• আজ বুধবার। গ্রীষ্মকাল, ৮ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ২১শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। রাত ১০:২৯মিঃ

পুলিশ অফিসার স্বামীর বিরুদ্ধে আতকে উঠা সব অভিযোগ জানালেন স্ত্রী!

১২:১৬ পূর্বাহ্ন | রবিবার, এপ্রিল ৩০, ২০১৭ স্পট লাইট

pulice wife nasrinস্টাফ করেসপন্ডেন্ট, খুলনাঃ আমি নাছরিন আক্তার রুমা, পিতা মৃত আব্দুল খালেক খান, মমতাজ মঞ্জিল, খালিশপুর এন/এফ-১০২, হাউজিং এষ্টেট, খুলনা। আমার স্বামী রেফায়েত উল্লাহ চৌধুরী একজন পুলিশের কর্মকর্তা। সাতক্ষীরা, যশোর, চট্রগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় এসআই, ওসি পদে চাকুরী করা অবস্থায় একাধিক পরকীয়া, মাদক সেবন, মাদক চোরাকারবারী ও সন্ত্রাসীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে নামে বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছে। পরকীয়তার কারণে আজ আমার ১৮ বছর সংসার ভেঙ্গে যাচ্ছে। ০৭ মাস দুটি সন্তানকে আমার কাছ থেকে দুরে সরিয়ে রাখা হয়েছে।

পাষন্ড স্বামীর বিরুদ্ধে আমি মামলা দায়ের করলেও তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। আইজিপির কাছে আবেদন করেও প্রতিকার পাচ্ছিনা। আমাকে এবং আমার ভাইদেরকে প্রতিনিয়ত হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমাকে হত্যার জন্য ৫ লাখ টাকায় সন্ত্রাসী ভাড়া করা হয়েছে। আমার নামে থাকা সম্পত্তি ও ব্যাংকে থাকা অর্থ ভূয়া স্বাক্ষর করে উঠিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একজন পুলিশ কর্মকর্তার লেবাস পড়ে এভাবে আমার উপর অন্যায়ভাবে অত্যাচার নির্যাতন চালানো হচ্ছে। আর রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকা পালন করা ওই নরপশুর শাস্তির দাবি জানাতে এবং সত্য ঘটনা তুলে ধরতে আজ আমি আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি।

গত ৩০-০৯-১৯৯৯ ইং সালে আমার সাথে কুমিল্লা জেলার লাকসাম থানার সাতবাড়িয়া গ্রামের রেফায়েত উল্লাহ চৌধুরী এর সাথে ইসলামী শরীয়াত মোতাবেক রেজিষ্ট্রি কাবিন মূলে পারিবারিক ও সামাজিক ভাবে বিয়ে হয়। আমাদের দীর্ঘ ১৮ বছরের সংসার জীবনে রাইসা বিনতে চৌধুরী (১৫) ও নানজীবা চৌধুরী (০৯) নামের দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

আমি স্বামী সন্তানদের নিয়ে সুখে-শান্তিতে বসবাস করিতে ছিলাম। আমার স্বামী বিগত প্রায় ২ বছর পূর্বে চট্রগ্রাম জেলায় পটিয়া থানায় অফিসার্স ইনচার্জ পদে কর্মরত অবস্থায় মাদকাশাক্ত ও মাদক ব্যবসায়ীর সাথে জড়িত হয়ে বিভিন্ন জায়গায় কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ করেছে এবং হ্যাপী চৌধুরী নামের নারীর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। বিষয়টি জানার পর প্রতিবাদ করায় আমাকে দিনের পর দিন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করতে থাকে। ওই নারী আমাকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করতে থাকে এবং আমাকে মোবাইল ফোন মারফত বলে যে, আপনি ১৮ বছর সংসার করেছেন, এখন স্বামী ছেড়ে দেন আমি তার সাথে সংসার করবো।

হ্যাপী চৌধুরীকে নিয়ে আমার স্বামীর পরকীয়ার ঘটনা গোটা চট্রগ্রাম জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। আমার নির্যাতনের কথা শুনে আমার পিতা চট্রগ্রামে আমার বাসায় গেলে আমার পিতাকেও আমার স্বামী নির্যাতন করে, বৃদ্ধা বাবা নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে হার্ড এ্যাটাক করে মৃত্যু বরণ করেন। আমি আমার বাবার মৃতদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি আসি এবং দাফন কার্য সম্পাদন করার পর মেয়েদের কথা চিন্তা করে ঘর-সংসার সুষ্ঠুভাবে করার জন্য স্বামীর সাথে চট্রগ্রাম চলে যাই। পরবর্তীতে আমার ওপর পুনরায় মেয়েদের সামনে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে এবং আমার নামে বিভিন্ন ধরণের মিথ্যা কুৎসা রটাতে থাকে। তাছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকের একাউন্টে আমার নামে থাকা টাকা এবং আমার ঘরে ৬০ ভরি স্বর্ণ অলংঙ্কার ছিল যা সে জোর করে নিয়ে যায়। আমার উপর নির্য়াতন করে ব্লাঙ্ক চেকে স্বাক্ষর করে নিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে নেয়। আমার বড় ভাসুর মেয়েদের সহ আমাকে লাকসাম, কুমিল্লায় তাদের গ্রামের বাড়ি নিয়ে নেয়।

গত ০৯-১২-২০১৬ ইং তারিখ রাতে আমার স্বামী গ্রামের বাড়ি এসে জোর পূর্বক মেয়েদের গ্রামের বাড়ি থেকে তার ভাইদের বাড়িতে নিয়ে যায়। তার অসৎ উদ্দেশ্য হলো সন্তানদেরকে আমার থেকে পৃথক করা। পরবর্তিতে গত ১১-১২-২০১৬ ইং তারিখ আমার ভাসুররা আমার স্বামীর কু-পরামর্শে আমাকে চট্্রগ্রাম এ,বি ব্যাংক, ও আর নিজাম রোড শাখায় নিয়ে যান। সেখানে আমার বাবার দেওয়া লকারে রাখা স্বর্ণালংকার তুলে নিতে বলে এবং জোর পূর্বক অলিখিত স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দেয়ার জন্য বলে। এতে আমার ভাসুর বাধা দিলে তাকেও মারধর করে। আমাকেও শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে ধাক্কা-ধাক্কি করে গাড়িতে তুলে দেয়, যা ব্যাংকের সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা আছে।

এক পর্যায়ে সে আমাকে হুমকি দেয় স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর না করলে আমাকেসহ আমার মেয়েদেরকে মেরে ফেলবে। এরপর নিজের ও বাচ্চাদের জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে এস,পি অফিসে আমার ভাসুরকে নিয়ে যাই এবং বিষয়টি পুলিশ সুপারকে মৌখিক ভাবে জানাই। এসপি আমার কথা শুনে আমার ভাসুরকে বলেন-আমাকে আমার পিত্রালয়ে পাঠিয়ে দিতে। পরবর্তীতে আমি এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে এক কাপড়ে বের হয়ে আমার পিত্রালয়ে চলে আসি। আমার মেয়েদেরকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে তাদের সাথে আমাকে দেখা সাক্ষাৎ করতে দিচ্ছে না। এমনকি ফোন করতেও দিচ্ছে না। আমার মেয়েরা আমাকে ছাড়া থাকতে পারছে না। আমার জানামতে আমার মেয়েদেরকে অপরিচিত একজন মহিলার কাছে রেখেছে। বর্তমানে আমাকে এবং আমার ছোট ভাইদেরকে হত্যা করার হুমকি প্রদান করছে এবং বিভিন্ন মিথ্যা মামলার ভয় দেখাচ্ছে। দীর্ঘ ১৮ বছর সংসার করার পর স্বামী সন্তান ছাড়া নিঃশ্ব হয়ে গিয়েছি। আমি সব কিছু হারিয়ে ফেলেছি এমনকি আমার বাবাকেও হারিয়েছি।

আমার স্বামী এতই লম্পট যে, আমাদের বিয়ের আগেও সে বহু নারী কেলেংকারীর সাথে জড়িত ছিলো। সাতক্ষীরা, যশোরসহ বিভিন্ন জেলায় কর্মরত থাকাকালে একাধিক নারীর সাথে তার পরকীয়তা ছিলো। যশোর কোতয়ালী থানায় এসআই পদে থাকাকালে একটি নারী কেলেংকারীর ঘটনা আমি উপস্থিত থেকে মিটিয়ে দেই। সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অনেক নির্যাতন মুখবুজে সহ্য করি। এখন আমার দুই মেয়েকে আটকে রেখে তাদেরকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।