• আজ ২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

চাঞ্চল্যকর এমপি লিটন হত্যাকাণ্ডে কাদেরকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট

৭:৫০ অপরাহ্ন | রবিবার, এপ্রিল ৩০, ২০১৭ Breaking News, জাতীয়

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের আওয়ামী লীগের দলীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যাকাণ্ডে জড়িত জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি কর্নেল (অবঃ) ডাঃ আব্দুল কাদের খানসহ আট জনকে আসামি করে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

রোববার বিকেলে কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. জামাল উদ্দিন মণ্ডলের কাছে বিচারিক প্রক্রিয়ায় উত্থাপনের জন্য চার্জশিট ও বিভিন্ন আলামত জমা দেন সুন্দরগঞ্জ থানার (ওসি) তদন্তকারি কর্মকর্তা মো. আশরাফুজ্জামান। লিটন হত্যাকাণ্ডের ১২১ দিনের মাথায় দীর্ঘ তদন্ত ও অনুসন্ধান শেষে বহুল প্রত্যাশিত এই চার্জশিট জমা দেওয়া হলো। এমপি লিটন হত্যার পর তার ছোট বোন ফাহমিদা বুলবুল কাকলী সুন্দরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন।

ওসি আশরাফুজ্জামান বিকেল ৫টায় আলামতবাহি একটি ট্রাকসহ পুলিশ পিকআপে রওনা হন। সন্ধ্যা ৬টায় তিনি গাইবান্ধা আদালত চত্বরে উপস্থিত হন। পরবর্তীতে তিনি কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. জামাল উদ্দিন মণ্ডলের কাছে এসব জমা দেন।

ওসি জানান, মামলার নথিপত্র (পুলিশ ডকেট) পৃষ্ঠা সংখ্যা ৫৮৩ এবং চার্জশিটে ৫ পাতা রয়েছে। এছাড়া খুনের সাথে সম্পর্কিত ৮৫ রকমের আলামত তিনি জমা দেন। এরমধ্যে রয়েছে একটি মাইক্রোবাস, দুটি পালসার মোটরসাইকেল, ১০/১২টি মোবাইল ও অন্যান্য সামগ্রী।

জামাল উদ্দিন মণ্ডল জানান, বিচারিক হাকিমের অনুমোদন অনুযায়ি আগামী কার্য দিবসে চার্জশিট আদালতে উত্থাপন করা হবে। এরপর বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, কাদের খান ছাড়াও ওই চার্জশিটে তার কিলার বাহিনীর সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম ওরফে রানা, শাহীন মিয়া শান্ত, রাশেদুল হাসান মেহেদী, ব্যক্তিগত সহকারি (পিএস) শামছুজ্জোহা সরকার, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক চন্দন কুমার রায়, তার ভগ্নিপতি কসাই সুবল চন্দ্র রায়, কাদের খানের গাড়ি চালক আব্দুল হান্নানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

এমপি লিটন গত ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সর্বানন্দ ইউনিয়নের শাহবাজ মাস্টারপাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে খুন হন। এই ঘটনার পর পরই পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সবকটি সংস্থা জামায়াত-শিবির, দলীয় কোন্দল, জেলা পরিষদ নির্বাচন, পারিবারিক বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে তদন্তে নামে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যক্তিগতভাবে দোষীদের চিহ্নিত করার আদেশ দেন। এমপি লিটনের জামায়াত-শিবির বিরোধী ভূমিকার কারণে শুরুতে তদন্ত জামায়াত-শিবিরের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করলেও পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের কেউ কেউ সন্দেহভাজন হিসেবে আটক হন। এই মামলার প্রথম দিকে বেশকিছু জামায়াত-শিবির কর্মীসহ ২৩ জনকে আটক করা হলেও পরবর্তীতে সুনির্দিষ্টভাবে আট জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হলো। এর আগে খুন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য ৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নেয়া হয়।