• আজ ২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

‘বাল্যবিবাহের হাত থেকে বাঁচতে প্রয়োজনে আমি আত্মহত্যা করবো’

২:১৬ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৫, ২০১৭ দেশের খবর, বরিশাল

মোঃ ফেরদাউছ সিকদার, বরিশাল ব্যুরো-  একটি সুস্থ জাতি পেতে প্রয়োজন একজন শিক্ষিত মা অথচ আজ এই একুশ শতকে এসেও বাংলাদেশের ৬৬% মেয়ে এখনো শিক্ষা থেকে বঞ্চিত, যার প্রধান কারণ বাল্যবিবাহ। আগামী প্রজন্মের সুস্থভাবে বেড়ে উঠা এবং সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতেও বাল্য বিবাহ একটি বড় বাঁধা।

1462966835বাল্য বিবাহ একদিকে আইন এবং সংবিধানের লংঘন, অন্যদিকে বাল্য বিবাহের বর ও কনেকে তার ব্যক্তি স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা হয়। যদিও দেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ী পুরুষের ক্ষেত্রে ২১ বছর পূর্ণ এবং নারীর জন্য ১৮ বছর পূর্ণ হওয়াসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় মেনে চললে তা বৈধ বিবাহ বলে গণ্য হয়।

বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন, ১৯২৯, অনুযায়ী কোন এক পক্ষ কর্তৃক উল্লেখিত বয়স পূর্ণ না হলে তা বাল্য বিবাহ বলে গণ্য হয় এবং উক্ত বিবাহ ব্যবস্থাপনার দায়ে ব্যবস্থাপকদের ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ১ হাজার টাকা অর্থদন্ডর বিধান রয়েছে। কিন্তু এর বাস্তবায়ন খুব একটা চোখে পড়ে না। আমাদের দেশে আইন আছে; কিন্তু আইনের প্রয়োগ নেই বললেই চলে।

সারাদেশে প্রতিদিনিই শোনা যায় একটা না একটা বাল্যবিয়ের খবর। এরই একটি বাল্যবিবাহের ছোবলে পড়েছে বরিশালের বানারীপাড়ার দশন শ্রেনীর মেধাবী ছাত্রী নুরজাহান আক্তার মিলি। মিলি বানারীপাড়ার খলিশাকোটা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী (রোল নং-১)। তিনি নোয়াখালীর বাসিন্দা কুয়েত প্রবাসী আবুব্বকর সিদ্দিকের মেয়ে।

জানাযায়, মিলি বানারীপাড়ার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের সেনেরহাট গ্রামের নানা শাহাজাহান হাওলাদারের কাছে থেকে পড়াশুনা করতো। মিলির সাথে থাকতেন তার মা নাসরিন আক্তার মনি। গত সোমবার (২৪ এপ্রিল ২০১৭) মিলি বানারীপাড়া ইউএনও কার্যালয়ে এসে বাল্য বিয়ে থেকে পরিত্রানের আবেদনও জানান।

মিলি জানিয়েছে, ১৮ দিন পূর্বে তার পিতা আবুবক্কর কুয়েত থেকে নোয়াখালীতে এসে তার মাকে নিয়ে যায়। এরপর মায়ের অসুস্থতার খবর দিয়ে তাকেও (মিলি) নেয়। সেখানে যাওয়ার পর বিয়েতে রাজী হওয়ার জন্য তার পিতা ১৩ এপ্রিল থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত তার উপর শারীরিক ও মানষিক অত্যাচার চালায়। শেষ পর্যন্ত ১৬ এপ্রিল বরিশালের উজিরপুরের ধামুড়ার বাসিন্দা জহিরুল ইসলামের সাথে বিয়ে রেজিষ্ট্র্রি হয়।

এরপর মিলি বানারীপাড়ায় চলে আসে। সোমবার স্কুলে যাওয়ার কথা বলে নানাবাড়ি থেকে বের হয়ে স্কুলে যাওয়ার পথে মোবাইলে মিলি কাকে যেন বলে ‘আমি ওই ছেলের সাথে যাবোনা প্রয়োজনে আত্মহত্যা করবো’। এ কথা বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মী শোনার পরে নুরজাহানের সাথে কথা বলেন। নুরজাহান সাংবাদিকদের নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় গিয়ে বাল্য বিয়ে থেকে বাঁচার জন্য আবেদন করেন।

এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইউএনও ইসরাত জাহান, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শামিমা ইয়াসমিন, খলিশাকোটা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক আলী আজিম, ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউল হক মিন্টু এবং মিলির মা নাসরিন আক্তার, নানা শাহজাহান হাওলাদার।

শেষমেশ মিলি সাংবাদিকদের বলেন, বাল্য বিবাহের উদ্বেগজনক পরিণতি যেহেতু পরিবার, সমাজ তথা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর সেহেতু এটি অবশ্যই বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। আমি এই বাল্যবিবাহ মানিনা আর মানবনা। বাল্যবিবাহের হাত থেকে বাঁচতে হলে যদি আত্মহত্যা করার দরকার হয় আমি তাও করবো।

এবিষয় ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউল হক মিন্টু ও ইউএনও ইসরাত জাহান বলেন, আমরা এবিষয়টি ওর মুখ থেকেই শুনেছি এর আগে কিছুই শুনিনাই। বাল্যবিবাহ একটি দন্ডনীয় অপরাধ, মিলিকে আমরা বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করব এটা আমাদের দায়িত্ব আর বাল্যবিবাহ অমান্য দন্ডনীয় শাস্থি যা হবে অভিবাবককে তা মেনে নিতে হবে।