বরিশাল প্লানেট ওয়াল্ড শিশু পার্কের নেই আকর্ষণ, হারিয়ে যাচ্ছে দর্শনার্থী!


❏ বুধবার, এপ্রিল ২৬, ২০১৭ দেশের খবর, বরিশাল

মোঃ ফেরদাউছ সিকদার- বরিশালের প্লানেট ওয়াল্ড শিশু পার্কের প্রতিষ্ঠার কয়েক বছর পর্যন্ত আর্কষণ থাকলেও বর্তমানে পার্কটির কোন আকর্ষণ আর দর্শক নেই বললেই চলে। ধীরে ধীরে পার্ক থেকে হারিয়ে গেছে বিনোদনের অনেক কিছু।

বরিশাল বিভাগের একমাত্র শিশু কিশোরেদের জন্য ছিল প্লানেট ওয়াল্ড শিশু পার্কটি। বাচ্চাদের বিনোদনের জন্য বিকাল হলেই ছুটতেন বিভিন্ন পেশাজীবি পরিবার। আর শিশুরাও এসে আনন্দ বিনোদনে মেতে ওঠতেন।

unnamedপার্কটির মধ্যে সবচেয়ে বেশি আকর্ষনের ছিল পশু পাখি। পার্কে ঢোকার ডান সাইডে ছিল পশুপাখির খাঁচা। একের পর এক খাঁচায় ছিল বিভিন্ন প্রজাতির পশু। ঠিকমত পরিচর্যা আর দেখাশোনার অভাবে কমতে থাকে পশু পাখিগুলো।

এখানে ছিল হরিণের বাচ্চাসহ বেশকিছু হরিণ। ধীরে ধীরে এভাবেই শুন্য হয়ে যায় খাঁচা। পরে খাঁচাগুলো সরিয়ে নিয়ে সেখানে লাগানো হয় গাছ গাছড়া। পার্কের মধ্যে ছিল বিভিন্ন খেলাধুলার ডেমো। খেলনার দোকান, বাঁশি, গান বাজনা তেমন হচ্ছেনা এখন।

পার্কটি সাজানো হয়েছে নতুনভাবে। এখন পার্কটির দর্শক হিসেবে একমাত্র ভরসা প্রেমিক যুগলরা। ভিন্নভাবে সাজিয়ে বিনোদন নষ্ট করে সেখানে এখন তৈরি হয়েছে প্রেমের আস্তানা। ভিতরে হরিণ বাগানের পাশের দোকানগুলোর পিছনে যেন বহুরূপী আস্তানা গড়ে তুলেছেন।

দোকানের পিছনে চা, কফির ছোট ছোট ছাউনি দিয়ে সুযোগ করে দিয়েছেন বিনোদন হারানোর। তবে প্রেম বিনোদন এখন চলছে স্কুল কলেজের ছাত্র/ছাত্রীদের। আকর্ষণ না থাকায় দর্শকদের ভীড় কম বলে প্রেম আর অশ্লিলতায় ভরা পার্কটি। প্রশাসনের হাতে অনেক প্রেমিক যুগল আটক হলেও তাদের সতর্ক করে ছেড়ে দিয়েছিল প্রশাসন। বর্তমানে পার্কটি দোকানী মালিকদের কৌশলেই চলছে।

তাছাড়া পার্কের পরিচালক শওকত হোসেন হিরুনের মৃত্যুর পরেও কোন পশু পাখি না আনায় এবং পার্কের বিনোদনের কোন উন্নয়ন আর পুরনো পশু পাখি না থাকার কারণে এই বিনোদন কেন্দ্রটি ক্রমেই আকর্ষণ হারিয়ে দর্শনার্থীও হারাতে হচ্ছে এখন।

এবিষয় পার্কের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সোহরাব আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পার্কে আগের মতন কোন দর্শক আসেনা। আগের তুলনায় দর্শক অনেক কম। আসবেও কিভাবে পার্কের মুল বিনোদন হলই পশু পাকি ও আরো বিনোদনের অন্যান্য যা দেখে শিশুদের মন আনন্দ আর উল্লাসে ভরে উঠবে। আমরা মালিকের কাছে এবিষয় অনেকবার বলেছি কিন্তু তারা এবিষয় কিছু না করলে আমরা কি করব।

অন্যদিকে জানায়ায়, বর্তমানে পার্কটি শেয়ারে তিন জনে পরিচালনা করছেন, জেবুন্নেছা আফরোজ এমপি, ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল আলম, সালাউদ্দিন কবির। তাদের সাথে এ বিষয় যোগাযোগের চেষ্টা করলে মোবাইল নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।