• আজ শুক্রবার। গ্রীষ্মকাল, ১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ২৩শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। রাত ১২:২৮মিঃ

শিবগঞ্জের ‘জঙ্গি আস্তানায়’ ফের শুরু হয়েছে অপারেশন ‘ঈগল হান্ট’

⏱ | বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৭, ২০১৭ 📁 Breaking News, আলোচিত বাংলাদেশ, স্পট লাইট

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানায় ফের শুরু হয়েছে অপারেশন ঈগল হান্ট। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে অভিযান শুরু হয়। অভিযান শুরুর পরপরই গুলির শব্দ পাওয়া যায়।

বুধবার ভোর থেকেই পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সদস্যরা শিবগঞ্জ উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের শিবনগর এলাকায় ওই বাড়িটি ঘিরে রেখেছে। রাতে অভিযানে বিরতি ঘোষণা করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছানোর পরপরই ফের অভিযান শুরু হয়। এর আগে বুধবার রাত ৯টা ৫ মিনিটে ওই আস্তানার সামনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত এই অভিযান স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন সিটিটিসির স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের (এসএজি) উপ-পুলিশ কমিশনার প্রলয় কুমার জোয়ার্দার। এ সময় তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে অভিযান আবারও শুরু করা হবে।

বুধবারের প্রেসব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আমরা এখনও ভেতরে প্রবেশ করতে পারিনি। ফলে ভেতরে কয়জন আছে, তা বলতে পারছি না। অন্য এক প্রশ্নের তিনি বলেন, জঙ্গিরা চার থেকে পাঁচটি বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। আমাদের ধারণা, তারা পুরাতন জেএমবির সদস্য।

জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে রাখা বাড়িটির ভেতর আবু আলী নামে এক জঙ্গি ও তার স্ত্রীসহ কয়েকজন থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন সিটিটিসির সদস্যরা। একটি আমবাগানের ভেতরে বাড়িটির অবস্থান। বুধবার ভোরবেলা বাড়িটি ঘেরাও করার পরপরই কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সাধারণ লোকজনের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণের জন্য আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।

সিটিটিসি সূত্রে আরও জানা গেছে, বাড়ির মালিকের নাম ঝিন্টু হাজি। তিনি সেখানে থাকেন না। আবু আলী নামের একজন প্রায় দুই মাস আগে বাড়িটি ভাড়া নেয়। স্ত্রীকে নিয়ে সে ওই বাড়িতে ওঠে। এই আবু আলী-ই জঙ্গি বলে ধারণা পুলিশের।

কাউন্টার টেরোরিজমের এক কর্মকর্তা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সকালে প্রথমে কানসাট ইউনিয়নের আব্বাস বাজার এলাকার তিনটি বাড়ি ঘেরাও করা হয়। তবে সেখানে জঙ্গির কোনও অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। পরে শিবগনগর এলাকায় অন্য একটি বাড়ি ঘেরাও করে তল্লাশি শুরু করতে যায় কাউন্টার টেরোরিজমের সদস্যরা। এ সময় ওই বাড়ি থেকে পুলিশকে লক্ষ করে গ্রেনেড ছোড়া হয়। জবাবে পুলিশও কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এখন পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

শিবগঞ্জ থানার ওসি হাবিবুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার রাত থেকেই সিটিটিসির সদস্যরা ওই বাড়িতে অভিযানের প্রস্তুতি শুরু করেন।