• আজ শুক্রবার। গ্রীষ্মকাল, ১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ২৩শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। দুপুর ১:৩৩মিঃ

‘সুস্থ্য’ হয়ে দেশে ফিরছে তিন পা নিয়ে জন্মানো সেই বিস্ময় শিশু চৈতি

⏱ | শনিবার, এপ্রিল ২৯, ২০১৭ 📁 Breaking News, আলোচিত, স্পট লাইট

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক-

আর দশটা স্বাভাবিক শিশুর মতো তার বেড়ে ওঠা নয়। কারণ চৈতি নামের ফুটফুটে শিশুটির  জন্ম হয়েছিল তিন পা নিয়ে। জন্মের পর চৈতির মা-বাবাকে চিকিৎসকরা জানান, তাদের কন্যার পায়ুপথ নেই, এমনকি তার মূত্রপথ আর দুই পায়ের মাঝ দিয়েই অতিরিক্ত আরেকটি পায়ের অবস্থান। একইসাথে চৈতি  আংশিকভাবে ‘অন্ধ’।

এর কিছুদিন পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) চিকিৎসকদের আন্তরিকতায় অস্ত্রোপচার করে চৈতির দেহের অতিরিক্ত পা-টি বাদ দেওয়া হয়। সে সময় শিশুটির জন্য কৃত্রিম পায়ুপথও তৈরি করা হয়। চৈতির বয়স তখন মাত্র দুই বছর ।

কিন্তু বাংলাদেশে চিকিৎসা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়ে ঢামেকের চিকিৎসকরা চৈতিকে আর উন্নত চিকিৎসা দিতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন। তারা জানান, শিশুটির চিকিৎসা দেশে করা সম্ভব নয়। এ পরিস্থিতিতে একটি বেসরকারি সংস্থা চৈতিকে চিকিৎসার জন্য অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর ব্যবস্থা করে একটি বেসরকারি সংস্থা চিলড্রেন ফার্ষ্ট ফাউন্ডেশন এর সহযোগিতায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চৈতিকে নিয়ে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে তার পরিবার চলে যান অস্ট্রেলিয়ায়।

চৈতি জন্মেছিল তিনটি পা নিয়ে। তার তৃতীয় পা এসে যুক্ত হয়েছিল তার বস্তি প্রদেশের নিম্মাংশে। এই অস্বাভাবিক শারীরিক গঠন নিয়ে তিন বছর অনেক বিড়ম্বনার পর চিকিৎসার জন্য তাকে পাঠানো হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ায়। সেখানকার চিকিৎসকরা সফল অস্ত্রপচারের মাধ্যমে তার তৃতীয় পা কেটে বাদ দিতে সক্ষম হয়েছেন। সুস্থ হয়ে এখন বাংলাদেশে ফিরে আসছে  চৈতি।

চৈতির বয়স এখন তিন। যে অস্বাভাবিকতা নিয়ে তার জন্ম, সেটিকে চিকিৎসকরা বলেন ‘কওডাল টুইনিং’। এর মানে হচ্ছে মায়ের জরায়ুতে তার সঙ্গে এক যমজও ছিল।

চিকিতসকদের ব্যখ্যায়, সেই  যমজ বিকশিত হয়েছে চৈতির শরীরে। সেই যমজের একটি পা চৈতির দেহের বস্তিপ্রদেশের সঙ্গে যুক্ত ছিল। কিভাবে তার তৃতীয় পা কেটে বাদ দেয়া যায় সেটি নিয়ে কয়েক মাস ধরে মাথা ঘামাতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়ান চিকিৎসকদের।

ভিক্টোরিয়ার মনাশ চিলড্রেন্স হসপিটালের সার্জারি বিভাগের প্রধান ড: ক্রিস কিম্বার বলেন, চৈতির মতো শারীরিক বৈকল্য নিয়ে জন্মানো খুবই বিরল। এ কারণে এই অপারেশনটি ছিল খুবই জটিল। অস্ট্রেলিয়ান চিকিৎসকরা তাদের কাজ শুরুর আগে বাংলাদেশের এই চিকিৎসকদের সঙ্গেও শলাপরামর্শ করেন।

ড: কিম্বার জানান, বাংলাদেশের চিকিৎসকরা চৈতির তৃতীয় পায়ের কিছু অংশ কেটে বাদ দিতে পারলেও তার বস্তিপ্রদেশে দুই পায়ের মাঝে আরও অনেক কিছু রয়ে গিয়েছিল।

couti third legs baby

চৈতির অপারেশনের আগে করা এক্সরে দেখা যাচ্ছে তার তৃতীয় পা -এ এফপি

“যেহেতু সেখানে আরেক যমজের শরীরের অনেক অংশ ছিল, তাই চৈতি আসলে বহন করছিল দুটি মলাশয়, দুটি যৌনাঙ্গ এবং দুটি মলদ্বার। এবং এসব অংশ বিকশিত হচ্ছিল শরীরের খুবই অস্বাভাবিক একটি অংশে।” অনেক পরিকল্পনার পর গত নভেম্বরে চৈতির শরীরে অপারেশ চালানো শুরু হয়।

তৃতীয় পায়ের যে অংশটি তখনো ছিল, সেটি চিকিৎসকরা প্রথমে অপসারণ করেন। এরপর তাদের চৈতির শরীরের ঐ অংশটি জোড়াতালি দিয়ে নতুন করে গঠন করতে হয়।

ড: কিম্বার জানান, চৈতি এখন হাঁটতে পারে, দৌড়াতে পারে। তার ওজনও বাড়ছে।

তবে চৈতির বয়স যত বাড়বে, তার আরও অনেক নতুন অপারেশনের দরকার হবে। তবে এখন বাংলাদেশে ফিরে যেতে কোন সমস্যা নেই।

চৈতির মা সীমা খাতুন অস্ট্রেলিয়ান গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তিনি বাংলাদেশে ফেরার অপেক্ষায় আছেন।

“সব কিছুই এখন ঠিকঠাক। ও এখন অন্য শিশুওেদর মতো খেলতে পারে, সেও এখন অন্য শিশুদের মতো।”