• আজ শুক্রবার। গ্রীষ্মকাল, ১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ২৩শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। সকাল ৬:০২মিঃ

আদালত বদল চেয়ে হাইকোর্টে ফের খালেদার আবেদন

⏱ | বুধবার, এপ্রিল ২৬, ২০১৭ 📁 জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর- জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আদালত পরিবর্তন চেয়ে ফের হাইকোর্টে আবেদন করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বুধবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদনটি জমা দেন তার আইনজীবী জাকির হোসেন ভূইয়া।

khaleda-zia-1পরে জাকির হোসেন সাংবাদিকদের জানান, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার বিচারক ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ কামরুল হোসেন মোল্লা এক সময় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইন শাখার পরিচালক ছিলেন। ওই সময় তিনি মামলাটি দেখভাল করেছিলেন। এজন্য গত ১৩ এপ্রিল বিচারক কামরুল হোসেন মোল্লার নিকট সুপ্রিম কোর্টের মতামতের জন্য প্রেরণের আবেদন করলে তা তিনি নাকচ করেন। পরে ২৭ এপ্রিল মামলার দিন ধার্য করা হয়। আগামীকাল মামলাটি শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

ওই দিন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কামরুল হোসেন মোল্লা এবং চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদারের প্রতি আলাদাভাবে অনাস্থার আবেদন করেন খালেদা জিয়া। শুনানির শেষ দুটি আদালত আবেদন নাকচ করে পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেন। বিচারকরা বলেন, মামলার এ পর্যায়ে এসে আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। তাই গ্রহণ করা যাচ্ছে না।

বিচারকরা খালেদা জিয়াকে হাইকোর্ট থেকে মামলার বিচারক পরিবর্তনের আদেশ নিয়ে আসতে বলেন। পরে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ১৮ মে এবং জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ২৭ এপ্রিল দিন ধার্য করেন দুই বিচারক।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০০৫ সালে কাকরাইলে সুরাইয়া খানমের কাছ থেকে ‘শহীদ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’-এর নামে ৪২ কাঠা জমি কেনা হয়। কিন্তু জমির দামের চেয়ে অতিরিক্ত এক কোটি ২৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা জমির মালিককে দেওয়া হয়েছে বলে কাগজপত্রে দেখানো হয়, যার কোনো বৈধ উৎস ট্রাস্ট দেখাতে পারেনি। জমির মালিককে দেওয়া ওই অর্থ ছাড়াও ট্রাস্টের নামে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

২০১০ সালের ৮ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের নামে তেজগাঁও থানায় দুর্নীতির অভিযোগে এ মামলা করেছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক হারুনুর রশিদ।

ওই মামলার অপর আসামিরা হলেন—খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

অন্যদিকে, ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশ্যে একটি বিদেশি ব্যাংক থেকে আসা দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ এনে এ মামলা করা হয়।