• আজ ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শায়েস্তাগঞ্জে বাড়ছে শিশু শ্রম, ন্যায্য মুজুরী থেকে বঞ্চিত

৩:৪৯ অপরাহ্ন | সোমবার, মে ১, ২০১৭ দেশের খবর, সিলেট

hfh


মঈনুল হাসান রতন, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :

শায়েস্তাগঞ্জে দিন দিন শিশু শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ছে। ন্যায্য মুজুরী থেকে বঞ্চিত।  বিদ্যালয় থেকে ঝড়ে পড়া শিশুরাই এখন বিভিন্ন জায়গাই শ্রমিকের কাজ করছে। যেবয়সে শিশুদের বই খাতা নিয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা সে বয়সেই ওইসব শিশুদের ঝুকিপূর্ণ কাজ করতে হচ্ছে। দিন রাত পরিশ্রম করে এরা কঙ্কালের রূপ ধারণ করেছে।

প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করলেও ঠিকমত পাচ্ছে না উপযুক্ত পারিশ্রমিক। যেমন পায় না পারিশ্রমিক নেই মালিক পক্ষ থেকে তাদের প্রতি সহানুভূতিও। নিজেরদের সামান্য ত্রুটিতেই তাদের গুণতে হয় জরিমানা। খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন হাট বাজারে ওইসব শিশু শ্রমিকের একটি বড় অংশ ঝুঁকিপূর্ণ কারজে নিয়োজিত রয়েছে।

ওইসব শিশুরা মেক্সি, টেম্পু, মাইক্রোবাসের হেল্পার ,কেউবা চালাচ্ছে রিক্সা, কেউ কাঠ মিস্ত্রি, রাজ মিস্ত্রি সহকারী হিসেবে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে প্রতিদিনই। কিছু সংখ্যক শিশু মুদির দোকান আর হোটেল রেস্তেুারাঁয় হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে যাচ্ছে। কিন্তু মাসের শেষে পারিশ্রমিক হিসেবে যা পাচ্ছে তা খুবই সামান্য। এসব শিশু অধিকাংশই পিতা-মাতাহীন। অবাবের সংসারে অনেকে আবার পেটের তাগিদে শিশু বয়সেই ঝুকিপূর্ণ কাজে সন্তানদের দিয়ে দেয়। বিভিন্ন বাসা বাড়িতে ঝিয়ের কাজে অনেক শিশুরাই নিয়োজিত। ষ্টেশন ও বাস ষ্ট্যান্ডে  স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদপত্রের হকার, ফেরিওয়ালা, জুতাপালিশ, কুলি-মজুর আর দেখা যায় মটর গাড়ির মেরামত কারখানার শ্রমিক হিসেবে শিশুদের ।

আন্তর্জাতিক আইনে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিশু হিসেবে গণ্য হলেও  সে আইনের তোয়াক্কা করে না কেউ । বর্তমানে সমাজের অনেকেই শিশুদের শ্রমিক হিসেবে খাটান। বিপরীতে পারিশ্রমিক দেন নগন্য। মনমত কাজ না হলে ওইসব শিশু শ্রমিকদের ভাগ্যে জুটে নির্যাতন। এমনই এক শিশু শ্রমিক গফুর। রিক্সা চালানো যার পেশা। “এ বয়সের রিক্সা চালাও কেন এমন প্রশ্নে স্থানীয় ভাষায় সহজ উত্তর রিক্সা না চালাইলে খাইমু কি তা”।

পত্রিকার হকার রুবেল, ছত্তার প্রতিদিন জীবনের ঝুকি নিয়ে শায়েস্তাগঞ্জে নতুনব্রীজে পয়েন্টে বাসযাত্রীদের কাছে পত্রিকা বিক্রি করে। আর তোফাজ্জল কাজ করছে রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে বিল্ডিংয়ের ছাদে বসে। শিশু রবি শহরে মার্কেটে মার্কেটে ঘুরে মানুষের জুতা পালিস করে। শায়েস্তাগঞ্জে রেলওয়ে ষ্টেশনে ট্রেনে চড়ে ভিক্ষা করে এক পা কাটা রাসেল। সে জানায়, তার বয়স যখন ৮-১০ বছর তখন সে ট্রেনে চড়ে পানি বিক্রি করত। একদিন ট্রেনে উঠার সময় পা পিছলে ট্রেনের নিচে পড়ে তার একটি পা কাটা পরে। ওইসব শিশুরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। জানে না তাদের ভবিষ্যৎ কি?