• আজ ৩রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

যেভাবে ময়লা খাবার খেয়ে কেটেছে অপহৃত শিশু সুমাইয়ার ২৫ দিন!

৫:৩৯ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৭, ২০১৭ Breaking News, আলোচিত বাংলাদেশ, স্পট লাইট

নিজস্ব প্রতিবেদক, সময়ের কণ্ঠস্বর: রাজধানীর কামরাঙ্গীর চর এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ বছরের শিশু সুমাইয়াকে ২৫ দিন পর গতরাতে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ সুমাইয়ার বাড়ির পাশের ভাড়াটিয়া সিরাজ মিয়া (৫৫) ও তার মেয়ে অথৈ আক্তার বৃষ্টিকে গ্রেফতার করেছ।

বুধবার (২৭ এপ্রিল) রাতে উদ্ধারের পর বৃহস্পতিবার সকালে শিশুটিকে তার বাবা-মায়ের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় হাসিমুখে দেখা যায় পরিবারটিকে।

এলাকার সবার কাছে আদুরে মেয়ে সুমাইয়া। ‘অপহরণের শিকার’ হয়ে ২৫ দিন মা-বাবা ছেড়ে কেটেছে তার জীবন। ময়লা খাবারে দিন কাটানোর পাশাপাশি ছিল মারধর আর অত্যাচার। মেয়েকে ফিরে পেয়ে এসব কথাগুলো বললেন ‘অপহৃত’ শিশু সুমাইয়া আক্তারের বাবা।

দীর্ঘ ২৫ দিন পর মেয়েকে ফিরে পেয়ে আবেগ-আপ্লুত হয়ে জাকির হোসেন বলেন, সুমাইয়া ঘুমাচ্ছে। মেয়েটা আমার কয়দিন ঘুমাতে পারেনি। ওরা খুব ভয় দেখিয়ে তাকে বলেছে, তার বাবা মা মারা গেছে, এখন থেকে ওদের সঙ্গেই থাকতে হবে। ফুটফুটে মেয়েটাকে এতোদিন ময়লা খাবার খেতে দিয়েছে, রোদে রোদে ঘুরিয়েছে।

তিনি বলেন, তাকে কিভাবে অত্যাচার করা হয়েছে সবকিছু সে তার মায়ের কাছে বলেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন সেই মোতাবেক পদক্ষেপ নেবে।

জাকির হোসেন বলেন, আমরা যে বাসায় থাকি সে বাসায় আগে থাকতেন অপহরণকারী অথৈ আক্তার বৃষ্টি। আমার মেয়েকে যেদিন ধরে নিয়ে যায় সেদিন বোরকা পড়ে এসেছিলো। আমার মেয়েকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর একবারও ফোন দেয়নি আর কোনো মুক্তিপণও চায়নি।

তাহলে কেন সুমাইয়াকে অপহরণ করেছে জানতে চাইলে তার বাবা বলেন, আমি বার বার অপহরণকারী বৃষ্টির কাছে জিজ্ঞেস করেছি। সে শুধু একটা কথাই বলে, সুমাইয়াকে ভালো লাগতো তাই আমাদের কাছে রেখেছি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান বলেন, ‘প্রযুক্তি ও সোর্সের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি অপহরণকারী ওই নারী কদমতলী থানা এলাকায় অবস্থান করছে। পরে ওই এলাকায় ব্লক রেইড দিয়ে বুধবার গভীর রাতে পাটেরগাঁওয়ের একটি বাড়ি থেকে শিশু সুমাইয়াকে উদ্ধার করা হয়।’ অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

ডিসি ইব্রাহিম খান বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পেরেছি অপহরণের সঙ্গে জড়িত বৃষ্টি নারী ও শিশু পাচারকারী চক্রের সদস্য। তিনি গত কিছুদিনের মধ্যে কয়েকবার ভারত গিয়েছিলেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন। অপহৃত শিশু সুমাইয়াকেও সময়-সুযোগ বুঝে ভারতে পাচার করা হতো বলে আমরা মনে করছি।

তিনি বলেন, শিশুটিকে আপাতত মা-বাবার কাছে বুঝিয়ে দেয়া হলেও তাদের সবাইকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে সুমাইয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে।’

গেলো ২ এপ্রিল কামরাঙ্গীরচরের বড়গ্রাম এলাকায় বাড়ির সামনে থেকে নিখোঁজ হয় সুমাইয়া। এ ঘটনায় সুমাইয়ার বাবা জাকির হোসেন ২৪ এপ্রিল কামরাঙ্গীরচর থানায় অপহরণ মামলা করেন। নিখোঁজের ২২ দিন পুলিশের সব কটি বাহিনী সুমাইয়ার খোঁজে মাঠে নামে। সুমাইয়ার বাবা জাকির হোসেন স্টিল কারখানার কর্মচারি, মা গৃহিণী।