• আজ সোমবার। গ্রীষ্মকাল, ৬ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ১৯শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। রাত ১২:২০মিঃ

পেকুয়ায় পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই পশু জবাই: মহিষের মাংস গরুর মাংস বানিয়ে বিক্রি, তদারকি নেই কর্তৃপক্ষের

৮:১৮ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৫, ২০১৭ চট্টগ্রাম, দেশের খবর

এফ এম সুমন, পেকুয়া প্রতিনিধি: কক্সবাজারের পেকুয়ায় কোনো প্রকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই পশু জবাই করে পরে বিভিন্ন বাজারে তা অবাধে বিক্রি করা হচ্ছে।

পশু জবাইয়ের পূর্বে পশু রোগমুক্ত কিনা তা পরীক্ষা করে জবাইয়ের নিয়ম থাকলেও তা মানছেন না অসাধু মাংস বিক্রেতারা। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের হাটবাজারগুলোর মাংসের দোকানের দৈনন্দিন চিত্র এমন হলেও কার্যত কোনো তদারকি নেই স্থানীয় প্রশাসনের।

dfgdfhbdf-3তথ্য সুত্রে জানা যায়, মৃত, রোগ্ন, প্রতিবন্দী ও ককুর কামড়ানো পশুর মাংস বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে এসব মাংসের দোকানগুলির বিরুদ্ধে। তাছাড়া মহিষকে গরু বানিয়ে মাংস বিক্রি চলছে হরহামেশাই। যেন দেখার কেউ নেই! রোগাক্রান্ত পশুর মাংস খাওয়ার খেসারত হিসাবে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে উপজেলার প্রায় ২ লাখ মানুষ।

মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) পেকুয়ার নন্দীর পাড়া ষ্টেশন, গুরা মিয়া বাজার, পেকুয়া বাজার, বারবাকিয়ার সওদাগর হাট , রাজাখালী আরবশাহ বাজার,সবুজ বাজার, শীলখালী জনতা বাজার , সাকুতলা, মগনামার ফুলতলা ষ্টেশন, সিকদার বাজার,কাজী মার্কেট, উজানটিয়া সোনালী বাজার, গোদার পাড় ষ্টেশন,টৈটং বজল মিয়া বাজার সহ প্রায় সকল মাংসের দোকানে গিয়ে দেখা যায় মাংস বিক্রির চিত্র, কিন্ত ক্রেতারা অভিযোগ করেন তারা আদৌ জানেন না জব্ইকৃত পশু মরা না জিন্দা? কিন্ত স্থানীয় পশু সম্পদ কর্মকর্তাকে আদৌ চিনেনা বলে দাবী করেন কয়েকজন বিক্রেতা।

নন্দীর পাড়ার স্থানীয় ক্রেতারা অভিযোগ করেন, মাংস বিক্রেতারা নিয়মিত রোগ্ন, প্রতিবন্দী ও কুকুরে কামড় দেয়া গরু খুজে খুজে কম দামে বিক্রি করে আসছেন। যা নিয়ে এলাকায় শালিস বিচার ও হয়েছে। তার পর ও তারা অবাধে মাংস বৃক্রি করে আসছেন। এ নিয়ে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

মাংস বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তার নির্দেশ নেই। তাই পশু জবাইয়ের পূর্বে পরীক্ষা করেন না তারা।তারা আরো বলেন, গরু-ছাগল জবাইয়ের পূর্বে পরীক্ষা করতে হলে ডাক্তারদের টাকা দিতে হয়। তাছাড়া সময়মতো ডাক্তারও পাওয়া যায় না। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রোগ্ন,দুর্বল গরু ,মহিষ ও ছাগল জবাই করে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে দেদারসে মাংস বিক্রি করা হচ্ছে।

এসব পশু জবাইয়ের পূর্বে ডাক্তারি পরীক্ষা বাধ্যতামূলক হলেও তা না করিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে মাংস। ক্রেতা সাধারণকে ঠকিয়ে মহিষের মাংস বিক্রি করে দাম নেয়া হচ্ছে গরুর মাংস বলে। কসাইদের সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি উপজেলাবাসী। নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম বসিয়ে মাংস বিক্রি করছেন কসাইরা। গরুর মাংস সাড়ে ৪শ থেকে ৫শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন বাজারে।প্রতিটি বাজারে রয়েছে ২-৩টি করে মাংসের দোকান। মাংসের দোকানগুলোতে গরু, মহিষ, ছাগল জবাই করা হয়। এসব দোকানগুলো থেকে আবার বিভিন্ন ছোট বাজারগুলোতে মাংস নিয়ে যাওয়া হয় খুচরা বিক্রি করার জন্য।

অন্যদিকে উপজেলার অধিকাংশ মাংসের দোকানে পশু জবাই করার নেই কোনো জবাইখানা। বেশিরভাগ পশু জবাই করা হয় মহাসড়কের পাশে। ফলে পশুর রক্ত, পাকস্থলি ও নাড়িভুঁড়ির গন্ধে সড়ক পথে যাতায়াত করতে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে পথচারী, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ জনগণকে।

জানতে চাইলে পেকুয়া বাজারের এক মাংস বিক্রেতা জানান, আমরা পশু জবাই করি ভোরে, ওই সময়তো ডাক্তার পাওয়া যায় না। আর ডাক্তারি পরীক্ষা ছাড়া পশু জবাই করলেও প্রশাসনের লোকজন কখনো আমাদের বাধা দেয়নি। আমরা সুস্থ পশুই সব সময় জবাই করি।

ডাক্তারি পরীক্ষা ছাড়াই পশু জবাইয়ের বিষয়ে পেকুয়া সরকারী হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা:জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, যদি কেউ কুকুরের কামডানো গরুর মাংস খায় তাহলে তার দেহে জলাতংক রোগ হওয়ার সম্ভবনা থেকে যায় এবং কি অসুস্থ গরুর মাংস খাওয়ার ফলে বিভিন্ন ছোঁয়াচে রোগ হতে পারে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে মুঠোফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।