সংবাদ শিরোনাম

‘লঘু পাপে গুরু দণ্ড’; তিনটি মুরগি চুরির দায়ে দেড়লাখ টাকার জরিমানা চার তরুণের!কুড়িগ্রামের সবগুলো নদ-নদী শুকিয়ে গেছে, হুমকীতে জীব-বৈচিত্রহেফাজতের আরেক কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেপ্তারমধুখালীতে বান্ধবীর সহায়তায় অচেতন করে দফায় দফায় ধর্ষণের শিকার নারী!বাসস্ট্যান্ডে প্রকাশ্যে চায়ের স্টলে ইতালি প্রবাসীকে কুপিয়ে হত্যাগোবিন্দগঞ্জে মর্মান্তিক সড়ক দূঘর্টনায় স্কুল শিক্ষকসহ একই পরিবারের ৪ জন নিহতময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদের পানিতে ডুবে মারা গেলো ৩ শিশুমুহুর্তেই ভয়াবহ আগুন! স্কুলেই পুড়ে মরলো ২০ শিশু শিক্ষার্থী!সাবেক আইনমন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু আর নেইসব রেকর্ড ভেঙে চুরমার, একদিনেই ৯৬ জনের মৃত্যু

  • আজ ১লা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শত মিনতির পরেও কলাপাড়ার রোশনা বেগমের ভাগ্যে জোটেনি বয়স্ক কিংবা বিধবা ভাতার কার্ড

৪:৫২ অপরাহ্ন | রবিবার, এপ্রিল ৩০, ২০১৭ দেশের খবর, বরিশাল

জাহিদ রিপন, পটুয়াখালী প্রতিনিধি-  উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া গ্রামের হলাল ফকিরকে স্ত্রী রোশনা বেগম (৫৬)। বিধবা হয়েছেন ২৬ বছর পূর্বে। সিডরে স্বামীর ভিটে নদী গর্ভে বিলীন হওয়ায়, থাকেন অন্যের বাড়ীতে আশ্রিতা হয়ে বাঁশ আর পলিথিনের তৈরি একটি ঝুপড়ি ঘরে।

unnamedপ্রায় বয়সের ভারে রোগাক্রান্ত শরীর নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছেন। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের কাছে ধরনা দিয়ে শত মিনতির পরেও বয়োবৃদ্ধা এ বিধবার ভাগ্যে জোটেনি বয়স্কভাতা কিংবা বিধবা ভাতার কার্ড। কপালে জোটেনি তাদের নেক নজর কিংবা দয়া।

রোশনা বেগম বলেন, ত্রিশ বছর আগের কথা। স্বামী হেলাল ফকির সমুদ্রে মাছ শিকারে গিয়ে অদ্ভুত কিছু একটা দেখে ভয় পেয়ে শরীরে অত্যাধিক জ্বর নিয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন। ডাক্তার, কবিরাজ আর ফকিরের ঝাঁড়-ফুক কোন কিছুতেই আর সুস্থ হয়ে ওঠেননি। দুই মাস পরে চাল যান পরপারে। স্বামীর মৃত্যুর পরে নদীর পাড়ে দ্ইু সন্তান নিয়ে ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করতেন। দুবেলা দুমুঠো অন্ন জোগাতে বেছে নিয়েছিলেন গৃহপরিচারিকার কাজ। কিন্তু মাথা গোজার সেই আশ্রয়টুকুও কেড়ে নিয়েছে ঘূুির্নঝড় সিডর। পরে চৌধুরীপাড়ার আনছার উদ্দিনের দয়ায় তার বাড়ির পূকূর পারে পলিথিন আর বাঁশের তৈরি ঝুপড়ি ঘরে পরবাসী হয়ে থাকছেন।

কান্না জড়িত কন্ঠে রোশনা সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, অর্ধাহারে অনাহারে থেকে ছেলেরা বড় হয়েছে। বড় ছেলে নিজাম (৩২) কিডনি জনিত রোগে ভুগছে। নিয়মিত ওষুধ খেতে না পারলে হাত-পাঁসহ শরীর ফুলে ওঠে। চিকিৎসার জন্য কারো সহযোগিতা পাচ্ছেন না। নিজে ভুগছেন শ্বাস কষ্টজনিত রোগে। খেতে পারছেন না ওষুধ।

ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য মজিবর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি দেখার দ্বায়িত্ব সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্যের।

এ ব্যাপারে সংশ্লিস্ট ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য কনিকা বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই ওয়ার্ডের পুরুষ মেম্বার সব সময়ই এসব কথা বলেন। আর একারনে অনেকেই বিধবা ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

তবে নতুন তালিকায় বিধবা রোশনাকে অর্ন্তভূক্ত করা হবে এমন আশ্বাস দিয়ে লালুৃয়া ইউপি চেয়ারম্যান মীর তারিকুজ্জামান (তারা) বলেন, কোন ইউপি সদস্যই তাকে রোশনা বেগমের বিষয়টি অবহিত করেনি।