• আজ ৩রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

‘প্রশাসন কোনোদিনই চায়নি বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করুক’

৪:৫৫ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৫, ২০১৭ Breaking News, জাতীয়, স্পট লাইট

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এসকে সিনহা) বলেছেন, প্রশাসন কোনোদিনই চায়নি বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করুক।

তিনি বলেন, বিচার বিভাগের সঙ্গে সবসময় বিমাতাসুলভ আচরণ চলে আসছে। এটি আজকে না, শুধু এই সরকার না, সব সরকারের আমলেই এ আচরণ করা হয়।

মঙ্গলবার বিকেলে হবিগঞ্জে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

হবিগঞ্জ বার লাইব্রেরি আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি বলেন, প্রশাসন কোনোদিনই চায়নি, এখনো চায় না বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করুক। প্রশাসনের যারা উচ্চপর্যায়ে আছেন, তাদের পরিচালনা করেন কিছু আমলা, কিছু লোক পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সত্য জিনিসটি তাদের কর্মক্ষেত্রে উপস্থাপন করা হয় না। যার প্রেক্ষিতে তারা মনে করে বিচার বিভাগ তাদের প্রতিপক্ষ। এটি তাদের ভুল ধারণা।

তিনি বলেন, বিচার বিভাগ কারো প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে কাজ করে না। বিচার বিভাগ সবসময় একটি ভারসাম্য রক্ষা করে চলে। তাদের যত কিছুতে ত্রুটি থাকে তা নিয়ে বিচার বিভাগের কাছেই আসতে হয়। আমরা তাদের বিচার করি। তারা নিরাপত্তা পায় না, প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা পায় না, নিশ্চয়তা পায় না চাকরি সংক্রান্ত, প্রমোশন সংক্রান্ত, তখনই এই বিচার বিভাগ তাদের নিশ্চয়তা দেয়।

আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনারা যারা আইনজীবী তারা এটি তুলে ধরবেন। জনমত গঠন করবেন। তাহলে এ ভুল বোঝাবুঝি দূর হবে।

প্রধান বিচারপতি বলেন, অনেক দেশ আছে যারা অনেক ধনী। যাদের অনেক উন্নত দেশের চেয়েও বেশি টাকা আছে। কিন্তু তাদের উন্নত জাতি হিসেবে ধরা হয় না। শুধু টাকা থাকলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। উন্নয়নের জন্য দুর্নীতি প্রতিরোধ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

হাওর অঞ্চলের জনগণের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, হাওর অঞ্চলে দুর্যোগে ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হলেও এখন আর কারো কাছে হাত পাততে হবে না। কারণ বাংলাদেশের মানুষ এখন নিজেদের সমস্য নিজেরাই সমাধান করতে পারে।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আব্দুল মোছাব্বির, সাধারণ সম্পাদক জমশেদ মিয়া ও নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মো. লুৎফুর রহমান, জেলা ও দায়রা জজ মো. আতাবুল্লাহ, অ্যাডভোকেট চৌধুরী আব্দুল হাই প্রমুখ।