• আজ ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

যে কারণে হট্টগোলের ঘটনা ঘটলো অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যবসায়ীদের

৪:২১ অপরাহ্ন | রবিবার, এপ্রিল ৩০, ২০১৭ Breaking News, অর্থনীতি, জাতীয়, স্পট লাইট

সময়ের কণ্ঠস্বর: আগামী অর্থবছরের বাজেট নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) যৌথ পরামর্শক সভায় মূসক বা ভ্যাট নিয়ে হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে।

রোববার দুপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত সভায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের এই হট্টগোলের ঘটনা ঘটে।

যৌথ পরামর্শক সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সভাপতি আবু মোতালেব সভায় বলেন, ভ্যাট নিয়ে এনবিআর ও এফবিসিসিআই কাজ করছে। কিন্তু ফলাফল শূন্য। ভ্যাট নিয়ে ব্যবসায়ীদের প্রশিক্ষণের কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। শুধু লোক দেখানো প্রশিক্ষণ হয়েছে। প্রশিক্ষণ না দিলে চক বাজারের ব্যবসায়ী কীভাবে জানবে ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্ট্রার কী?। তিনি আরও বলেন, ‘ভ্যাট নিয়ে এফবিসিসিআই যে প্রস্তাব দিয়েছে তা আশা করি মেনে নেবেন। তা মানা না হলে আমরা আন্দোলন করব।

এ সময় আবু মোতালেবের বক্তব্য থামিয়ে দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আট লাখ নিবন্ধিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ভ্যাট দেয় ৩২ হাজার। মোতালেবের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে কতজন ভ্যাট দেন? আপনারা খামাখা আন্দোলন করছেন। যদি আপনারা আন্দোলন করেন, তবে আমরা তা দমন করব।

এ সময় অন্য ব্যবসায়ীরা অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ করে হইচই শুরু করে দেন। অনেকে আন্দোলন দমনের হুমকি দেবেন না—এমন কথাও উচ্চকণ্ঠে বলতে থাকেন।

সম্মেলন কক্ষে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। ব্যবসায়ীদের শান্ত করতে এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আশা করি ব্যবসায়ীদের ন্যায্য দাবি মেনে নেবেন। আপনারা ধৈর্য ধরেন। এখনো আমরা বাজেট দেখিনি। জানি না বাজেটে কী আছে।

এরপর এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, এই ধরনের পরামর্শক সভায় আন্দোলনের হুমকি দেবেন না। এ ধরনের ফোরামের একটি আলাদা ভাষা আছে। এরপর পরিস্থিতি শান্ত হয়। বর্তমানে নিয়মিত কার্যক্রম চলছে।

এরপর এফবিসিসিআইয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট শফিউল ইসলাম মহিউদ্দীন ব্যবসায়ীদের থামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি বলতে থাকেন, ‘হাসিনার সরকার ব্যবসাবান্ধব সরকার। ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয় এমন কিছু তিনি করবেন না।’

পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আবু মোতালেব বক্তব্য আমার পছন্দ হয়নি। তিনি থ্রেট দিয়েছেন। এটা মোটেও ঠিক হয়নি। তিনি যুদ্ধ বাঁধিয়ে দেবেন এমন একটা ভাব। এটা ঠিক না। আমরা এখানে বসছি আলোচনা করতে। তাহলে এ ধরনের কথা কেন? ভবিষ্যতে এটি খেয়াল রাখবেন।’