সংবাদ শিরোনাম

খালেদা জিয়ার সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট নিয়ে যা বললেন চিকিৎসক২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিলেন কাদের মির্জাটাঙ্গাইলে ভন্ড পুরুষ কবিরাজ নারী সেজে যুবককে বিয়ে! অতঃপর…ব্যক্তিগত কাজে সরকারি গাড়ি নিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ঢাকা ভ্রমণ!শেরপুরের সেই শিশু রোকনের পরিবারের পাশে ইউএনও!কক্সবাজারে অস্ত্রসহ ডাকাতি মামলার আসামি গ্রেফতারকক্সবাজারে অনুপ্রবেশকারীর পক্ষ না নেয়ায়, আ’লীগ সভাপতিকে অব্যাহতি!শাহজাদপুরে ট্যাংকলরি সিএনজি’র মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১রমজান মাসে আলেমদের হয়রানি মেনে নেয়া যায় না: নুরুল ইসলাম জিহাদীখালেদা জিয়াকে পাকিস্তান-জাপান দূতের চিঠি

  • আজ ৩রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বিশিষ্ট আবৃত্তিশিল্পী ও মুক্তিযোদ্ধা কাজী আরিফ আর নেই (ইন্না………উন)

৩:০৪ পূর্বাহ্ন | রবিবার, এপ্রিল ৩০, ২০১৭ গুণীজন সংবাদ

নিউইয়র্ক, ম্যানহাটন থেকেঃ বিশিষ্ট আবৃত্তিশিল্পী ও মুক্তিযোদ্ধা কাজী আরিফ (৬৫) আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ‘লাইফ সাপোর্ট’ খুলে ফেলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেছেন চিকিৎসকেরা। নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের একটি হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানে স্থানীয় সময় শনিবার দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে তাঁর লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেলা হয়।

গতশুক্রবার মাঝরাত থেকে তাঁকে ক্লিনিক্যালি ডেথ বলে ঘোষণা দেন চিকিৎসকেরা। শনিবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
নিউইয়র্কের মাউন্ট সিনাই সেন্ট লিওক্স নামের ওই হাসপাতালে ২৫ এপ্রিল কাজী আরিফের হৃদ্‌যন্ত্রে অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। কাজী আরিফ দীর্ঘদিন থেকেই হৃদ্‌রোগে ভুগছিলেন।

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন আরিফের মৃত্যু সংবাদ শুনে হাসপাতালে ছুটে যান, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল শামীম আহসান। সকাল থেকেই হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আহ্বায়ক মিথুন আহমেদ, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম যুক্তরাষ্ট্র শাখার আহ্বায়ক রাশেদ আহমেদ এবং কাজী আরিফের মেয়ে অনুশকাসহ কমিউনিটির বিশিষ্টজনেরা।

কাজী আরিফের মরদেহ স্থানীয় সময় শনিবার মাগরিবের নামাজের পর জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে সর্ব সাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আনা হবে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এই বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আবৃত্তিশিল্পীর মরদেহ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় দেশে নেবার সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। নিউইয়র্কে বাংলাদেশ মিশনের কনসাল জেনারেল শামীম আহসান ও মাননীয় রাষ্ট্রদূত জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন এ কথা নিশ্চিত করেছেন।

কাজী আরিফের মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকেই হাসপাতালে ভিড় করছেন প্রিয় এই শিল্পীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য।

নিউইয়র্ক থেকে বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহকাম উল্লাহ জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টায় চিকিৎসকেরা কাজী আরিফকে ‘ক্লিনিক্যালি ডেড’ ঘোষণা করেন। হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় ১২টা ৫৫ মিনিটে চিকিৎসকেরা কাজী আরিফের লাইফ সাপোর্ট খুলে নেন।

কাজী আরিফের জন্ম ১৯৫২ সালের ৩১ অক্টোবর, রাজবাড়ী জেলায়। তবে তাঁর শিক্ষা ও বেড়ে ওঠা চট্টগ্রাম শহরে। একই সঙ্গে শিল্প-সাহিত্যের চর্চার হাতেখড়িও সেখানে। স্থাপত্য বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে। কাজী আরিফ ১৯৭১ সালে ১ নম্বর সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। বাংলাদেশে আবৃত্তিচর্চা এবং আবৃত্তি আধুনিক সংগঠিত রূপ দিতে তিনি গত শতকের আশির দশকে অন্যতম ভূমিকা পালন করেছেন।

কাজী আরিফের প্রথম আবৃত্তির অ্যালবাম পত্রপুট। তিনি জাতীয় বসন্ত উদ্‌যাপন পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এ ছাড়া একসময় তিনি তাঁর ইন্দিরা রোডের বাসায় নিয়মিত চৈত্রসংক্রান্তির উৎসব আয়োজন করতেন। সেখানে দেশের শিল্প-সংস্কৃতি ক্ষেত্রের মানুষেরা সমবেত হতেন।