• আজ সোমবার। গ্রীষ্মকাল, ৬ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ১৯শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। সন্ধ্যা ৬:৩৪মিঃ

সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে ভাস্কর্যটিকে শাড়ি পড়িয়ে বিকৃত করা হয়েছে

১০:০১ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৭, ২০১৭ ঢাকা, দেশের খবর

ঢাকাঃ দেশের সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে ভাস্কর্য সরিয়ে ফেলার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নেতারা। তাঁরা বলেছেন, বিশ্বে ন্যায় বিচারের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত ভাস্কর্যটিকে শাড়ি পড়িয়ে শিল্পকর্মটিকেই বিকৃত করা হয়েছে। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের চারজন নেতা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির নেতাদের সাথে মতবিনিময় করেন।

এই ভাস্কর্যটি সরিয়ে নেয়ার জন্য হেফাজতে ইসলাম সহ কট্টরপন্থী বিভিন্ন সংগঠন বাংলাদেশে আন্দোলন করছে। হেফাজতে ইসলামের নেতা আহমাদ শফিকে নিয়ে কয়েক সপ্তাহ আগে এক অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে ভাস্কর্য সরানোর ব্যাপারে তাদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল, ভাস্কর্যটি সঠিকভাবে স্থাপন করা হয়নি বলে তিনিও মনে করেন। হেফাজতের দাবি অনুযায়ী পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তনের অভিযোগ নিয়ে চলা বিতর্ক তখন আরও জোরালো হয়েছিল। এরই মাঝে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের অনুষ্ঠান এবং মঙ্গল-শোভাযাত্রা করার ক্ষেত্রে কঠোর নিরাপত্তা বা কড়াকড়ি আরোপের ফলে এবার তা ততটা স্বত:স্ফূর্ত হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।

ক্ষমতাসীনদের এমন অবস্থানের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ সমর্থক সুশীল সমাজ এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরাই সরব হয়ে ওঠেন। এমন প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেই আমন্ত্রণ জানিয়ে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নেতাদের সাথে মতবিনিময় করা হয়েছে। সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস বলেছেন, আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে তাঁরা তাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। তবে সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে ভাস্কর্যটি বিকৃতভাবে স্থাপন করা হয়েছে বলে তাঁরাও মনে করেন।

তিনি বলছিলেন, “অতিরিক্ত বাড়াবড়ি ও নিষেধাজ্ঞার কারণে আমরা পহেলা বৈশাখ যেভাবে প্রাণের উৎসব হিসেবে উদযাপিত হয়, আমরা সেভাবে করতে পারিনি। আমরা সেই কথাগুলো বলেছি।” “সুপ্রিম কোর্ট চত্বরের ভাস্কর্য ইস্যু নিয়েও কথা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যে মনে করেন, গ্রিসে যেভাবে ভাস্কর্য আছে তার নান্দনিক সৌন্দর্য নষ্ট করে এখানে এটাকে বিকৃত করা হয়েছে। সেই বক্তব্যই আওয়ামী লীগ নেতারা আমাদের বলেছেন।”

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য তাঁরা সমর্থন করেন কি না, সেই প্রশ্নে গোলাম কুদ্দুস বলছিলেন, “নান্দনিক সৌন্দর্য ব্যাহত হয়েছে, এটা আমরা অবশ্যই মনে করি। কারণ এই ভাস্কর্য যেভাবে নির্মাণ করার কথা ছিল, সেখানে এটাকে শাড়ি পরানোর কোনও যৌক্তিকতা নেই।” তাহলে সাংস্কৃতিক জোটের এই নেতারা ভাস্কর্যটি সরিয়ে ফেলার অবস্থানকে সমর্থন করেন কিনা, সেই প্রশ্নে সরাসরি কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গোলাম কুদ্দুস বলেছেন, “ভাস্কর্যটি সরানোর পক্ষে আমাদের কোনও বক্তব্য নেই। আমরা যে কোনও সৃষ্টিশীল নান্দনিক ভাস্কর্যের পক্ষে।” গোলাম কুদ্দুসের সাথে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক দু’জন সভাপতি রামেন্দু মজুমদার, নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু এবং বর্তমান সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ অংশ নেন আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে ঐ মতবিনিময়ে। সাংস্কৃতিক আন্দোলনের আরেকজন নেতা মামুনুর রশিদ মনে করেন, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে ভাস্কর্যটির ভুল সংশোধন করে সেখানেই তা বহাল রাখা উচিত বলে তিনি উল্লেখ করেন। এদিকে আওয়ামী লীগের নেতাদের অনেকে মনে করেন, হেফাজত এবং ভাস্কর্য ইস্যুতে ভুল বোঝাবুঝি বা বিভ্রান্ত তৈরি হয়েছে। এমন উপলব্ধি থেকে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের নেতাদের সাথে মতবিনিময় করা হয়েছে।

সাংস্কৃতিক জোটের নেতাদের সাথে আলোচনায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সাথে দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলছিলেন,” গ্রিক দেবীর ভাস্কর্য এখানে বিকৃত করা হয়েছে, এ ব্যাপারে সাংস্কৃতিক জোটের নেতারাও আমাদের সাথে একমত। আর হেফাজত নিয়ে তাদের যে বক্তব্য, তারা তাদের জায়গায় আছে। আমরা তাদের বক্তব্য শুনেছি।” “আমরাও আশ্বস্ত করেছি যে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে সাস্কৃতিক আন্দোলন পেয়েছি, আমরা তার পক্ষে অবশ্যই আছি।”

তবে বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন, হেফাজত ইস্যুতে বিতর্ক নিরসনে আওয়ামী লীগকে তাদের অবস্থান আরও পরিষ্কার করা প্রয়োজন।