দুই সহকর্মী যুবকের ভয়ানক প্রতারনার ফাঁদে একাধিকবার ধর্ষণের শিকার তরুনী সেবিকা!

৫:৩২ পূর্বাহ্ন | শুক্রবার, এপ্রিল ২৮, ২০১৭ অপরাধ, আলোচিত বাংলাদেশ, স্পট লাইট

বরিশাল প্রতিনিধি- সময়ের কণ্ঠস্বর-

বরিশালের রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে চাকুরীরত এক সেবিকা (নার্স) একাধিকবার ধর্ষণের শিকার হয়েছে সহকর্মী দুই যুবকের কাছে । তরুনীর অভিযোগ প্রথমবার কৌশলে নিজের বাসায় ডেকে নিয়ে গিয়ে তাকে ধর্ষণের সময় ধর্ষণ চিত্র মোবাইলে ধারণ করে ধর্ষনে অভিযুক্ত দুই যুবক জুয়েল ও জাকির।

এসব ঘটনা কাউকে জানালে ভিডিওচিত্র ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে পরবর্তিতে ফের নিজের বাসায় নিয়ে ধর্ষণ করে অভিযুক্ত দুজন বলে অভিযোগ করেছেন ঘটনার শিকার ঐ সেবিকা।

এরপর ‘অনুতপ্ততার নাটক করে’ ও  নানা কৌশলে নিজের ভুল স্বীকার করে অভিযুক্ত একজন তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে  নিয়মিত শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে আসছিলো বেশ  কিছুদিন ধরে। অল্প কদিনে ঐ তরুনী বুঝতে পারে গভীর প্রতারনার ফাঁদে পড়েছে সে । বিয়ের জন্য চাপ দিলে কৌশলে এড়িয়ে যায় প্রতিশ্রুতি দেয়া ধর্ষক।

পরবর্তিতে  এই ঘটনায় ২ জনকে অভিযুক্ত করে সংশ্লিষ্ট মেট্রোপলিটন কাউনিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন ধর্ষিত নারী ।”

এই মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- বরিশালের বন্দর থানাধীন দিনার এলাকার মো. তৈয়ব আলী হাওলাদারের পুত্র মো. জুয়েল এবং কলাপাড়ার ডাবলুগঞ্জ ইউনিয়নের মিরপুর গ্রামের আব্দুল কাদের হাওলদারের পুত্র মো. জাকির হোসেন হাওলাদার। ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত দুজনও  বরিশালের রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালের কর্মচারী।

এজাহারের বরাত দিয়ে আদালতের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানায়- ভিকটিম বরিশালের রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে সেবিকা হিসেবে কাজ করার সুবাদে মো. জুয়েলের সাথে পরিচয় হয়। হঠাৎ একদিন জুয়েল ভিকটিমকে বলেন তোমার সাথে  একজন লোকের বিয়ে ঠিক করছি। তুমি আগামী ১২ মার্চ আমার বাসায় এসো ছেলেকে দেখবা, যদি পছন্দ হয় তাহলে তোমার সাথে বিয়ে দেব।

সহকর্মী হবার সুবাদে জুয়েলের প্রতি বিশ্বাস রেখে ভিকটিম রাজি হলে ঘটনার দিন জুয়েলের বাসায় যায়। সেখানে গিয়ে অন্য এক সহকর্মী জাকিরকেও দেখতে পায় ভিকটিম। এসময় ভিকটিমকে দুই যুবক নানাভাবে প্রলুব্ধ করে তাদের সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে। এতে করে কাজ না হলে দেশীয় অস্ত্রের দেখিয়ে মুখে কাপড় বেঁধে দুজনে মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে তরুনীকে।

ঐ তরুনীর বক্তব্যমতে, ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক হয়ে পড়ি আমি। ঐ দুজনকেই বড়ভাই হিসেবে মানতাম, হঠাত করে ওদের এমন হিংস্র পশুর মত আচরন বিশ্বাস করতে পারছিলামনা। আমার হাজার অনুরোধ, আকুতি , চোখের পানি কিছুই ঐ পাষণ্ডদের মন গলাতে পারেনি!

পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে কখনো ভিডিও ছেড়ে দেবার ভয় আবার কখনো বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেখিয়ে তাকে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করে অভিযুক্ত দুজন।   পরবর্তীতে ভিকটিম জুয়েলকে বিয়ে করতে বললে সে পুরো বিষয়টি অস্বীকার করে। জুয়েল এবং মো. জাকির হোসেন মোবাইলের ধারণ করা সেই ভিডিওচিত্র নারীর কর্মস্থলের বিভিন্ন সহকর্মীদেরকে দেখিয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করেছে ভিকটিম । ওই ঘটনার প্রতিবাদ করলে ধর্ষণ ভিডিওচিত্র ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয় অভিযুক্তরা।