• আজ সোমবার। গ্রীষ্মকাল, ৬ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ১৯শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। সন্ধ্যা ৭:১৬মিঃ

অবশেষে সেই ভুল ধারণা ভাঙল ডোনাল্ড ট্রাম্পের

৩:৩৫ অপরাহ্ন | শুক্রবার, এপ্রিল ২৮, ২০১৭ Breaking News, আন্তর্জাতিক, স্পট লাইট

আন্তর্জাতিক আপডেট ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভুল ধারণা ভাঙল অবশেষে। ধনকুবের এ ব্যবসায়ীর ধারণা ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়া খুবই সহজ। কিন্তু তার ভুল ভেঙেছে। সম্প্রতি তিনি জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট হওয়া খুবই কঠিন। তিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগের দিনগুলো খুব মিস করছেন। তার মনে হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট হয়ে একটা অদৃশ্য জালে বন্দী হয়ে গেছেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট হওয়ার ১০০ দিন এরইমধ্যে পার করে ফেলেছেন ট্রাম্প। কিন্তু এ পুরোটা সময় জুড়ে সমালোচনার তীরেই শুধু বিদ্ধ হয়েছেন। সামলাতে হয়েছে মার্কিনীদের তীব্র ক্ষোভ। তার করা বড় মাপের কোনো প্রস্তাবই পাশ হয়নি। নিজ অবস্থানের পক্ষে খুব বেশি রাজনীতিকদের সমর্থনও আদায় করতে পারেননি। মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে এখনো নিজ দলের বিরোধিতা মোকাবেলা করতে হচ্ছে তাকে।

রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আমি আমার আগের জীবনটাকে খুব ভালোবাসি। তখন জীবনটা অনেক উপভোগ্য ছিল। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি কাজ করতে হচ্ছে। ভেবেছিলাম এসব খুবই সোজা। আমি আমার আগের জীবনটাকে খুব মিস করছি। এখনটার জীবনটাও… আমি কাজ করতে ভালোবাসি। কিন্তু এখানে দায়িত্ব অনেক বেশি।

ট্রাম্প জানান, আগে তিনি স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করতেন। সে জীবনটা এখনকার চেয়ে অনেক বেশি উপভোগ্য ছিল। কিন্তু প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর সেটা হারিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর মনে হবে আপনি নিজের জালে নিজেই বন্দী হয়ে গেছেন। এখানে কঠোর নিরাপত্তা বজায় রাখা হয়। ইচ্ছেমতো কোথাও যাওয়া যায় না।

অপরদিকে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে সৃষ্ট সংকট নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। আভাস দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাত ঘটারও। দেশটির পরমাণু এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে সৃষ্ট সংকট সমাধানে কূটনৈতিক চেষ্টাই বেশি থাকবে বলেও তিনি জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন,  উত্তর কোরিয়ায় সঙ্গে খুবই বড় ধরনের সংঘাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সমস্যা আমরা কূটনৈতিক উপায়ে সমাধান করতে চাই। তবে এটা খুব কঠিন।

ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি চান দক্ষিণ কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থাডের মূল্য পরিশোধ করুক। এর মূল্য প্রায় ১০০ কোটি ডলার। ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি পুনর্বিবেচনা করতে চান বলেও জানান।

কখন ঘোষণা দেবেন জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, খুব তাড়াতাড়ি। আমি এখনই এর ঘোষণা দিচ্ছি।

উত্তর কোরিয়াকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে মনে করেন ট্রাম্প। তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের প্রশংসা করেন। বলেন, আমি বিশ্বাস করি শি চিনপিং সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। তিনি একজন ভালো মানুষ। আমি তাঁকে খুব ভালোভাবে চিনি। তিনি ধ্বংস এবং মৃত্যু দেখতে চান না।

ট্রাম্প আরও বলেন, চিনপিং চীনকে ভালোবাসেন। চীনের জনগণকে ভালোবাসেন। আমি জানি তিনি কিছু করতে পারবেন। তবে না পারারও সম্ভাবনা রয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন অল্প বয়সে দেশের দায়িত্ব নিয়েছেন উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, তাঁর মাত্র ২৭ বছর বয়স। তাঁর বাবা মারা গেছেন। এরপর তিনি ক্ষমতায় এসেছেন। এই বয়সে সবকিছু সহজ নয়।

৪২ মিনিটের ওই সাক্ষাৎকারে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং ওয়েনের সঙ্গে আবার আলাপের বিষয় নিয়ে শান্তভাবে বক্তব্য দেন ট্রাম্প। এর আগে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপে চীন ক্ষুব্ধ হয়।

রয়টার্সকে ট্রাম্প বলেন, সমস্যা হলো চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক খুবই ভালো। আমি বুঝতে পারি এই পরিস্থিতে তিনি আমাদের সাহায্য করার জন্য সবকিছু করছেন। এ কারণে আমি এখন তাঁর জন্য কোনো জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাই না। প্রথমে আমি তাঁর (শি চিনপিং) সঙ্গে কথা বলতে চাই।

ইসরায়েল-প্যালেস্টাইনের শান্তি দেখতে চান বলে জানান ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য সৌদি আরব নিজেদের অংশের মূল্য পরিশোধ করছে না।

ইসলামি দেশগুলো প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, জঙ্গিবাদকে পরাস্ত করতে হবে।