• আজ ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আগামী অর্থবছরের বাজেটে করপোরেট কর হার কমানো হবে

১১:১৬ অপরাহ্ন | রবিবার, এপ্রিল ৩০, ২০১৭ অর্থনীতি

ঢাকাঃ রোববার রাজধানীর আগারগাঁও বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড  (এনবিআর) ও এফবিসিসিআইয়ের যৌথ পরামর্শক সভায়  অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ইঙ্গিত দেন, ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে করপোরেট করহার কমানোর দাবির প্রেক্ষিতে আগামী অর্থবছরের বাজেটে  করপোরেট কর হার কমানো হবে বলে জানান তিনি ।

অর্থমন্ত্রী বলেন,‘ এবার সর্বোচ্চ করপোরেট করহার কমানোর চিন্তা করছে সরকার। একইসাথে ব্যক্তি পর্যায়ের করমুক্ত আয়সীমা ৩ থেকে ৫ বছরের জন্য ফিক্সড করা যায় কি-না সেটাও আমরা ভাবছি।’  সভায় ব্যবসায়ীরা আসছে বাজেটে সব ধরনের কোম্পানির করপোরেট করহার কমানোর প্রস্তাব দেন।  এছাড়া ব্যক্তি শ্রেণীর করমুক্ত আয়সীমা ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা করার  সুপারিশ করেন তারা।

সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান, এফবিসিসিআই সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদ, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন,  ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাশেম খানসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।

মন্ত্রী বলেন,  ব্যক্তি পর্যায়ের আয়কর সীমা ঘোষণার পাশাপাশি নারীদের করমুক্ত করসীমার একটি স্থায়ী কাঠামো দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমেরিকাসহ উন্নত দেশগুলোর মতো আয়ের লিমিট দেয়া হবে।  লিমিটের বেশি আয় হলে অবশ্যই ট্যাক্স দিতে হবে।

তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা অগ্রীম ভ্যাট না নেওয়ার দাবি তুলেছেন। বর্তমানে ৫ শতাংশ অগ্রীম ভ্যাট আদায় করা হয়। বাজেটে ব্যবসায়ীদের দাবি বিবেচনার চেষ্টা করবো। এছাড়া ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশের আইসিটি সেক্টরকে অবমুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু আইসিটি ব্যবসায়ীরা বলছেন তারা অবমুক্ত সার্টিফিকেট পায়নি। এটা ঠিক হয়নি।  এনবিআরকে বলবো দ্রুত তাদেরকে এটা দেয়া উচিত।

ভোক্তা স্বার্থ সুরক্ষায় আইনের প্রসঙ্গে মুহিত বলেন,  টোব্যাকো ট্যাক্সে বাংলাদেশ দূর্বল।  আগামী অর্থবছর টোব্যাকো ট্যাক্স ভালো হবে। বিড়ি দেশ থেকে বিদায় দিতে হবে।  বিড়ি নিয়ে অনেক মিথ আছে।  বিড়ি এখন নেই, সব লো কোয়ালিটির সিগারেটের পরিণত হয়েছে।
আসন্ন বাজেটকে উচ্চাভিলাষী উল্লেখ করে তিনি বলেন,  আগে ট্যাক্স দেওয়ার সময় হয়রানির ঘটনা ঘটতো;  সেজন্য অনেকেই ট্যাক্স নেটে আসতে চাইতো না। এ সংস্কৃতিকে আমরা সফলভাবে বিদায় করেছি। এখন মানুষ ট্যাক্স দিতে চায়। ট্যাক্স দেয়াকে বাহাদুরী মনে করে।তরুণ প্রজন্মও ট্যাক্স দিতে আগ্রহী। আমাদের ই-টিআইএন প্রতিদিন বাড়ছে। তাই আগামী বাজেটকে বড় করতে চাই, এটাকে উচ্চাবিলাসীও বলতে পারেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সভায় এক ব্যবসায়ী নেতা নতুন ভ্যাট আইনের আওতায়  এফবিসিসিআইয়ের প্রস্তাব মোতাবেক ভ্যাট হার মেনে না নিলে আন্দোলনে যাবার হুমকি দিলে অর্থমন্ত্রী বলেন,‘ আপনারা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে কতজন ভ্যাট দেন?  আপনারা খামাখা আন্দোলন করছেন। যদি আপনারা আন্দোলন করেন,  তবে আমরা তা দমন করব।’

সভায় শুধু মূল্য সংযোজনের ওপরেই কর আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে এফবিসিসিআই।  এ ছাড়া বেশ কিছু খাতে রেয়াতি হারে মূসক আরোপের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।  আবার যাঁরা নতুন আইনে উপকরণ রেয়াত নিতে পারবেন না; তাঁদের ওপর সাড়ে ৪ শতাংশ হারে মূসক আরোপ করার সুপারিশ করা হয়েছে।  ৩৬ লাখ টাকা থেকে ৫ কোটি টাকার লেনদেন পর্যন্ত ৩ শতাংশ হারে টার্নওভার কর আরোপের প্রস্তাব  দেওয়া হয়েছে।

করপোরেট করের ক্ষেত্রে এফবিসিসিআইয়ের প্রস্তাব হলো,  শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের করপোরেট কর হার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ২২ শতাংশ;  শেয়ারবাজারে তালিকাবহির্ভূত অন্য উৎপাদনশীল প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ (ভ্যাট নিবন্ধনের শর্ত থাকবে) ;  অন্য ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের সাড়ে ৩২ শতাংশ কর আরোপ।  এ ছাড়া যেসব ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত,  তাদের কর হার ৪০ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৩৭ শতাংশ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।  শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কর হার কমিয়ে ৪০ শতাংশ এবং  মার্চেন্ট ব্যাংকের কর হার ৩৫ শতাংশ করার সুপারিশ  করেছে সংগঠনটি।