• আজ সোমবার। গ্রীষ্মকাল, ৬ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ১৯শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। রাত ১২:৩০মিঃ

শরীরের ‘বিশেষ স্থানে’ লুকিয়ে রেখেও শেষ রক্ষা হলনা দুই যুবতীর! যেভাবে উদ্ধার হলো ৪০ টি সোনার বার

১০:৪৫ পূর্বাহ্ন | রবিবার, এপ্রিল ৩০, ২০১৭ অপরাধ, আলোচিত বাংলাদেশ, স্পট লাইট

ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সময়ের কণ্ঠস্বর-

শরীরের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা প্রায় সাড়ে চার কেজি ওজনের স্বর্ণের বার উদ্ধার হয়েছে দুই যুবতীর কাছ থেকে। শনিবার রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যান্তরীণ টার্মিনালে দুই নারী যাত্রীর কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ৪০টি স্বর্ণের বারের আনুমানিক মুল্য প্রায় সোয়া দুই কোটি টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ ।

শনিবার সকাল নয়টায় চট্টগ্রাম থেকে রিজেন্ট এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছালে তা শুল্ক ও গোয়েন্দা তদন্ত অধিদফতরের এক অভিযানে ঐ দুই যুবতী নারীকে আটক করা হয় ।

শুল্ক গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, ওমানের মাস্কাট থেকে আসা ওই দুই নারীর নাম জেসমিন আক্তার ও পারভিন আক্তার। তারা রিজেন্ট এয়ারওয়েজের মাস্কাট-চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে চলাচলকারী আরএক্স ৭২৪ ফ্লাইটে চট্টগ্রাম থেকে অভ্যরন্তরীণ যাত্রী হিসেবে শাহাজালাল বিমানবন্দরে আসেন।

জেসমিন আক্তারের বাড়ি চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানাধীন কাঠগড় গ্রামে। তিনি গার্মেন্টস কর্মী। চট্টগ্রামের গ্লোরি ফ্যাশন নামক একটি প্রতিষ্ঠানে কোয়ালিটি কন্ট্রোলার হিসেবে কাজ করেন। অপর যাত্রী পারভীন আক্তারের বাড়ি চট্টগ্রামের সদরঘাট থানাধীন মাদারবাড়ী এলাকায়। তিনি পার্লারে কাজ করেন।

এর আগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুল্ক গোয়েন্দারা  সকাল থেকে ডোমেস্টিক রুটের বিমানগুলোতে সতর্ক অবস্থান নেয়। এরাইভাল জোনে আসার পর ওই যাত্রীদের আচরণ অস্বাভাবিক লাগায় তাদের থামিয়ে চ্যালেঞ্জ করা হয়। প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে তাদের আর্চওয়েতে হাঁটিয়ে ও মেটাল ডিটেকটর দিয়ে পরীক্ষা করে শুল্ক গোয়েন্দার দল সোনার উপস্থিতি নিশ্চিত হয়।

এরপর শুল্ক গোয়েন্দার নারী কর্মকর্তার দ্বারা ম্যানুয়ালি তল্লাশি করে তাদের শরীরে বিশেষ স্থানে লুকায়িত সোনার বারগুলো উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত সোনার পরিমাণ প্রতিটি ১০ তোলা করে সর্বমোট ৪ কোটি ৬৬৫ গ্রাম। উভয়ের কাছে ২০টি করে স্বর্ণের বার ছিল এবং তা একই কায়দায় লুকানো ছিল।

সূত্র আরো জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, জালাল নামে এক ব্যক্তি চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের চেকইন করার পর তাদের কাছে এই সোনার বারগুলো দেয়। তারা বিমানে ওঠার পর শরীরের ভিতরে লুকিয়ে ফেলেন। তারা দুজন প্রথমবারেরর মতো সোনা বহন করেছেন বলে জানান।

শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের মহাপরিচালক মইনুল খান জানান, শনিবার রিজেন্ট এয়ারওয়েজের মাস্কাট-চিটাগাং-ঢাকা রুটে চলাচলকারী আরএক্স৭২৪ ফ্লাইটে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা আসেন ওই দুই নারী।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে বিমান বন্দরের ডমেস্টিক অ্যারাইভাল এলাকায় অবস্থান নেয় গোয়েন্দারা।

মইনুল খান জানান, আটকরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, জালাল নামে এক ব্যক্তি চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে তাদেরকে সোনার বারগুলো দিয়েছিল এবং তারা বিমানে উঠার পর শরীরের ভিতরে সোনাগুলো লুকিয়ে ফেলেন।আটককৃত যাত্রীদের বিরুদ্ধে শুল্কসহ সংশ্লিষ্ট আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে ঢাকায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গতকাল  সকালে পৌনে দুই কেজি ওজনের ১৫টি সোনার বারসহ মোহাম্মদ মান্নান নামের এক যাত্রীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সূত্র জানায়, গতকাল বেলা ১১টার দিকে মান্নান মিয়া দুবাই থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের (বিজি ১২২) উড়োজাহাজে শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। তিনি ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে ১ নম্বর ব্যাগেজ বেল্ট থেকে লাগেজ সংগ্রহ করে গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করছিলেন।

এ সময় গোপন খবরের ভিত্তিতে তাঁকে শুল্ক ব্যাগেজ কাউন্টারে আনা হয়। এ সময় বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে তাঁর মালামাল তল্লাশি করে ১৫টি সোনার বার পাওয়া যায়। আটক সোনার মূল্য ৭০ লাখ টাকা।

চোরাচালান রোধে আসছে ‘টার্গেটিং স্মাগলড সিগারেট’

সিগারেট চোরাচালান প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘চোরাচালানকৃত সিগারেট প্রতিরোধ সপ্তাহ’ উদযাপনের উদ্যোগ নিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। যেখানে ওই প্রতিরোধ সপ্তাহের নাম দেওয়া হয়েছে ‘টার্গেটিং স্মাগলড সিগারেট’। সম্প্রতি এ ধরনের একটি প্রস্তাবনা শুল্ক গোয়েন্দা থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো হয়েছে।

এনবিআরে পাঠানো চিঠির সূত্রে জানা যায়, ‘টার্গেটিং স্মাগলড সিগারেট’ নামে চোরাচালানকৃত সিগারেট প্রতিরোধ সপ্তাহ আয়োজনের লক্ষ্যে এই দপ্তর বিশেষ উদ্যোগ গহণ করতে আগ্রহী। বিভিন্ন সূত্র হতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সিগারেট ইন্ড্রাস্ট্রি থেকে সরকার ২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রায় ১৬ হাজার ৩ শত ২৫ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করেছে, যা জাতীয় অভ্যন্তরীণ রাজস্বের প্রায় ১১ শতাংশ। চোরাচালান প্রতিরোধের মাধ্যমে এই ক্ষেত্র থেকে আরো অন্তত ৫০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায় করা সম্ভব বলে এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

এজন্য চোরাচালানের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাধারণ জনগণের মধ্যে নকল ও চোরাচালানকৃত সিগারেট সম্পর্কে এবং এর ফলে আইনগত কী কী শাস্তির বিধান আছে সে সম্পর্কে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ জরুরি। একই সঙ্গে অসৎ ব্যবসায়ীদের মনে ভীতি সৃষ্টি করতে হবে। আর এজন্যই এ ধরনের সপ্তাহ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, চোরাচালানকৃত সিগারেট প্রতিরোধ সপ্তাহে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং ভ্যাট গোয়েন্দাসহ অভিন্ন মনোভাবাপন্ন অংশীজন একসঙ্গে কাজ করবে। অন্যদিকে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ দ্বারা কোনো চোরাচালানকৃত সিগারেট ধরা পড়লে বা জব্দ করলে বর্তমানে এসআরও এর মাধ্যমে পর্যটন করপোরেশন কর্তৃক নির্ধারিত দামে যেকোনো আগ্রহী সংস্থা বা সংগঠকের কাছে বিক্রয় কিংবা জনসমক্ষে সেগুলো বিনষ্ট করা যেতে পারে। এতে চোরাচালানবিরোধী কার্যক্রম সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। আর এজন্যই সপ্তাহব্যাপী টার্গেটিং স্মাগলড সিগারেট নামে চোরাচালানকৃত সিগারেটের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সপ্তাহ আয়োজন করতে চাই। এ লক্ষ্যে সদয় সম্মতি ও নির্দেশনা জন্য অনুরোধ করা হলো।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান বলেন, ‘দেশে বর্তমানে বিপুল পরিমাণ সিগারেট চোরাচালন হচ্ছে। এর ফলে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে। অন্যদিকে জনস্বাস্থ্যের জন্যও তা হুমকি স্বরূপ। এই সেক্টরে আমরা ২০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করি। কিন্তু আমরা লক্ষ করেছি, সিগারেটে চোরাচালানের কারণে এই সেক্টরের শিল্প উদ্যোক্তরা মার খাচ্ছে। এ কারণেই এ ধরনের উদ্যোগ।’

তিনি আরো বলেন, ‘তা ছাড়া আমরা আরো লক্ষ্য করেছি স্মাগলিংয়ের মাধ্যমে বিদেশ থেকে যে সিগারেটে আসে তা নকল কিংবা মেয়াদ ‍উত্তীর্ণ। এ ধরনের সিগারেট যাতে মার্কেটে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য সেমিনার ও সভার মাধ্যমে জনসেচেতনতা বৃদ্ধি করাই আমাদের উদ্দেশ্য।’

মইনুল খান বলেন, ‘সিগারেট চোরাচালান প্রতিরোধ সপ্তাহ আয়োজনের মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্থা ও নাগরিককে সম্পৃক্ত করা হবে। যাতে যে কেউ এই সংশ্লিষ্ট তথ্য থাকলে আমাদের অবহিত করে। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন চেয়েছি। আশা করি খুব শিগগিরই অনুমতি পাওয়া যাবে।’

এদিকে, বিষয়টি বিবচনাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান।