সংবাদ শিরোনাম

‘তালা ভেঙ্গে মসজিদে তারাবি পড়ার চেষ্টা্’‌, পুলিশের বাধায় সংঘর্ষে মুসল্লিরা‘লঘু পাপে গুরু দণ্ড’; তিনটি মুরগি চুরির দায়ে দেড়লাখ টাকার জরিমানা চার তরুণের!কুড়িগ্রামের সবগুলো নদ-নদী শুকিয়ে গেছে, হুমকীতে জীব-বৈচিত্রহেফাজতের আরেক কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেপ্তারমধুখালীতে বান্ধবীর সহায়তায় অচেতন করে দফায় দফায় ধর্ষণের শিকার নারী!বাসস্ট্যান্ডে প্রকাশ্যে চায়ের স্টলে ইতালি প্রবাসীকে কুপিয়ে হত্যাগোবিন্দগঞ্জে মর্মান্তিক সড়ক দূঘর্টনায় স্কুল শিক্ষকসহ একই পরিবারের ৪ জন নিহতময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদের পানিতে ডুবে মারা গেলো ৩ শিশুমুহুর্তেই ভয়াবহ আগুন! স্কুলেই পুড়ে মরলো ২০ শিশু শিক্ষার্থী!সাবেক আইনমন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু আর নেই

  • আজ ২রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

রোজা নিষেধাজ্ঞার পর মুসলিম নামের উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করল চীন

৭:১৯ পূর্বাহ্ন | বুধবার, এপ্রিল ২৬, ২০১৭ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ বেশ কিছু মুসলিম নামের উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করল চীন। মুসলিম প্রধান জিনজিয়াং প্রদেশে ওই সব নামকরণগুলির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে একটি মানবাধিকার সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে।  নিষিদ্ধ তালিকায় থাকা কোনও নাম যদি সন্তানের নামকরণের জন্য কেউ বেছে নেন, তা হলে সেই শিশুই সমস্যায় পড়বে।  কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সে ভর্তি হতে পারবে না। কোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধাও মিলবে না।  চিনা প্রশাসন এমন নির্দেশিকাই জারি করেছে বলে জানা যায়। রোজা নিষেধাজ্ঞা করলো চিন

চীন প্রশাসনের এই নতুন নিষেধাজ্ঞার খবর যে মানবাধিকার সংগঠনটি প্রকাশ্যে এনেছে,  সেই সংগঠনের নাম হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। যে নামগুলি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে,  গোটা পৃথিবীতেই সেই নাম বা সেই শব্দগুলি মুসলিমদের মধ্যে বহুল প্রচলিত।  কিন্তু ওই সব শব্দ কারও নাম হিসেবে ব্যবহৃত হলে তাঁদের মধ্যে ‘ধর্মীয় উগ্রতা’ বাড়বে বলে চিন প্রশাসন মনে করছে।

ইসলাম, কোরান, মক্কা, মদিনা, হজ, জিহাদ,  সাদ্দাম জিনজিয়াং প্রদেশে এই সব নামকরণ চলবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে চীনের কমিউনিস্ট সরকার। তালিকায় আরও অনেক নামই রয়েছে।  জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য চীন কমিউনিস্ট পার্টির যে নিজস্ব নামকরণ বিধি রয়েছে, তার আওতায় এই নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে বলে জানা যায়।  নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে কেউ যদি নিজের সন্তানের জন্য কোনও একটি নিষিদ্ধ নামই বেছে নেন,  তা হলে সেই শিশুর ঠিকানা সংক্রান্ত রেজিস্ট্রেশন হবে না বলে প্রশাসন জানিয়ে দিয়েছে। আর ওই রেজিস্ট্রেশন না হলে সে কোনও স্কুলে ভর্তি হতে পারবে না।  প্রাপ্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হবে। চিনের জিনজিয়াং প্রদেশে উইগুর মুসলিমদের উপস্থিতি বিপুল সংখ্যায়।  সেই সম্প্রদায়ের মধ্যে চিন বিরোধী কার্যকলাপ দিন দিন বাড়ছে। চীন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার দাবিতে জিনজিয়াং-এ সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপও চলছে দীর্ঘ দিন ধরেই।  সম্প্রতি উইগুরদের মধ্যে আইএস-এর প্রভাব বৃদ্ধির খবরও প্রকাশ্যে এসেছে।  কোনও ঝুঁকি না নিয়ে বেজিং তাই আরও কঠোর ভাবে সন্ত্রাসের মোকাবিলা করতে চাইছে। নামকরণে নিষেধাজ্ঞাও তারই অঙ্গ।

উল্লেখ্য, এর আগে গত রমজানে চীনে রোজা রাখায় উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করা হয়।  চীনের শিনঝিয়াং প্রদেশে প্রায় এক কোটি মুসলমানের বাস। সেখানকার কয়েকটি সরকারি অফিসের ওয়েবসাইটে রোজা  রাখা ও ধর্মীয় রীতি পালনের উপর নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হয়।  রাজ্যের করলা শহর কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে বলা হয়,  ‘‘সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও শিশুরা রোজা রাখতে পারবেন না এবং কোনো ধর্মীয় রীতি পালন করতে পারবেন না।”  এছাড়া রোজার মাসে খাবার ও পানীয়ের দোকানও বন্ধ রাখা যাবে না বলে জানানো হয়েছিল।  যদিও চীনের মন্ত্রিসভা জানিয়েছিল, মুসলমানরা চাইলে রোজার সময় তাদের রেস্তোরাঁ ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে পারে।

শুইমগু জেলার শিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে একটি নোটিস জারি করা হয়েছিল।  তাতে রোজার মাসে স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মসজিদে যেতে নিষেধ করা হয়েছিল।

শিনঝিয়াং রাজ্যের মুসলমানরা উইগুর সম্প্রদায়ের।  সেখানকার নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে উইগুরদের মাঝেমধ্যেই সংঘাত লেগে থাকে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, সংখ্যালঘু উইগুরদের উপর বিভিন্ন ধরনের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক নিষেধাজ্ঞা শিনচিয়াং রাজ্যে উত্তেজনার কারণ।  বিশ্ব উইগুর কংগ্রেস এর দিলশাত রক্ষিত রোজা রাখার উপর নিষেধাজ্ঞা জারির বিষয়ে নিন্দা জানিয়েছেন।  তিনি বলেন, ‘‘চীন মনে করে উইগুরদের ইসলামি বিশ্বাস বেইজিং-এর শাসকদের জন্য হুমকি৷”

ভারতের মুসলমানরা চীনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। তারা চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং এর প্রতিমূর্তি পুড়িয়েছিল।

এদিকে, শিনঝিয়াং প্রদেশের সরকারি কার্যালয় থেকে যখন রোজার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল তখন ঐ রাজ্যেরই শীর্ষ কমিউনিস্ট নেতা মুসলমানদের রোজার শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন।