• আজ ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

রংপুরের মিঠাপুকুর জায়গীরহাটে দূর্ভোগ চরমে

৫:৫৩ পূর্বাহ্ন | বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৭, ২০১৭ দেশের খবর, রংপুর

18195542_451893908488352_523961065_o


শাহরিয়ার মিম,রংপুর:

অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে মিঠাপুকুরের কিছু সড়ক। দীর্ঘদিন থেকে সংস্কার না হওয়ায় সড়কগুলো ভেঙ্গে ছোট বড় খালা খন্দের ন্যায় সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এগুলোকে ছোট পুকুরের মত মনে হয়। বিশেষ করে উপজেলার হাটগুলোর সড়কের বেহাল দশায় ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী সহ এলাকাবাসির দূর্ভোগ চরমে উঠেছে। উপজেলার কয়েকটি বড় বড় হাট ঘুরে একই চিত্র চোখে পড়েছে। সম্প্রতি বৃষ্টিতে হাটগুলোর সড়কের বেহাল দশার অভিযোগ আসতে থাকে সময়েরকন্ঠসর রংপুর অফিসে।

তথ্যের সূত্র ধরে মিঠাপুকুর উপজেলার জায়গীরহাট ও শুকুরেরহাটের খোজ খবর নিতে যায় সময়ের কন্ঠসরের প্রতিবেদক। দেখা যায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এ দুটি হাটে। সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগি হয়ে উঠে। বড় বড় গর্ত, কাদা পানিতে সৃষ্টি হয়ে পুকুরের আকার ধারন করে সড়কগুলো। গর্তে রিসকা, ভ্যান, সাইকেল, মটরসাইকেল উল্টে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। গর্তে আটকা পড়ে পিকআপ, ট্রাকের যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটও সৃষ্টি হচ্ছে।

শুকুরের হাটের বাজারের ভিতরের সড়ক গুলোর সামান্য বৃষ্টিতে কাদা পানিতে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছে জায়গীরহাটের ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী সহ এলাকাবাসি। দেখে মনে হবে এ সড়কগুলোর কোন অভিভাবক নেই। জায়গীরহাটের উপর দিয়ে চলে যাওয়া বালারহাট সড়কের পানি জমে পুকুরের আকার ধারন করছে। এতে যানবাহন চলাচলতো দুরের কথা পায়ে হেটে যাওয়াও দুস্কর হয়ে দূর্ভোগ চরমে উঠেছে। হাটের উপরে সড়কের পাশে ড্রেন থাকলেও এগুলো ভেঙ্গে গেছে। জায়গীরহাট থেকে প্রতিদিন প্রায় ছোট বড় ৫০টি ট্রাক সবজি, ধান, চাল নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যায়।

অনেক সময় ভাঙ্গা গর্তে আটকাপড়ে এই ট্রাকগুলোর যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। এতে বাজারের উপড়েই যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। জায়গীরহাটের ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন জানান উপজেলা প্রশাসন প্রতি বছর হাট থেকে কোটি টাকার উপড়ে আদায় করছে। অথচ হাটের সড়কগুলোর কোন সংস্কার করছে না। প্রায়ই টোল আদায় নিয়ে ব্যবসায়ীদের সাথে ইজারাদারের সংঘর্ষের রুপ নিচ্ছে।

ধান,চাল ও ইট ব্যবসায়ী আদিল চৌধুরী জানান জায়গীর বাসস্ট্যান্ড থেকে বাজারের ভিতর দিয়ে সড়কটি চলাচলের অনুপোযোগী হওয়ায় এখানে পণ্য পরিবহনের জন্য ট্রাকগুলো আসতে চায় না। অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। একই কথা বলেন ঢাকা, খুলনা সহ দেশের বিভিন্ন ¯স্থানে সবজি সরবরাহকারী আক্কাস মিয়া। তিনি বলেন গ্রাম থেকে সবজি আনা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো পর্যন্ত সবজি পাঠাতে অতিরিক্ত খরচ বেড়ে গেছে ব্যবসায়ীদের।বাইরের ব্যবসায়ীরা ধীরে ধীরে জায়গীরহাটে আসাই বন্ধ করে দিচ্ছে। এর ফলে এলাকার চাষীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখিন হবে।