শ্রীপুরে স্বামী ও মেয়ে হারা হালিমার পাশে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক

৭:১৪ অপরাহ্ন | সোমবার, মে ১, ২০১৭ ঢাকা, দেশের খবর

ds


মোশারফ হোসাইন তযু শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

লজ্জা, ক্ষোভ সর্বোপরি বিচারহীনতার কারণেই হযরত আলী ও তার মেয়ে আয়েশা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে বলে দাবি করেছেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। সোমবার দুপুরে  গাজীপুরের শ্রীপুরে আত্মহত্যায় বাধ্য হওয়া হযরত আলীর বাড়ি পরিদর্শনে গিয়ে এ দাবি করেন তিনি। এসময় তিনি হযরত আলীর স্ত্রী হালিমা বেগমের সাথে কথা বলেন। পরে রিয়াজুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘নিহতের স্ত্রী  হালিমা বেগমের অভিযোগ অনুযায়ী তার আট বছরের মেয়েকে যে নির্যাতন এবং মর্যাদাহানি করা হয়েছে সে বিষয়ে থানায় জিডি করা হয়েছিল। সেটি একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল। কী কী ধরনের অন্যায় তার প্রতি করা হয়েছে সেগুলোও জিডিতে উল্লেখ  করা হয়েছে। সে ব্যাপারে পুলিশ তদন্ত করেছে এবং বাদীর সঙ্গে কথা বলেছে।

কিন্তু পুলিশ কোনও লিখিত প্রতিবেদন দেয়নি । হযরত আলীর বাড়িতে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘আমি মনে করি এ অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে  ট্রিট করে বিবাদীদের ধরার জন্য আরও বেশি সক্রিয় হওয়ার দরকার ছিল। হালিমা বেগম জানিয়েছেন, পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি । মেয়ের মর্যাদাহানির জন্য দুঃখ, ক্ষোভ, লজ্জা,  থেকে হযরত আলী ও তার মেয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। সমাজ ও আইনের প্রতি বিশ্বাসের অভাবেই তাকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হয়েছে।

রিয়াজুল হক বলেন, ‘আইন বলেছে, রাষ্ট্র যাকে যে দায়িত্ব বা ক্ষমতা দিয়েছে তা যদি সে সঠিকভাবে ব্যবহার না করে তবে তার দ্বারা মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বলে ধরা নেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘন যারা করেছেন তাদের সঙ্গে পুলিশও এ দায় এড়াতে পারে না। বার বার বিচারহীনতার কারণে মানুষের মধ্যে অস্বাভাবিকত¦ আসতে পারে।

তাই বলে কাউকে পাগল ভাবা যাবে না। সে হিসেবে হয়রত আলীর স্ত্রী হালিমাকে সত্যিকার অর্থে বদ্ধ পাগল বলা যাবে না। মেডিক্যাল সায়েন্স এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবে। কাজী রিয়াজুল হক বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল দীর্ঘদিন ধরে হযরত আলীর দখলে থাকা সরকারি সম্পত্তি নিজেরা দখল করতে অত্যাচার-জুলুম করেছে। পরে তার মেয়েকে লাঞ্ছিত করেছে। যারা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল তারা (জনপ্রতিনিধি) এসবের বিচার করেননি। তাই তাদের ফৌজদারি বিচারের আওতায় আইনের কাঠগড়ায় সোপর্দ করতে হবে। মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে আমরা আইনগত সহায়তা অব্যাহত  রেখেছি। আমরা তাদের পক্ষে লড়ে যাবো। হযরত আলী ও তার মেয়ের কবরের সামনে দোয়া করছেন কাজী রিয়াজুল হকসহ অন্যরা

তিনি আরও বলেন, ‘বিচারহীনতার জন্য তারা যে জীবন দিল এটা অত্যান্ত লজ্জাকর। আইনের শাসনের প্রতি মানুষের  শ্রদ্ধাবোধ এখনও আসেনি। আইনের শাসন থেকে আমরা এখনও অনেক দূরে আছি। যার কারণে একটা মানুষকে বিচার না পেয়ে জীবন দিয়ে বিচারের জন্য একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হলো। আত্মহননকারী হযরত আলীর বাড়িটি মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান পরিদর্শনের সময় তার সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক শরীফ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাহেনুল ইসলাম, শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুস সবুর প্রমুখ।

প্রসঙ্গগত, ২৯ এপ্রিল শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশনের পশু হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় গোসিংগা ইউনিয়নের কর্ণপুর গ্রামের হযরত আলী ও তার মেয়ে আয়েশা আক্তার এক সাথে সঠিক বিচার না পেয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে  প্রাণ দেয় ।