সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ১লা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

খুলনায় নৌযান মেরামত কারখানা সরা‌নোর দাবি‌তে ব্যবসায়ী‌দের আমরণ অনশন ঘোষণা

৪:৪৩ অপরাহ্ন | শনিবার, এপ্রিল ২৯, ২০১৭ খুলনা, দেশের খবর

জিএস‌কে শান্ত, স্টাফ ক‌রেসপ‌ন্ডেন্ট: খুলনা মহানগরীর কাস্টম ঘাট এলাকা থেকে নৌযান মেরামত কারখানা ও নৌযান প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নির্মাণ প্রকল্প অন্যত্র সরিয়ে না নেওয়া হলে পরিবার পরিজন নিয়ে আমরণ অনশন করার ঘোষণা দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

আজ শনিবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে কাস্টম ঘাট ব্যবসায়ী সমাজ ও এলাকাবাসী অা‌য়ো‌জিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শহীদুল ইসলাম।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো খুলনায় দেশের সর্ববৃহৎ নৌযান মেরামত কারখানা ও নৌযান প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নির্মাণ করতে যাচ্ছে সরকার। সরকারের এ উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। কারণ বর্তমান সরকার এ অঞ্চলের উন্নয়নে খুবই আন্তরিক। সরকার অবকাঠামোর উন্নয়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন, সার্বিক নিরাপত্তা ও ব্যবসাবান্ধব সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু অতীব কষ্টের বিষয় সরকার এ প্রকল্প বাস্তবায়নে খুলনা নগরীর কাস্টম ঘাট এলাকা বেছে নিয়েছে।

এ জন্য নদীর তীরের রকি ডকইয়ার্ড থেকে উত্তর দিকের ৬০০ মিটার দৈর্ঘ্য প্রায় তিন একর জায়গা ৯৯ বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছে। গত ১৭ এপ্রিল এই ইজারা দলিলে স্বাক্ষর করেছেন খুলনার জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান এবং যানবাহন অধিদপ্তরের পরিচালক জনাব মুন্সী শাহাবুদ্দীন আহমেদ। কাগজে-কলমে ওই দিনই জমির দখল তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘ ৫০ বছরের অধিকাল ধরে কাস্টমঘাট এলাকায় গড়ে উঠেছে বৃহৎ ব্যবসায়ীক কেন্দ্র। ব্যবসাবান্ধব হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে গোটা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে। এ এলাকার ব্যবসায়ীরা সরকারের নিকট থেকে নদীর তীরবর্তী খাদা-খন্দকে ভরা অসমতল এবং ব্যবসার অনুপযোগী খাস জমি একসনা বন্দোবস্তো নিয়ে বহু কষ্ট ও অর্থের বিনিময়ে জমিকে উন্নত করে ব্যবসার উপযুক্ত করে গড়ে তুলেছে। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ইট, বালু, সিমেন্ট, পাথর, কয়লা, কাঠসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান।

এই বৃহৎ ব্যবসায়ীক অঞ্চলকে কেন্দ্র করে ৩০ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এখানে ব্যবসা-বাণিজ্য করে পরিবার পরিজনের ভরণ-পোষণ করছেন। এসব ব্যবসায়ীদের লাখ লাখ টাকা লগ্নি রয়েছে। বাকী পাওনা রয়েছে লাখ লাখ টাকা। ব্যাংক ঋণ নিয়ে তারা ব্যবসা করছেন। কিন্তু ওই প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে এসব ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করা হলে তারা সর্বশান্ত হয়ে পড়বে। লগ্নিকৃত অর্থ আদায় ও ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে পারবে না। পাশাপাশি এই বৃহৎ ব্যবসায়ীক অঞ্চলটি হারিয়ে যাবে।

এছাড়া ২২ নং ওয়ার্ডের এই অঞ্চলটি শ্রমিক অধ্যাষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। এই এলাকার একাংশে বস্তিবাসীদের বসবাস। তাদের স্বাস্থ্য সেবার জন্য একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে। যা অচিরেই চালু হবে। এখানে নৌযান মেরামত কারখানা ও নৌযান প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নির্মাণ করা হলে লোহালক্করের শব্দে হাসপাতালের রোগীরা সুস্থ্য হওয়ার পরিবর্তে আরো অসুস্থ্য হয়ে পড়বে। যা কোন বিবেকবান মানুষের কাম্য নয়।

এখন যদি এসব ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করা হয় তাহলে ব্যবসায়ীদের আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোন পথ থাকবেনা। ভৈরব নদীর পাড়ে অবস্থিত টুটপাড়া মৌজার এই জমির দাম রয়েছে ৫৭ কোটি ৩২ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। কিন্তু মাত্র এক লাখ এক হাজার টাকা প্রতীকি মূল্যে সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের অনুকূলে এই দলিল হস্তান্তর করা হয়েছে। ওই দলিল বাতিল করে ব্যবসায়ীদের অনুকূলে এই জমি ৯৯ বছরের জন্য বরাদ্দ দিলে আমরা ৫৭ কোটি ৩২ লাখ ৭৩ হাজার টাকা দিতে রাজী আছি। এই টাকা সরকার অন্য কোন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করতে পারবে। আমরাও শংকামুক্ত হয়ে নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারবো। এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই পারেন আমাদেরকে রক্ষা করতে।

সংবাদ সম্মেলণে আরও উপস্থিত ছিলেন, ২২ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুস সাত্তার খলিফা, ২২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ মাহবুব কায়সার, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওহিদুজ্জামান, খুলনা জেলা সমবায় ইউনিয়নের সভাপতি ইয়াকুব আলী খান পলাশ, সাবেক কাউন্সিলর কণিকা সাহা, ব্যবসায়ী ইউসুফ আলী খান, কাজল ইসলাম, আঃ হালিম, সেলিম ভুঁইয়া, আবুল কালাম, মিন্টু হালদার, দুলাল মল্লিক প্রমূখ।