• আজ ২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

প্রসুতির ডেলিভারি-র সময় সদ্যভুমিস্ট সন্তানের মাথা ছিঁড়ে ব্যাগে লুকিয়ে রাখলেন চিকিৎসক !

৬:৪৬ অপরাহ্ন | শনিবার, এপ্রিল ২৯, ২০১৭ Uncategorized, আন্তর্জাতিক, স্পট লাইট

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক:

একও প্রসুতি মায়ের ডেলিভারির সময় ‘অসতর্কতাবস্থার’ কারনে শিশুর মাথা ছিঁড়ে ফেলার ভয়াবহ এক দুর্ঘটনা ঘটাবার অভিযোগ   চিকিৎসকের বিরুদ্ধে । শুধু তাই নয় এই ঘটনা ঘটার পর নিজের দোষ ঢাকতে নবজাতক ঐ শিশুর খন্ডিত মাথা ব্যাগে ঢুকিয়ে সরিয়ে ফেলেন ঐ চিকিৎসক।

তবে ভুল বশতঃ সেই খন্ডিত মাথা রোগীর কাগজপত্রের ফাইলেই রেখে দেন ঐ চিকিৎসক ।

মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গের সামসেরগঞ্জের অনুপনগর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে।

জানাগেছে, শুক্রবার বহগালপুরের বাসিন্দা মালতি বিবি (২৫) প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে সামসেরগঞ্জের অনুপনগর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি হন। সেখানেই নরমাল ডেলিভারি-র সময়ে চিকিৎসক অভিজিৎ দাশগুপ্ত গর্ভের সন্তানের মাথা ছিঁড়ে ফেলেন।

পরে অবস্থা বেগতিক দেখে শিশুটির ছিন্নমাথা কাউকে না জানিয়ে ব্যাগে করে সরিয়ে ফেলেন ঐ চিকিৎসক । এরপর  রোগীকে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে। সেখানে রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বহরমপুরে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

শনিবার সকালে তার সিজার করে দেখা যায় শিশুটির মাথা নেই। এর পরেই পরিবারের লোকজন হাসপাতালের দেওয়া ব্যাগে শিশুটির বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পান। এই রকম একজন চিকিৎসক কীভাবে একটি সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কাজ করতে পারেন। প্রশ্ন উঠছে, তাঁর মেডিক্যাল সার্টিফিকেট নিয়েও।

মালতি বিবির স্বামী জাহাঙ্গির শেখ জানান, ‘আমি স্ত্রীকে ভর্তি করে তার মেডিক্যাল রিপোর্টগুলো আনতে বাড়ি গিয়েছিলাম। ৩০ মিনিট পর যখন আসি, তখন দেখি আমার স্ত্রীকে ইতিমধ্যেই তারা গাড়িতে তুলে ফেলেছেন।

আমাকে একটা ব্যাগ দিয়ে তড়িঘড়ি জঙ্গিপুরে নিয়ে যেতে বলেন। সেখানে পৌঁছালে সেখান থেকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে পাঠায়। এখানে এসে সিজারের পরে এখানকার চিকিৎসকরা আমাদের জানান, শিশুটির মাথা নেই।

তারপর আমি হাসপাতালের দেওয়া ব্যাগে দেখি মাথাটা আছে। আমি চিকিৎসক অভিজিৎ দাসগুপ্তর বিরুদ্ধে সুতি থানায় অভিযোগ করেছি। আমি ঐ চিকিৎসকের কড়া শাস্তি চাই। যাতে করে আমার মত আর অন্য কারো সঙ্গে এই ঘটনা না ঘটে।’