তিজ্ঞান (কম্পিউটার) শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মাধ্যমিক শিক্ষাখাতে ব্যাহত হচ্ছে সরকারের ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রম। যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার শিক্ষা চালু রয়েছে তাতে নানা সমস্যা (লজেস্টিক সার্পোট) এর অভাবে বাঁধা গ্রস্ত হচ্ছে কম্পিউটার শিক্ষা কার্যক্রম। জানা গেছে, উপজেলার অধিকাংশ বিদ্যালয়ে নিজেস্ব তহবিল থেকে কম্পিউটার ক্রয় করে শিক্ষা কার্যক্রম কোনোমতে চালু রেখেছেন। তাতে শিক্ষার্থীরা সমান সুযোগ পাচ্ছে না।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে গেছে, আড়াইহাজারে ২২টি উচ্চ মাধ্যমিক ও ৬টি মাদ্রাসায় প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে ২০১৪ইং সালে মাত্র ৫টি বিদ্যালয়ে ল্যাব চালু করা হয়েছে। এতে মাত্র ২৫ পার্সেন শিক্ষার্থীকে প্রযুক্তিজ্ঞান আহরণ করছেন। এখনও শতভাগ মাধ্যমিক স্কুল কম্পিউটার শিক্ষার আওয়াতায় আনা সম্ভব হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ল্যাব থাকলেও কম্পিউটার স্বল্পতাসহ নানা জটিলতার কারণে কম্পিউটার শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। আড়াইহাজার পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইহাইহা খাঁন স্বপন বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বিদ্যালয়ে প্রায় ২ হাজার ৩১০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এখানে ল্যাব চালু রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের জন্য অপ্রতুল। এতে সবাইকে সমানভাবে সুযোগ পাচ্ছে না। (আইপিএস) না থাকায় লোডশেডিং হলেই ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।

একই বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষক রুহুল আমিন জানান, বিদ্যালয়ে ২৫টি ল্যাপটপ ও ১৫টি কম্পিউটার রয়েছে। আইপিএস (বিদ্যুৎ সংরক্ষণ) মেশিন না থাকায় ল্যাপটপ দিয়ে ব্যবহারিক ক্লাস নেয়া হচ্ছে। ব্যাকাপ এর (সিডি) সবগুলোই অকেজো হয়ে আছে। এতে প্রতিনিয়তই পাঠদানে ব্যাঘাত হচ্ছে। বই থেকে হাতে-কলমে শিখলেও অনেকেই কম্পিউটারে ব্যবহারিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্কুলের ল্যাবগুলো নামেই। মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বড় সমস্যা হলো ল্যাবে প্রায় সময়ই কম্পিউটার অকেজো থাকে। শিক্ষকরাও প্রায় সময়ই কম্পিউটারে বসিয়ে প্রশিক্ষণ দিতে গড়িমসি করেন। তাছাড়া শিক্ষার্থীর তুলনায় কম্পিউটার অপ্রতুল।

শম্ভুপুরা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতিয়ার রহমান বলেন, ১ হাজার ৭শ’ ৫৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয়ে নিজেস্ব তহবিল থেকে ক্রয় করা ৩টি কম্পিউটার দিয়ে কোনোমতে ব্যবহারিক ক্লাস নেয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এক বছর আগে উপজেলা শিক্ষা অধিদফতরে ল্যাবের জন্য আবেদন করেও বরাদ্দ পায়নি। এতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে।

বালিয়াপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল আশরাফ ভূঁইয়া বলেন, ১ হাজার ৫০০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। কম্পিউটার রয়েছে মাত্র পাঁচটি। এর মধ্যে দুইটি স্কুলের টাকায় কেনা। অন্য দুইটি শিক্ষা অধিদফতর থেকে দেয়া হয়েছে। এতে কম্পিউটার শিক্ষা সঠিকভাবে দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

পাঁচগাও বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশাদউল্যাহ বলেন, ১ হাজার ৯০০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। মাত্র ১৭ টি ল্যাপটপ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এতে সবাইকে সমান সুযোগ দেয়া যাচ্ছে না। ল্যাবের কম্পিউটারে নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তারপরও কম্পিউটার মেরামত করে ল্যাব সচল রেখে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আড়াইহাজার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সাইফুল ইসলাম প্রধান সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, উপজেলায় পাঁচটি উচ্চবিদ্যালয় কম্পিউটার শিক্ষার আওয়তায় আনা সম্ভব হয়েছে। বাকি স্কুলগুলোয় অচিরেই ল্যাব চালুর প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষকরা একটু যত্নবান হলে ল্যাবের কম্পিউটার গুলি হয়তো সমস্যা থাকতো না। তবে সমস্যা নিরসনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।