🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ বৃহস্পতিবার, ১০ আষাঢ়, ১৪২৮ ৷ ২৪ জুন, ২০২১ ৷

ঘন ঘন জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতির সমালোচনা করলেন আইনমন্ত্রী


❏ বুধবার, এপ্রিল ২৬, ২০১৭ Breaking News, জাতীয়, স্পট লাইট

সময়ের কণ্ঠস্বর:  ‘সব সরকারের আমলেই বিচার বিভাগের সঙ্গে বিমাতা সূলভ আচরণ চলে আসছে। প্রশাসন কখনোই চায় না বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে চলুক অথচ বিচার বিভাগ প্রশাসনেরও নিরাপত্তা দিয়ে থাকে। কিন্তু আমলাতন্ত্র সবসময় বিচার বিভাগকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে।’ গতকাল হবিগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেছিলেন।  আজ এই কথার পরিপেক্ষিতে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক মন্তব্য করে বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য দেশের প্রধান বিচারপতিরা বিচার কাজ ছাড়া পাবলিকলি এত কথা বলেন না।

বুধবার (২৬ এপ্রিল) সচিবালয়ে আগামী ২৮ এপ্রিল জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন।

এ বিষয়ে আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি প্রসঙ্গটি এড়িয়ে প্রধান বিচারপতির ঘন ঘন জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ারই সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতির প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই বলছি, অন্য দেশগুলোর প্রধান বিচারপতিরা পাবলিকলি (জনসমক্ষে) এত উষ্মা প্রকাশ করেন না, এত কথা বলেন না। এটা তিনি (প্রধান বিচারপতি) নিজেও জানেন। তিনি তো আমাদের পাশের দেশের প্রধান বিচারপতিকেও দেখছেন।

সম্মেলনে আইনমন্ত্রী বলেন, আপনার যদি কোনও দুঃখ-কষ্ট থাকে কিংবা কোনও উষ্মা প্রকাশ করার থাকে কিংবা কোনও কথা বলার থাকে, সেটা পাবলিকলি না বলে আমাদের বলুন। আপনার যে কোনও দুঃখ-কষ্ট বা সমস্যার কথা জানতে পারলে আমরা সেই সমস্যা সমাধান করার উদ্যোগ নিতে পারতাম। সমস্যার সমাধান করতে পারতাম।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একজন সহকারী জজের বেতন ১৭ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩১ হাজার টাকা করেছে। একজন জেলা জজের বেতন ৪০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৮ হাজার টাকা করেছে। হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতির বেতন ৪৯ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯৫ হাজার টাকা করেছে। আপিল বিভাগের একজন বিচারপতির বেতন ৫৩ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা করেছে এবং প্রধান বিচারপতির বেতন ৫৬ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা করেছে। শুধু তাই নয়, বিচারপতিদের সম্মান অক্ষুণ্ন রাখতে তাদের বাসস্থানসহ সব ধরনের আনুষাঙ্গিক সুযোগ-সুবিধাও বাড়িয়েছেন। বিচার বিভাগকে সরকার কতটা গুরুত্ব দেয়, এসব উদ্যোগ তারই প্রমাণ বহন করে। শেখ হাসিনার সরকার বিচার বিভাগের কোনও কাজে কোনও ধরনের হস্তক্ষেপ করছে না, অতীতেও করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না। এরপরও যদি কেউ বলেন যে বর্তমান সরকার বিচার বিভাগের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করছেন, তা হবে অত্যন্ত দুঃখজনক।

এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগের প্রতি বর্তমান সরকার বিমাতাসুলভ আচরণ করছে, এমন কোনও নজির আমি দেখিনি। বিচার বিভাগের সঙ্গে সরকারের কোনও বিরোধও আমি দেখি না।

উল্লেখ্য, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বিষয়ে এবং শাসন ব্যবস্থার বিভিন্ন অসঙ্গতি তুলে ধরে বিভিন্ন সময়ে বক্তব্য দিয়ে আসছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। তার একাধিক মন্তব্য নিয়ে সরকার বিব্রত হওয়ায় দুপক্ষে খানিকটা দূরত্বের সৃষ্টি হয়।