• আজ মঙ্গলবার। গ্রীষ্মকাল, ৭ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ২০শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। সকাল ৬:১৭মিঃ

ডিমলায় শ্বশুড়ের মাথা ন্যারা করে চুনকালি ও জুতার মালা পরিয়ে এলাকা ঘোরালেন জামাতা

১২:২০ অপরাহ্ন | শনিবার, এপ্রিল ২৯, ২০১৭ Breaking News, অপরাধ, দেশের খবর, রংপুর, স্পট লাইট

মাজহারুল ইসলাম লিটন, ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি:

স্ত্রী স্বামীকে তালাক দিয়ে অন্যত্র বিয়ে করায় শ্বশুড়ের মাথা ন্যাড়া করে জুতার মালা পড়িয়ে পুরো এলাকা ঘোরালেন জামাতা আতাউর রহমান তোবার। অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় এই ঘটনায় আজ শনিবার (২৯শে এপ্রিল) পর্যন্ত ঘটনার শিকার ঐ ব্যক্তি এবং তার পরিবারের পক্ষে কেউ মামলা করার সাহস পায়নি!

জানা গেছে, নীলফামারীর ডিমলায় বৃহস্পতিবার রাতে বালাপাড়া ইউনিয়নের ছাতনাই গ্রামের মৃত কাছের উদ্দিনের পুত্র মজিবর রহমান (৬০) ডিমলা থেকে বাড়ী যাওয়ার পথে খগার হাটে রাত ৯টায় চা খেতে বসে। এমন সময় খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের বন্দর খড়িবাড়ী গ্রামের আতাউল ইসলাম শ্বশুড় মজিবর রহমানকে দেখতে পায়। চায়ের দোকান থেকে মজিবর রহমানকে জোরপুর্বক খগার হাটের পুর্ব দিকে ১কিলোমিটার রাস্তা টেনে হিচরে আতাউলের বাড়ীতে নিয়ে যায়। বাড়ী নিয়ে গিয়ে ব্লেড নিয়ে অর্ধেক মাথা ন্যাড়া করে চুনকালী মাখিযে ও জুতার মালা পড়িয়ে আবারও বাজারে পাঠায়। পরে স্থানীয় জনতা জুতার মালা ফেলে দেয়। রাত ১১টার দিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকার শত শত জনতা খগারহাটে মজিবরকে ঘিরে রাখে। পরে পুলিশ গিয়ে বালাপাড়া ইউপি সদস্য সেলিম আজাদের মাধ্যমে মজিবর রহমানকে তার নিজ বাড়িতে পাঠায়।

এই ঘটনাটি রাত ১১টার দিকে জানাজানি হলে এলাকার শত শত জনতা খগারহাটে মজিবরকে ঘিরে রাখে। পরে পুলিশ গিয়ে বালাপাড়া ইউপি সদস্য সেলিম আজাদের মাধ্যমে মজিবর রহমানকে নিজ বাড়ীতে পাঠায়।

জানা যায়, মজিবর রহমানের কন্যা ছকিনা বেগমের সাথে আতাউল ইসলামের বিয়ে হয় গত ৮ বছরে আগে। গত ২ মাস পুর্বে ছকিনা বেগম আতাউলকে তালাক দিয়ে অন্যত্র বিয়ে করেন। স্ত্রী ছকিনা বেগম অন্যত্র বিয়ে করার কারণে জামাতা আতাউল ক্ষিপ্ত হয়ে উক্ত ঘটনা ঘটায়।

জানতে চাইলে ঘটনার শিকার মজিবর রহমান সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, আমাকে অন্যায়ভাবে বাজার থেকে টেনে হিচরে বাড়ীতে নিয়ে গিয়ে মাথা ন্যাড়া করে চুন কালী লাগিয়ে দিয়ে গলায় জুতার মালা পড়িয়ে পুরো এলাকায় ঘোরায়। আমি প্রশাসনের নিকট বিচার দাবী করছি।

এ বিষয়ে বালাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম ভুইয়া বলেন, বিষয়টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের পাশাপাশি চরম অন্যায়।

ডিমলা থানার ওসি (তদন্ত) মফিজ উদ্দিন শেখ সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, বিষয়টি জানার পর রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে মজিবর রহমানকে ইউপি সদস্য সেলিম আজাদের সাথে বাড়ীতে পাঠানো হয়েছে। মামলা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে মামলা দিলে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবে।