• আজ মঙ্গলবার। গ্রীষ্মকাল, ৭ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ২০শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। সকাল ৭:১৬মিঃ

নিষিদ্ধ করা হয়নি শাকিব খানকে! জানালেন খোদ পরিচালক খোকন, দিয়েছেন ব্যাখ্যাও

৫:৫২ অপরাহ্ন | রবিবার, এপ্রিল ৩০, ২০১৭ Breaking News, Uncategorized, বিনোদন, স্পট লাইট

বিনোদন প্রতিবেদক, সময়ের কণ্ঠস্বর: ঢালিউডের চিত্রনায়ক শাকিব খানকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গেল দুইদিন থেকে চলচ্চিত্রাঙ্গন সহ মিডিয়ার সর্বত্র এ আলোচনাই গল্পের খোরাক যোগাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ঢালিউডের পাশাপাশি দেশীয় গণমাধ্যম এখন বেশ সরগরম।

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট পরিচালক সমিতি, গ্রাহক সংস্থা, ফিল্ম এডিটরস গিল্ড, ফাইট ডিরেক্টর অ্যাসোসিয়েশন, নৃত্য পরিচালক সমিতি, স্থিরচিত্র গ্রাহক সমিতি, সহকারি চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতিসহ মোট ১৩টি সংগঠন শাকিব খানকে নিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য কাজ না করার ঘোষণা দিয়েছেন।

গত ২৯ এপ্রিল (শনিবার) পরিচালক সমিতিতে একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। এবং কি তার সঙ্গে কোনো চলচ্চিত্রের শুটিং ও ডাবিংয়ের কাজেও অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতিসহ সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পরিচালকদের বিপক্ষে গিয়ে কথা বলাতে বিষয়টিকে ইস্যু বানিয়ে শাকিব খানকে উকিল নোটিশ অতঃপর তার সঙ্গে সমিতির সদস্যদের কাজ না করার ঘোষণা দেয় পরিচালক সমিতি।

প্রথমদিকে পরিচালক সমিতি এ কার্যক্রমের সঙ্গে এককভাবে থাকলেও পরবর্তীতে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট এফডিসিকেন্দ্রিক অন্যান্য সংগঠনও এর সঙ্গে যুক্ত হয়। তবে তাদের সঙ্গে প্রযোজক সমিতির কোনো নেতৃবৃন্দ কিংবা শিল্পী সমিতির কেউ ছিলেন না।

এদিকে গণমাধ্যমসহ মিডিয়াঙ্গনে যখন শাকিব খানকে নিষিদ্ধ করার কথা বলা হচ্ছে ঠিক তখন খোদ পরিচালক সমিতির মহাসচিব বদিউল আলম খোকন বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেছেন, ‘শাকিব খানকে নিষিদ্ধ করা হয়নি। এটাকে নিষিদ্ধ বললে ভুল হবে।’

বিষয়টির ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, আমরা বেশ কয়েকটি সংগঠন বিতর্কিত বিষয়টির সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত তাকে নিয়ে কাজ না করার ঘোষণা দিয়েছি। এর বাইরে কিছু নয়। মহাসচিবের মন্তব্যের রেশ ধরেই বলা যায়, তাহলে ‘শাকিব নিষিদ্ধ’ কথাটি কেন বলা হচ্ছে?

এদিকে বয়কট ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয় শাকিব খানের প্রতি নির্মাতাদের নানা অশালীন ভাষায় আক্রমণ করার পালা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অন্যান্য অনলাইন মাধ্যমে একেকজন নির্মাতা যে যার মতো শাকিব খানকে নিয়ে এলোমেলো কথা বলে যাচ্ছেন।

শাকিব খান নির্মাতাদের ‘বেকার’ বলেছেন। অন্যদিকে প্রকারান্তরে কয়েকজন সিনিয়র নির্মাতা শাকিব খানকে স্টুপিড, অকৃতজ্ঞ, তার ছবি দেশের প্রেক্ষাগৃহে চলতে দেয়া হবে না ইত্যাদি মন্তব্য করেছেন।

কিছু কিছু সিনিয়র পরিচালকের এমন আচরণে স্বয়ং পরিচালক সমিতির অনেক সদস্যই বিরক্ত হয়ে পড়ছেন।

এ প্রসঙ্গে চিত্রনায়ক ফারুক বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে কাদা ছোঁড়াছুড়ি না করে, দ্রুত উভয় পক্ষ একসঙ্গে বসে সমাধান করে ফেলা উচিত। এটা সবার জন্য ভালো হবে। তবে শাকিবেরও পরিচালকদের এভাবে বলা উচিত হয়নি, সবার সময় এক রকম থাকে না। কাজ কমে যেতে পারে, তাই বলে এমন কথা বললে খারাপ লাগাটা স্বাভাবিক। এমনটি বলে শাকিব ভুল করেছে। পরিচালকদেরও ভাবা উচিত, শাকিব আমাদের ছেলে। আর শাকিবেরও ভাবা উচিত, নির্মাতারা আমাদেরই লোক। আমরা যে যাই বলি না কেন, শাকিব তো সিনেমা ছেড়ে দেবে না। তার হাতে অনেক সিনেমা রয়েছে। শাকিবের কাজ করার ক্ষমতাও আছে। সে কি কাজ বন্ধ করে দেবে? উভয় পক্ষের অন্তর বড় একটা জায়গায় আসা উচিত। বোঝা উচিত, ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। এটা মনের মধ্যে ধরে রাখা ঠিক হবে না। মিটমাট করে ফেলা উচিত। তা না হলে এতে উভয় পক্ষেরই ক্ষতি হতে পারে।’

অপরদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সমিতির অনেক পরিচালকও শাকিব খানের বিরুদ্ধে এ নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করেছেন। তারা জানিয়েছেন, শাকিব খান শুরুতে পরিচালকদের নিয়ে যা বলেছেন তা মোটেও ঠিক হয়নি। এটা অবশ্যই অপরাধ। তার বিপরীতে পরিচালক সমিতির পক্ষ থেকে যে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে এটাও ঠিক নয়। বিষয়টি নিয়ে সুন্দর সমাধানে যাওয়া সম্ভব ছিল।

এদিকে চলচ্চিত্র থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় পাবনায় শামীম আহমেদ রনির ‘রংবাজ’-এর সেট থেকে মুঠো ফোনে শাকিব খান জানায়, অনেক আগে থেকেই আমি বলে আসছি যে, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আর সেটারই বাস্তব রূপ দেখছেন এখন। আসলে জনপ্রিয়তার শীর্ষে চলে গেলে তখন এমনই ষড়যন্ত্রের শিকার হতে হয়।

পরিচালকদের নিয়ে আমি এমন কোনো কথা বলিনি, যেটার জন্য আমাকে নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন। বিষয়টির একটি সুন্দর সমাধান হতে পারত। কিন্তু, তারা সে পথে না গিয়ে উল্টো পথে হাঁটলো। তবে আমাকেও দুর্বল ভাবা বোকামি হবে। দর্শকদের কাছে আমার গ্রহণযোগ্যতা আছে। ইন্ডাস্ট্রির সহ-শিল্পীরা আমার সঙ্গে আছেন। এই ষড়যন্ত্রের রহস্য উন্মোচন শিগগিরই হবে।

আপনার নিষিদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্তে তো চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ১৩টি সংগঠনের মত আছে। এ প্রসঙ্গে কি বলবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে শাকিব বলেন, সবাই যদিও দেখছে ১৩টি সংগঠন, আমি দেখছি একজন মানুষকে। তিনি একাই সব কলকাঠি নাড়ছেন এবং আমার ক্যারিয়ার ধ্বংসের পাশাপাশি দেশীয় চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিকে ধ্বংসের পায়তারা করছেন।

স্পষ্ট করে শাকিব আরও বলেন, বদিউল আলম খোকন পরিচালক সমিতির মহাসচিব হওয়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। ভুলে গেলে চলবে না, তার ক্যারিয়ার আমার জন্যই স্বচ্ছল হয়েছিলো। একসময় অশ্লীল ছবি নির্মাণের জন্য তিনি নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। সেই জায়গা থেকে তিনি আমার মাধ্যমেই উঠে এসেছেন। আর এখন আমি ভালো কাজ করতেছি দেখে তার সহ্য হচ্ছে না। তার বস্তাপচা ছবিতে এখন আর আমি কাজ করি না। এটাই তার একমাত্র ক্ষোভ। আর এটাই তিনি ঝাড়ছেন আমার উপর।

আপনার পরবর্তী পদক্ষপে কি হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে শাকিব বলেন, সোমবার (১ মে) শিল্পী সমিতির সঙ্গে সভা করব। এজন্য শুটিং ফেলে পাবনা থেকে ঢাকায় ফিরছি। এরপর সংবাদ সম্মেলন করে সবাইকে জানাবো। তাছাড়া দেশের আইন আছে, প্রশাসন আছে, সবার সহযোগিতা নিয়েই আমি এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়ব।

এদিকে শাকিব খানের পক্ষে পরিচালকদের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন চিত্রনায়ক বাপ্পারাজ। তিনি বলেন, ‘পরিচালক সমিতি চাইলে চলচ্চিত্রের উন্নতি করতে পারে। কিন্তু তারা কোনো কাজ না করে একজন আরেকজনের পেছনে লাগছে। শাকিব এখন বাংলাদেশের এক নম্বর নায়ক। কেউ যদি দাবি করে শাকিব খানকে তিনি তৈরি করেছেন তাহলে শাকিবও বলতে পারেন, তিনি ওই পরিচালককে হিট ছবি দিয়েছেন! আমাদের দেশের মানুষ কখনোই একজনকে ওপরে উঠতে দেয় না, কেউ উঠতে চাইলে টেনে নামানোর চেষ্টা করা হয়। পরিচালক সমিতির কারো সঙ্গে দ্বন্দ্ব হলেই তারা তাকে শত্রু বানিয়ে ফেলে। এটা ঠিক নয়।’

তবে বাপ্পার এমন মন্তব্যে ক্ষোভ জানিয়েছেন পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার ও মহাসচিব বদিউল আলম খোকন। তিনি বলেন, ‘বাপ্পারাজ শুধু অভিনেতা নন, তিনি পরিচালকও। একজন পরিচালক হয়ে তিনি কিভাবে আমাদের ছোট করেন! তার কাছ থেকে আমরা এটা আশা করিনি। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’

বাপ্পারাজের বিরুদ্ধে নিন্দা জানালেও তার বিরুদ্ধে কোনো নোটিশ কিংবা নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি পরিচালক সমিতি। একই কথার জন্য দুইজন শিল্পীর প্রতি পরিচালক সমিতির দুইরকম আচরণেরও সমালোচনা করেছেন অনেকে।

ঢাকাই চলচ্চিত্রের বেহাল দশা বেশ ক’বছর ধরেই। এর মধ্যেও কিছু শিল্পী, নির্মাতা ও প্রযোজক প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে যাচ্ছেন দেশের চলচ্চিত্র শিল্পটাকে টিকিয়ে রাখতে। তাদের মধ্যে অন্যতম শাকিব খান। বিগত দশ বছর যাবত বলা চলে তিনি একাই লড়ে যাচ্ছেন বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য। তার ছবির জন্যই এখনও কিছু দর্শক হলে যায়। সিনেমা হলগুলো টিকে থাকার পেছনেও এই নায়কের ভুমিকা অন্যতম। প্রযোজকরাও তাকে নিয়ে ছবি করে নিশ্চিন্তে থাকেন। এতসব ভালো দিকের মাঝেও সমালোচনার মুখে পড়ে অবশেষে নিষিদ্ধ হতে হলো তাকে। তবে, সিনেমাপ্রেমিরা আশা করছেন, শিগগিরই এই সঙ্কটের অবসান হবে। এবং দেশীয় চলচ্চিত্রের উন্নয়নে সবাই একাত্ম হয়ে কাজ করবেন।