• আজ ২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১৫ শতাংশ ভ্যাট কার্যকর হলে জিনিসপত্রের দাম বাড়বে

১০:৪০ অপরাহ্ন | শনিবার, এপ্রিল ২৯, ২০১৭ অর্থনীতি

ঢাকাঃ শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে আগামী  ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনা বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)  এর সভাপতি আবুল কাসেম খান আশংকা প্রকাশ করে বলেন,  নতুন মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আইনের আওতায় ১৫ শতাংশ  ভ্যাট আরোপের ফলে অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি ঘটতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন তিনি ।

আবুল কাসেম খান বলেন, ‘আমরা নতুন ভ্যাট আইন চাই।  আমরা চাই ভ্যাট আইন আসুক। ভ্যাট আইনে অনেক ভালো কিছু বিষয় রয়েছে। যেমন রিভান্ড একটি ভালো বিষয়।  তবে আমরা ব্যবসায়ীরা দাবি করেছি ভ্যাটে হার যেন ৭ শতাংশ হয়।’

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন,আমরা ৭ শতাংশ ভ্যাট চাই কারণ  আমরা আশংকা করছি ১৫ শতাংশ ভ্যাট কার্যকরের ফলে মূল্যস্ফীতি হতে পারে। কারণ সর্বক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট কার্যকর হলে জিনিসপত্রের দাম বাড়বে।  যেমন-রড কিংবা ভোজ্যতেলে উপর এখন ভ্যাট নেই। নতুন আইনে ভ্যাট কার্যকর হবে।  আর দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়লে চাহিদা কমে যেতে পারে।  এর প্রভাবে উৎপাদনকারী তার উৎপাদন কমিয়ে দিবে।  এতে অর্থনীতির পরিসর অপেক্ষাকৃত ছোট হতে পারে।  এজন্য আমরা ৭ শতাংশ ভ্যাটের দাবিতে  শেষ পর্যন্ত সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে যাবো।

নতুন আইন বাস্তবায়নের শুরুতে ব্যবসায়ীরা হয়রানি হতে পারে  এমন আশংকা প্রকাশ করে আবুল কাসেম খান বলেন, নতুন ভ্যাট আইনে ব্যবসায়ীদের জন্য অনেক সুবিধা রয়েছে।  কারণ আইনটা অনেক ভালো।  কিন্তু সমস্যা হচ্ছে বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ক্ষমতা অপব্যবহারে ব্যবসায়ীরা হয়রানি হতে পারে।  ব্যবসায়ীরা যদি হয়রানির স্বীকার হয় তার দূর করতে কোনো আইন এখনও হয়নি।
তিনি বলেন,  এনবিআর বলছে ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্ট্রার (ইসিআর) মেশিন ব্যবহারে হয়রানি ও হিসাবের ঝামেলা অনেকটা কমে যাবে।  কিন্তু আমাদের এমন অনেক ব্যবসায়ী রয়েছে যাদের ইসিআর মেশিন বসানোর মতো জায়গাও নেই। তাদের কি হবে ?

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন,  মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৩০ শতাংশের বেশি অবাদান রাখে অতিক্ষুদ্র এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) খাত।  বেসরকারি খাতের ৭৫ শতাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষুদ্র আকারের।  দেশের কর্মসংস্থানের ৭৫ শতাংশ হয় এমএসএমই খাতের মাধ্যমে। শিল্প খাতে চাকরির ৮০ শতাংশই এমএসএমইভিত্তিক।  অথচ নতুন ভ্যাট আইনে খুচরা পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের ফলে এসএমই ব্যবসায়ীরা  মারাত্বকভাবে অর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

ডিসিসিআই আগামী অর্থবছরের বাজেটে ব্যক্তি শ্রেণীর  করদাতাদের করমুক্ত আয় সীমা দুই লাখ ৫০ হাজার থেকে বৃদ্ধি করে সাড়ে ৩ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করেন।  একই সঙ্গে মহিলা ও বয়স্ক (৬৫ বৎসর) করদাতার করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার দাবী জানান।