নবীগঞ্জে বিয়ের দাবীতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন, অত:পর বিয়ে


❏ বুধবার, এপ্রিল ২৬, ২০১৭ দেশের খবর, সিলেট

sdf


মতিউর রহমান মুন্না, নবীগঞ্জ থেকে:

নবীগঞ্জে বিয়ের দাবীতে প্রেমিকের বাড়িতে ৩দিন ধরে অনশন করছিলেন প্রেমিকা সেলিনা আক্তার শারমিন। অবশেষে গতকাল বুধবার দুপুরে বিয়ের পিড়িঁতে বসেছেন প্রেমিক ময়নুল ইসলাম ও প্রেমিকা সেলিনা আক্তার শারমিন। ১ লক্ষ টাকা দেনমোহর দিয়ে ময়নুলের বাড়িতে প্রেমিকজুটির বিবাহ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এ নিয়ে এলাকায় রসালো আলোচনা সমালোচনার ঝর বইছে। শত শত উৎসুক জনতা প্রেমিকজুটিকে এক নজর দেখার জন্য ভীড় প্রেমিকের বাড়িতে। ঘটনাটি ঘটেছে নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের কামারগাঁও গ্রামে।

সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের কামারগাঁও পয়েন্টস্থ মঈনুল টেলিকম এন্ড ডিজিটাল স্টুডিওর স্বত্ত্বাধিকারী ও কামারগাঁও গ্রামের আব্দুল খালিকের পুত্র মঈনুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে নুরগাঁও গ্রামের ক্ষুদে ব্যবসায়ী হুশিয়ার আলীর কন্যা সেলিনা আক্তার শারমিনের সাথে প্রেমের সখ্যতা গড়ে ওঠে। প্রায় ২বছর ধরে চলে তাদের প্রেম। এদিকে গত ২৩ এপ্রিল রোববার দুপুরে প্রথমেই মঈনুলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আসে প্রেমিকা শারমিন। সেখানে গিয়ে থাকে বিয়ের চাপ দিলে মঈনুল কোর্ট ম্যারেজের আশ্বাস দেয়। তবে এতে অস্মতি জানায় শারমিন। এ নিয়ে প্রেমিক প্রেমিকার মধ্যে দীর্ঘক্ষণ বাক বিতন্ডা হওয়ার পর অবশেষে মঈনুল তার এক ভাগিনাকে দিয়ে শারমিনকে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। মঈনুল হয়তো ভাবছিল শারমিন তাদের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবী জানালেই তার অভিভাবকরা হয়তো মান সম্মানের ভয়ে শারমিনকে মেনে নিতে পারেন।

কিন্তু ঘটনা ঘটেছে হিতে বিপরীত। উল্টো মঈনুলের অভিভাবকরা এ ঘটনায় যেন তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেন। পরিবারের এমন অবস্থা দেখে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় প্রেমিক মঈনুল। তবে অনড় থাকে প্রেমিকা শারমিন। বাড়িতে পাঠিয়েই মঈনুল গা, ঢাকা দিলেও মঈনুলের বাড়িতেই বিয়ের দাবীতে অনশন শুরু করে প্রেমিকা শারমিন। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ওই বাড়িতে উৎসুকজনতার ভীড় জমে ওঠে। এ নিয়ে গত সোমবার রাতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ এওলা মিয়াসহ স্থানীয় ইউপি সদস্য সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে মঈনুলের বাড়িতেই সামাজিক সালিশ বৈঠক বসিলে মঈনুল শারমিনের সাথে তার প্রেমের সর্ম্পককে অস্বীকার করে। এবং শারমিনকে বিয়ে করবেনা বলেও সোজা জানিয়ে দেয়! এতে বিচারকরা পড়েন বিপাকে।

সামাজিক বিচারে কোন সমাধান না হওয়াতে মধ্য রাতে বিচারকরা যার যার পথে চলে যান। এনিয়ে শারমিনের অভিভাবকরা পড়েন চরম হতাশায়। কিন্তু শারমিন অনড় অনশনে থেকে যায় শারমিন। এবং শারমিন ঘোষনা দেয় প্রেমিক ময়নুলের সাথে বিয়ে না হয়ে আত্মহত্যার পথ বেচে নিবেন। এ অবস্থায় পুলিশ ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে গতকাল বুধবার দুপুরে দীঘলবাক ইউপির কাজি ১ লক্ষ টাকা দেনমোহর দিয়ে বিয়ের কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।

ইনাতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই ধর্মজিৎ সিনহা বলেন, বিয়ের দাবীতে শারমিন নামের এক যুবতি ময়নুলের বাড়িতে অনশন করছিল। এনিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ একাধীকবার সালিশে বসে  সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। অবশেষ বুধবার সকালে উভয় পরিবারের মতামতে বিবাহ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

এ ব্যাপারে দীঘলবাক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ এওলা মিয়ার সাথে আলাপকালে তিনি অনশনের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিয়ের বিষয়টি সালিশে বসে সমাধানের চেষ্টা করেছিলাম। তবে লোকমুখে ও মোবাইল ফোনে শুনেছি তাদের বিয়ের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।