সংবাদ শিরোনাম

ছাত্রলীগ নেতার প্যান্ট চুরির ভিডিও ভাইরাল!পাটগ্রামে ইউএনও’র উপর হামলা, আটক ৬আগের সব রেকর্ড ভেঙ্গে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ৮৩ জনেরশফী হত্যা মামলা: মামুনুল-বাবুনগরীসহ ৪৩ জনকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদনখালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় সারাদেশে দোয়া কর্মসূচিরোহিঙ্গা শিবিরে ফের অগ্নিকান্ডসালথায় তান্ডব: এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগের সত্যতা মিলেনিশাহজাদপুরে কৃষকদের মাঝে হারভেস্টার মেশিন বিতরণচাঁদপুরে গণমাধ্যম সপ্তাহের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপিশ্রমিকদের যাতায়াতের ব্যবস্থা না করলে আইনি পদক্ষেপ : শ্রম প্রতিমন্ত্রী

  • আজ ৩০শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

কৃষকের বোবা কান্না

৪:০৪ পূর্বাহ্ন | রবিবার, এপ্রিল ৩০, ২০১৭ ফিচার

সুনামগঞ্জঃ অসংখ্য হাওর আর নদী বেষ্টিত সুনামগঞ্জের দিরাই ও শাল্লা। এই জনপদের বাতাসে কান পাতলে এখন কেবলই শোনা যাচ্ছে লাখো কৃষকের বোবা কান্নার সুর। এবার বাধ ভেঙে ফসল ডুবে হাওর এলাকার মানুষ সর্বশান্ত হয়ে গেছে। ৯০ ভাগ বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ায় সারা বছর কি করে জীবন কাটাবেন সেই চিন্তায় অস্থির। ভরা বৈশাখে হাওরে ধান নেই, মাছ নেই। খামারে নেই হাঁস।

এই দুর্বিষহ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হাওর এলাকা পরিদর্শনে আজ রবিবার আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকালে তিনি হেলিকপ্টারযোগে সুনামগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত হাওর এলাকা পরিদর্শন করবেন। পরে সকাল ১০টায় শাল্লা উপজেলার শাহীদ আলী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফসলহারা কৃষকদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করবেন। এরপর জেলা-উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। তার আগমন উপলক্ষে শাল্লায় ৫ স্তরে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক টহল দেবে। পুলিশ সুপার বরকতুল্লাহ খান জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে স্থল ও জলপথে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।

কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, সুনামগঞ্জ জেলায় এ বছর চাষ হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৮৮২ হেক্টর ফসলি জমিতে। এর মধ্যে হাওরে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬৮২ হেক্টর ও হাওরের বাইরে বিভিন্ন গ্রামে নিচু জমিতে চাষ হয়েছে আরো ৫৬ হাজার ৪০০ হেক্টর। গত ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত জেলার হাওরে ৯০ শতাংশ ফসলের ক্ষতি হয়েছে। হাওরের বাইরে ক্ষতির পরিমাণ ১৭ হাজার ৩৮৮ হেক্টর। ক্ষতিগ্রস্ত চাষির সংখ্যা ২ লাখ ৭৭ হাজার ১৮৮ জন। কৃষি বিভাগের এই ক্ষতির পরিমাণ ধরেই জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার কৃষকের সহায়তা প্রাপ্তির পরিসংখ্যান পাঠিয়েছে।

পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ জানিয়েছেন, ক্ষতি কমিয়ে আনতে আগামী বছর থেকে সুনামগঞ্জের রক্তি, আবুয়া, মরা সুরমা ও যাদুকাটা- এই চারটি নদী খনন করা হবে। তিনি শুক্রবার রাতে স্থানীয় সার্কিট হাউসে সাংবাদিক ও সুধীজনের সঙ্গে মতবিনিময়কালে একথা জানান। তিনি বলেন, বাঁধ নির্মাণকাজে দুর্নীতির প্রভাব ভয়াবহ। এখানে দুর্নীতির কারণে গণহারে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ঘটনার তদন্ত চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, দুর্নীতি প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্ষতি কমিয়ে আনতে আগামী বছর থেকে চারটি নদী খনন, কিভাবে আগাম জাতের ধান চাষ করা যায় সেটা নিয়ে ভাবা হচ্ছে।

পানিসম্পদ মন্ত্রী আরো বলেন, কতটুকু বৃষ্টি হয়েছে, বাঁধের উচ্চতা কত ছিল- এসব নিয়ে কেউ আলোচনা করে না। সবাই শুধু পাউবোর দুর্নীতিকেই দেখে। বাঁধ ভেঙে নয়, বাঁধ উপচে হাওরের ফসল তলিয়ে গেছে। সবাই ঢালাওভাবে বলছে ৪৮ কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। এটা ঠিক না। আমরা পিআইসিকে ১১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা এবং ঠিকাদারদের ৯ কোটি টাকা বিল দিয়েছি। বাকিগুলো আটকে দিয়েছি।

সুনামগঞ্জ, ছাতকের স্থানীয় সুত্রে জানা যায়,  সুনামগঞ্জের ছাতকে অকাল বন্যায় বোরো ফসলহানির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষিদের তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই উপজেলার ১৩ হাজার ৩শ কৃষকের তালিকা তৈরি করে সরকারি সহায়তা প্রদানের কার্যক্রম চলছে বলে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে। কৃষি বিভাগের দেয়া তথ্য অনুযায়ী উপজেলায় ১৪ হাজার ২৪০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে অকাল বন্যায় ১১ হাজার ৩শ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। বাকি প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমির ফসলও আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নাটোর, গুরুদাসপুরের স্থানীয় সুত্রে জানা যায়,  স্বপ্নের ধান গোলায় তুলতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চলনবিলের কৃষক। তবে গত দুই দিন পানি বৃদ্ধি স্থীতিশীল থাকায় কৃষকরা যে যারমতো ধান কাটতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। সর্বস্ব হারানো উদ্বিগ্ন কৃষকরা কৃষি বিভাগের পরামর্শে আধাপাকা ধান কেটে ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। ডুবে যাওয়া ও প্লাবিত জমির ধান কাটতে শ্রমিকদের প্রতিদিন মজুরি দিতে হচ্ছে ৬শ টাকা। বহন-মাড়াইয়ে দিতে হচ্ছে ৬ মণ ধান। তাতে শ্রমিকের মজুরি দিতে উত্পাদিত ধান বিক্রি করেও কিনারা পাওয়া যাবে কি না সন্দেহ। তবুও এমন চড়া মজুরিতেই ধান কেটে নিচ্ছেন জমির মালিকরা।