• আজ ২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ক্ষুধাকে রাজনৈতিকভাবে ক্যাশ করছেন আওয়ামী সরকার: রিজভী

৬:২৬ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৭, ২০১৭ Breaking News, জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর: হাওরাঞ্চলে ত্রাণসামগ্রী বিতরণে সরকার বিএনপির প্রতিনিধি দলকে যেতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন দলেটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

রিজভী বলেন, আগামীকাল শুক্রবার সুনামগঞ্জ ‘হাওর অঞ্চলে’ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমানের নেতৃত্বে ‘জাতীয় ত্রাণ কমিটি’র প্রতিনিধি দল ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করতে যাওয়ার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিলেও বুধবার স্থানীয় প্রশাসন জানায়, আগামী রবিবার হাওর অঞ্চল পরির্দশনে আসবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিরাপত্তার স্বার্থে এই মুহূর্তে অন্য কোনো দল বা সামজিক সংগঠন কাউকে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করতে দেয়া হবে না।

তিনি বলেন, ক্ষুধাকে আওয়ামী সরকার রাজনৈতিকভাবে ক্যাশ করছেন। ‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত দুর্গতদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণে সরকারি তৎপরতা যেটুকু হচ্ছে তা অপ্রতুল। চারদিকে হাহাকার, পৌঁছায়নি কোনো প্রকার সহায়তা। প্রধানমন্ত্রী চলে যাওয়ার পরও বিএনপির প্রতিনিধি দল সেখানে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করতে পারবে কী না সেটা স্থানীয় প্রশাসনের উপর নির্ভর করছে। শুধু তাই নয়, সরকার হাওর পাড়ের বিধ্বস্ত মানুষকে সহায়তা করতে নানান সামাজিক ও রাজনৈতিক দলগুলোকে ত্রাণসামগ্রী তৎপড়তা চালাতেও বাধা দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, হাওর অঞ্চলের মানুষের অসহায়ত্ব নিয়ে সরকার যে আজ উপহাস করছে সেটা জনমনে সুস্পষ্ট। কারণ হাওর সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার বিদেশ সফর তাই প্রমাণ করে। এ সময় তিনি অবিলম্বে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করার দাবিও জানান।

আওয়ামী লীগের এক মন্ত্রীর সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র এই নেতা আরো বলেন, সম্প্রতি হাওর এলাকা নেত্রকোনায় সরকারের এক মন্ত্রী মাত্র গুটি কয়েক দুর্গত মানুষকে ত্রাণ দিয়ে ঢাকায় চলে এসেছেন। এ সময় হাজার হাজার মানুষ ত্রাণের জন্য অপেক্ষায় থাকলেও মন্ত্রী হাত নাড়িয়ে চলে আসেন। তাই বাধ্য হয়ে ফসল হারা মানুষ খালি হাতেই ঘরে ফিরে।

পৃথিবীর কোনো প্রধান বিচারপতি এত কথা বলেন না বলে আইনমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, পৃথিবীর কোনো দেশে বিচার বিভাগের উপর এত হস্তক্ষেপ করা হয় কি না সন্দেহ। বাংলাদেশে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। বিপরীতে দণ্ডিতরাও বীরদর্পে মন্ত্রীত্ব চালিয়ে যায়- এমনটি কোন দেশে?

তিনি আরো বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলে এসেছি যে, বিচার বিভাগের উপর নির্বাহী বিভাগ বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তার করে। ক্ষমতাসীনদের জন্য এক আইন আর বিরোধী দলের জন্য আরেক আইন। ফলে ন্যায়বিচার বনবাসী হয়েছে।

শ্রমিক সমাবেশ সর্ম্পকে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘১ মে আর্ন্তজাতিক শ্রমিক দিবস। এই দিন শ্রমিকরা সমাবেশ করবে এটাই স্বাভাবিক। শ্রমিক দলও এই দিনে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটি শ্রমিক সমাবেশ করে থাকে। এবারও সেই প্রস্তুতি নিয়েছে। এটা বিএনপির সমাবেশ নয়। তবে আমি সর্বশেষ যতটুকু জানি ১ মে সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হবে না জানতে পেরেই শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নাসিম ডিএমপি বরাবর আবেদন করেছেন এই মর্মে যে, ২ অথবা ৩ মে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক সমাবেশের অনুমতি দেয়া হউক। আর এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।