• আজ সোমবার। গ্রীষ্মকাল, ৬ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ১৯শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। সন্ধ্যা ৬:১০মিঃ

“ভারতে চিকিৎসাসেবা” ১ বছরে দেশ থেকে গেছে ৩৪ কোটি ৩৫ লাখ ডলার

৮:৪১ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৭, ২০১৭ আপনার স্বাস্থ্য

স্বাস্থ্য ডেস্কঃ দেশের মানুষের চিকিৎসাসেবার গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হয়ে উঠেছে ভারত। বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতি বছর চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে পাড়ি জমাচ্ছে বিপুল সংখ্যক রোগী। এক্ষেত্রে সবার উপরে আছে বাংলাদেশ। ভারতের সরকারি উপাত্ত বলছে, দেশটিতে চিকিৎসাসেবা নেয়া প্রতি তিনজনের একজন বাংলাদেশী।

দেশের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের চিকিৎসাসেবা নিয়ে মানুষের মধ্যে আস্থার অভাব রয়েছে। অভিযোগ আছে অতিরিক্ত ব্যয়েরও। অন্যদিকে ভারতের চিকিৎসা ব্যবস্থার দ্রুত উন্নতির পাশাপাশি বাংলাদেশীদের জন্য ভিসাপ্রাপ্তিও সহজ করেছে দেশটি। এসব কারণে বাংলাদেশ থেকে ভারতে চিকিৎসা নিতে যাওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়ছে।

স্বাস্থ্যসেবা রফতানি নিয়ে ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন ডিরেক্টরেট জেনারেল অব কমার্শিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিকস (ডিজিসিআইঅ্যান্ডএস) একটি সমীক্ষা চালিয়েছে। সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ভারতে চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারী বিদেশী নাগরিকদের মধ্যে সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি ছিল বাংলাদেশী। অর্থবছরটিতে ভারতে চিকিৎসাসেবা নিয়েছে মোট ৪ লাখ ৬০ হাজার জন বিদেশী। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকেই গেছে ১ লাখ ৬৫ হাজার জন।

তথ্যমতে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রায় ৫৮ হাজার বাংলাদেশী নাগরিককে মেডিকেল ভিসা দিয়েছে ভারত। তবে পর্যটন ভিসায় ভারতে যাওয়া বাংলাদেশীদের অধিকাংশেরই লক্ষ্য থাকে চিকিৎসা নেয়া।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. রশিদ-ই-মাহবুব বলেন, কয়েকটি কারণে বাংলাদেশের মানুষ ভারতে চিকিৎসা নিয়ে থাকে। প্রথমত. যোগাযোগ ব্যবস্থা; উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকায় আসতে যত সময় লাগে, ভারত যেতে লাগে তার চেয়ে কম সময়। তাছাড়া আমাদের কিছু জায়গায় ঘাটতি রয়েছে। দক্ষতার অভাবের পাশাপাশি চিকিৎসকদের ব্যবহারও অনেক ক্ষেত্রে রোগীবান্ধব নয়। রোগীর সঙ্গে যোগাযোগের দক্ষতায় ঘাটতি রয়েছে। এসব কারণেই মূলত বেশি সংখ্যক রোগী ভারতে যাচ্ছে।

ভারতে মেডিকেল ভিসা গ্রহণের দিক থেকে বাংলাদেশের পরই রয়েছে আফগানিস্তান। ২০১৫-১৬ অর্থবছর দেশটির ২৯ হাজার ৪৯২ জন নাগরিক ভারতের মেডিকেল ভিসা পেয়েছে। এছাড়া ৯ হাজার ১৩৯টি মেডিকেল ভিসা পায় ইরাক, ৫ হাজার ৯৯৪টি নাইজেরিয়া ও ৩ হাজার ২৪০টি কেনিয়ার নাগরিকরা। অর্থবছরটিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের ১ লাখ ৪১ হাজার ২৮৭টি মেডিকেল ভিসা দিয়েছে ভারত। যেসব রোগী ভারতে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছে, তাদের বেশির ভাগই অর্থোপেডিকস, কার্ডিওলজি ও নিউরো সংক্রান্ত রোগে আক্রান্ত।

মেডিকেল ট্যুরিজম থেকে ভারতের আয়েরও সিংহভাগ অর্থাৎ ৫০ শতাংশই যাচ্ছে বাংলাদেশ থেকে। ডিজিসিআইঅ্যান্ডএসের হিসাবে, ২০১৫-১৬ অর্থবছর মেডিকেল ট্যুরিজম থেকে দেশটি আয় করেছে মোট ৮৮ কোটি ৯৩ লাখ ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকেই গেছে ৩৪ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১১ কোটি ১৩ লাখ ও ইরাক থেকে ৫ কোটি ডলার আয় করেছে দেশটি।

ভারতে রোগীপ্রতি ব্যয়েও ওপরের দিকে রয়েছে বাংলাদেশ। এক্ষেত্রে পাকিস্তানের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। ভারতে চিকিৎসা গ্রহণে বাংলাদেশী রোগীদের ক্ষেত্রে জনপ্রতি ব্যয় হয়েছে গড়ে ২ হাজার ৮৪ ডলার। এর চেয়ে বেশি ২ হাজার ৯০৬ ডলার ব্যয় করেছে পাকিস্তানিরা।

ভারতে বিদেশী পর্যটকের উৎস দেশ হিসেবেও বাংলাদেশ এখন শীর্ষে। ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ থেকে ভারতে গেছে ১৩ লাখ ৭০ হাজার পর্যটক, ২০১৫ সালের চেয়ে যা ২১ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশ থেকে পর্যটক বৃদ্ধির পেছনেও রয়েছে দেশটিতে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ।

ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠান ক্যারাভান বিডি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহসান হাবিব এ প্রসঙ্গে বলেন, চিকিৎসার প্রয়োজনে প্রচুর বাংলাদেশী ভারত ভ্রমণ করছে। মূলত বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবার ওপর আস্থা হারানোয় এ প্রবণতা বাড়ছে। চেন্নাইয়ে অনেক হাসপাতাল রয়েছে, যেগুলোর বিদেশী রোগীর প্রায় অর্ধেকই যায় বাংলাদেশ থেকে। তাছাড়া ভিসা প্রক্রিয়া সহজ ও চিকিৎসা ব্যয় কম হওয়ায় অনেকেই ভারতে যাচ্ছে। চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশী নাগরিকদের আকৃষ্ট করতে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া আরো সহজ করেছে দেশটি।

রোগ নির্ণয়ের জন্য ভারত ভ্রমণকারী বাংলাদেশী নাগরিকরাও চিকিৎসা ভিসার জন্য উপযুক্ত বিবেচিত হবে। ১৭ এপ্রিল এক বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন জানায়, দুই দেশের মানুষে-মানুষে বন্ধন আরো জোরালো করার পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য চিকিৎসা ভিসা প্রদানের নিয়মাবলি শিথিল করা হয়েছে। চিকিৎসা ভিসার জন্য আবেদনপত্রের সঙ্গে যেকোনো স্বীকৃত ভারতীয় হাসপাতাল অনুমোদিত সাক্ষাতের প্রমাণপত্র ও রোগের বিষয়ে আলোকপাত করে বাংলাদেশের চিকিৎসকদের রোগ নির্ণয়পত্র অবশ্যই সংযুক্ত করতে হবে। চিকিৎসা ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে অন্যান্য নিয়ম-কানুন ও শর্ত অপরিবর্তিত থাকবে। বর্তমানে চিকিৎসা ভিসার জন্য আবেদনপত্রগুলো গুলশান, ঢাকা ও ঢাকার বাইরে সব ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে সরাসরি গ্রহণ করা হচ্ছে।