• আজ রবিবার। গ্রীষ্মকাল, ৫ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ১৮ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। দুপুর ২:১৯মিঃ

ফরিদপুরে তিন বছরের অবুঝ শিশু হাসপাতালে রেখে মায়ের মৃত্যু

১২:০১ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৫, ২০১৭ ঢাকা, দেশের খবর

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: তিন বছরের অবুঝ শিশু মাইশাকে রেখে গত শনিবার রাতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সৌখিন বেগম ওরফে সখিনা নামে এক নারী মারা যান।

গতকাল সোমবার ওই নারীর পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি ফরিদপুরের ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামের ফারুক বিশ্বাসের মেয়ে। তার স্বজনরা জেলা প্রশাসকের কাছে শিশুটিকে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যান চৌধুরী নুরুজ্জামান ওরফে পঙ্কজ জানান, সৌখিন ওরফে সখিনা আমার চাচাতো ভাইয়ের মেয়ে। সম্পর্কে আমার ভাতিজি হয়। কয়েক বছর আগে পরিবারের অমতে বিয়ে হওয়ার পর থেকে সৌখিনের সঙ্গে তার পরিবারের যোগাযোগ ছিল না।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দুইজন অপরিচিত লোক গত শনিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে শিশুটিসহ অসুস্থ সৌখিনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে আসেন। তখন মায়ের সঙ্গে ওই শিশু মাইশা ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। সখিনা বেগম (৩০) নামে অসুস্থ ওই মাকে হাসপাতালের মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত নয়টার দিকে মারা যান। এরপর ওই শিশুটিকে কোথায় রাখা হবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাধবায়ক আবুল কালাম আজাদ জানান, শিশু মাইশা এখন হাসপাতালের মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে কর্মরত জ্যেষ্ঠ স্টাফ নার্স সাজেদা বেগমের কাছে আছে।

পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পরে সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সখিনার আরেক ছেলে সন্তান সোয়াদ (১১) কে নিয়ে আসেন মোঃ আজাদ নামের এক ব্যক্তি। আজাদ শহরের রাজবাড়ি রাস্তার মোড়ে একটি অটো ওয়ার্কশপের মালিক, সোয়াদ ঐ দোকানে কাজই করে। তার মা তাকে ঐ দোকানে কাজ শেখার জন্য কিছু দিন আগে দিয়ে গেছে বলে ওয়ার্কশপ মালিক জানান।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়ার উপস্থিতিতে হারানো মাইশা তার ভাই সোয়াদকে ফিরে পায়। জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে বাচ্চা দুটির বাবার খোঁজ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই নিষ্পাপ শিশু দুটির বাবার খোঁজ চলছে। আশা করছি আগামী কাল এ বিষয়ে একটি সমাধান হয়ে যাবে। এদের পরিচয়হীন থাকতে দেয়া হবে না । বিষয়টি পত্রিকায় আশার পর সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ ফোনে ওদের খোঁজ নিচ্ছে। অনেকে মাইশার দায়িত্ব নিতে চাইছে। মানবতা এখন হাঁরিয়ে যায়নি, ওদেরকে সমাজে হারিয়ে যেতে দিবনা। ওদের পড়াশুনার ও ব্যবস্থা করা হবে।