• আজ ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

হাওরে পানির স্বাভাবিক অবস্থায় উৎপন্ন মাছের পোনা, ধানের পঁচনই হাওর বিপর্যয়ের প্রধান কারণ – মৎস্য বিশেষজ্ঞরা

৫:১২ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৭, ২০১৭ শিক্ষাঙ্গন

নাজিব মুবিন, বাকৃবি প্রতিনিধি: অতিরিক্ত বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে নেমে আসা বন্যায় হাওরে অপরিপক্ক ধান পানিতে পঁচে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায় এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে পানির অম্লত্ব বৃদ্ধি পায়।

এর ফলেই হাওর অঞ্চলের মাছের মড়ক দেখা দেয়। কোন ভারি ধাতু বা তেজস্ক্রিয় পদার্থের কারণ লক্ষ করা যায়নি। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে বর্তমানে পানি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। হাওরের পাড়ের খাড়িতে বেঁচে যাওয়া ব্রুড মাছ (পিতা-মাতা মাছ) প্রচুর ডিম দিচ্ছে এবং তা থেকে পোনা উৎপন্ন হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যারয়ের (বাকৃবি) মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের সভা কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, সিলেটের টাঙ্গুয়ার হাওর, জামালগঞ্জের হালির হাওর ও সুনামগঞ্জের দেখার হাওর পরিদর্শন করে এ গবেষণা রিপোর্ট করা হয়েছে। মাছের আকস্মিক মৃত্যুর ধরণ ও ব্যাপকতা দেখে বোঝা যায় কোনো জীবাণু বাহিত রোগের কারনে মাছের মৃত্যু হয়নি। পরীক্ষায় হালির হাওরের পানির অম্ল-ক্ষারের মাত্রা ছিল ৬.৬৬-৬.৮৩ ও অক্সিজেনের ব্যাপ্তি ছিল ৪.৩০-৪.৭৬। যা স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে কম। শুরুর দিকে এ অবস্থা আরও কম থাকায় মাছের অকাল মৃত্যু হয়েছে। গত ১২ চৈত্র বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের প্রায় ২২ দিন পর মাছের মড়ক দেখা দেয়। যদি পানিতে কোনো ধরনের ভারী পদার্থ বা তেজস্ক্রিয় পদার্থ থাকত তাহলে পানি আসার শুরু থেকেই মাছ মারা যেত।

গবেষণায় দেখা যায়, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে হাওরের সার্বিক পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে ১৯ প্রকারের মাছ ও জলজ প্রাণির পোনা পাওয়া গেছে। এদিকে পচাঁ ধান খেয়ে পাতলা পায়খানা হয়ে হাঁসের মৃত্যু হয়েছে। হালির হাওর থেকে পাওয়া মৃত হাঁসের রক্তের ডি এন এ পরীক্ষা করে কোন বিষাক্ত দ্রব্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।