• আজ বুধবার, ৯ আষাঢ়, ১৪২৮ ৷ ২৩ জুন, ২০২১ ৷

জানেন কি? কি কারনে ঘরের মেঝে ঘেমে যাচ্ছে?


❏ বুধবার, এপ্রিল ২৬, ২০১৭ লাইফস্টাইল

ডেস্কঃ দেশের বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ করেই ঘেমে ভিজে উঠতে শুরু করেছে অনেকের ঘরের মেঝে ,  দেয়াল এমনকি চেয়ার-টেবিলও। হুট করে ঘরের মেঝে কিংবা দেয়াল ঘেমে যাওয়া নিয়ে  আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন অনেকেই।  আর এই আতঙ্ককে পুঁজি করেই একদল নানা ধরনের ভীতিকর গল্প ছড়াচ্ছেন।

গতকাল মঙ্গলবার  থেকেই ঘরের মেঝে ঘেমে যাওয়া নিয়ে সোশাল মিডিয়া সরগরম হয়েছে।  ঘরের মেঝে ঘেমে যাওয়ার কারণ হিসেবে কেউ বলছেন সামনে বড় ধরনের বন্যা হবে, কারো মতে এটা ভূমিকম্পের আলামত  কিংবা কেউ অন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা বলে বেড়াচ্ছেন। দেশের ফেসবুক,  ইনস্টাগ্রাম টুইটার ঘরের মেঝে ঘেমে যাওয়ার ছবিতে সয়লাব হয়ে গেছে।  তবে, আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন  ঘরের মেঝে ঘামছে স্বাভাবিক নিয়মে আর এটা নিয়ে আতঙ্কিত হবার কিচ্ছু নেই।

টানা বর্ষণের পর মঙ্গলবার সকাল থেকে পরিবেশ স্যাতস্যাতে-ভারী-অস্বাভাবিক  থাকার কারণে ভূমিকম্পের আশঙ্কায় দেশের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক  দেখা দিয়েছে। একাধিক বাড়ির বাসিন্দারা জানান,  গত কয়েকদিন প্রচুর বৃষ্টির পর সকালে রোদ উঠলে ঘরের মেঝেতে পানি  জমে স্যাতস্যাতে ভাবের সৃষ্টি হয়।  মেঝে মুছে ফ্যান চালানোর পরও ঘরের স্যাতস্যাতে ভাব অব্যাহত থাকে এবং পানি জমতে থাকে।   এছাড়া সারাদিন আবহাওয়া ভারী ও অস্বাভাবিক গরম অনুভূত হচ্ছে।  যার কারণে মনে হচ্ছে ভূমিকম্প হতে পারে।

আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ বলেন,   হুট করে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় ঘরের মেঝে ঘামছে।  এতে আতঙ্কিত হবার কিছু নেই। মঙ্গলবার সকালে তাপমাত্রা ছিল  ২০ ডিগ্রি এই মুহূর্তে ৩৪ ডিগ্রি।  বেলা বাড়ার সাথে সাথে হুট করে তাপমাত্রা বেড়ে  যাওয়ার ফলে মেঝে ঘামছে।  তাপমাত্রা আকস্মিক  তারতম্যর কারণে এটা হতে পারে।

বজলুর রশীদ আরো বলেন,  কয়েকদিন থেকে বৃষ্টির ফলে তাপমাত্রা নিচে নেমে গিয়েছিল।  এখন বাড়ছে। শীতের দিন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়ির ভেতরও  ঘেমে যায়। এর কারণ তাপমাত্রার তারতম্য।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী,  গত ১৮ এপ্রিল সকাল ছয়টা থেকে আজ সকাল ছয়টা পর্যন্ত রাজধানী  ঢাকায় মোট বৃষ্টি হয়েছে ১৫৮ মিলিমিটার।  গড়ে প্রতিদিন বৃষ্টি হয়েছে ২২ দশমিক ৫৮ মিলিমিটার।  এর মধ্যে গতকাল সকাল ছয়টা থেকে আজ সকাল ছয়টা পর্যন্ত ঢাকায় বৃষ্টি হয় ২৩ মিলিমিটার।  এ সময়ে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে কুমিল্লায় ৬৯ মিলিমিটার।